Ajker Patrika

সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগরে ফের জলদস্যু আতঙ্ক, পাথরঘাটায় জেলেদের মানববন্ধন

পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি 
সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগরে ফের জলদস্যু আতঙ্ক, পাথরঘাটায় জেলেদের মানববন্ধন
আজ বেলা ১১টার দিকে পাথরঘাটা পৌর শহরের গোলচত্বরে মানববন্ধন করেন মৎস্যজীবী ও ট্রলারের শ্রমিকেরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

পাথরঘাটাসহ উপকূলীয় অঞ্চলে জলদস্যুদের তৎপরতা বাড়ায় নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগর এলাকায় জেলে বহরে হামলা, অপহরণ, গুলি ও লুটপাটের একাধিক ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে পাথরঘাটায় মানববন্ধন করেছেন মৎস্যজীবী ও ট্রলারের শ্রমিকেরা।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে পৌর শহরের গোলচত্বরে বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতি, বিএফডিসি মৎস্য আড়তদার সমিতি, পাইকার সমিতি এবং ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি দেন নেতারা।

জেলেদের অভিযোগ, সম্প্রতি ‘বড় জাহাঙ্গীর’ ও ‘ছোট জাহাঙ্গীর’ নামে পরিচিত দুটি জলদস্যু চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এসব চক্রের বিরুদ্ধে ট্রলার ডাকাতি, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

১৫ ফেব্রুয়ারি সুন্দরবনের কটকা এলাকা থেকে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের রুহিতা গ্রামের মাসুম মাঝিকে ট্রলারসহ অপহরণ করা হয়। পরে ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে তিনি মুক্তি পেলেও ট্রলারের তিন মাঝি মাহবুব (২৭), সোহেল (১৭) ও রাজু (২৬) এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে স্বজনেরা জানান।

এর আগে বুধবার জলদস্যুরা জেলে রাজু (৩১) ও কাঁকড়াশিকারি নিহার মণ্ডলকে (৪৫) এক লাখ টাকা মুক্তিপণ নিয়ে ছেড়ে দেয়। ফেরার পথে আরেকটি দস্যু দল তাঁদের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে ট্রলারটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তারা অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান।

মুক্ত হয়ে আসা নিহার মণ্ডল বলেন, তিনি প্রতি মাসে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দিয়ে কাঁকড়া শিকার করতেন। তারপরও তাঁকে অপহরণ করে চোখ বেঁধে জঙ্গলে নিয়ে পায়ে শিকল পরিয়ে রাখা হয়। এক লাখ টাকা মুক্তিপণ পেয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

অন্য জেলে রাজু জানান, কটকা এলাকায় জাল ফেলতে গেলে জলদস্যুরা তাঁদের ধরে কয়েক দিন আটকে রাখে। মুক্তির পর ফেরার পথে পুনরায় আটকানোর চেষ্টা হলে তাঁরা দ্রুত ট্রলার চালিয়ে পালিয়ে আসেন।

বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির নেতারা যৌথ বাহিনীর অভিযান জোরদার, নৌ টহল বৃদ্ধি এবং অপহৃত জেলেদের দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানান। তাঁরা বলেন, দস্যুদের কারণে জেলেরা সাগরে যেতে ভয় পাচ্ছেন, যা উপকূলীয় অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর।

পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান বলেন, ‘জেলেদের স্মারকলিপি পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত