পুলিশের নতুন পোশাক

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পুলিশ বাহিনীর পোশাক পরিবর্তন করা হয়। তখন এর বিরোধিতা করে কেউ মুখ না খুললেও এখন প্রকাশ্যে পুলিশ সদস্যরা জানাচ্ছেন যে ওই সিদ্ধান্তে তাঁদের মত ছিল না। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পোশাক পরিবর্তনে পুলিশ কর্মকর্তাদের যে মতামত চাওয়া হয়েছিল, তাতে কোনো জেলার পুলিশ সুপার ও ইউনিট-প্রধানেরা সায় দেননি। পুলিশের শীর্ষ ডিআইজি পর্যায়ের এক কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন।
পুলিশের ওই কর্মকর্তা বলেছেন, বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সাবেক বিশেষ সহকারী খোদা বকশ চৌধুরীর ইচ্ছেতেই তাড়াহুড়ো করে দরপত্র আহ্বান করা হয়। এমনকি ১৪১ কোটি টাকার ওই কার্যাদেশ দেওয়া হয় একটি বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানকে।
সম্প্রতি পোশাক পরিবর্তনের বিরোধিতা করে এবং আগের পোশাকে ফেরত যাওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়ে পুলিশ ক্যাডারদের সংগঠন বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন বিবৃতি দেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।
এদিকে পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, পুলিশ পুরোনো পোশাকে ফিরবে কি না, সে বিষয়ে সরকার এখনো কোনো নির্দেশনা দেয়নি। তাই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি থেকে এখনো নতুন পোশাকের কাপড় সরবরাহ নিচ্ছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে, পুলিশের পোশাক পরিবর্তন কোনো গবেষণা ছাড়াই হয়েছে। দ্রুত দরপত্র আহ্বান, বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া, দ্রুততম সময়ে কাপড় সরবরাহ, মানহীন কাপড়সহ বিভিন্ন অনিয়ম হয়েছে ধাপে ধাপে। এর নেপথ্যে ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সাবেক বিশেষ সহকারী খোদা বকশ চৌধুরী। পুলিশ সদর দপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সরকারের কেউ কেউ বিরোধিতা করলেও খোদা বকশের একক সিদ্ধান্তে পুলিশের পোশাক পালটে যায়। পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বারবার সময় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চাইলেও, খোদা বকশ চৌধুরী ক্রমাগত চাপে রাখেন। অনিচ্ছা সত্ত্বেও পুলিশ পরবর্তীকালে লৌহ রঙের পোশাক মেনে নেয়।
পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আজকের পত্রিকাকে বলেন, গত বছরের জানুয়ারিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পুলিশ, র্যাব ও আনসারের পোশাক নিয়ে সভা হয়। সেখানে ট্রায়াল হয়। পোশাকের সেই রং দেখে পুলিশের অনেকে ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া দেখান। এরপর পুলিশের তখনকার মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম নতুন পোশাকের বিষয়ে সব জেলার পুলিশ সুপার ও ইউনিট-প্রধানদের লিখিত মতামত চেয়ে চিঠি দেন। প্রত্যেকটি জেলার সুপার ও ইউনিট-প্রধানেরা পোশাক পরিবর্তনের বিষয়ে তাঁদের অনিচ্ছার কথা জানান। বিষয়টি আইজিপি তখনই সরকারকে জানান।
এরপরও সর্বশেষ গত জুলাইয়ে একটি ক্রাইম কনফারেন্সে সকল ইউনিট-প্রধান ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে একটি জুম মিটিং করেন তখনকার আইজিপি বাহারুল আলম। সেখানেও পুলিশের পোশাকের বিষয়ে কর্মকর্তাদের মতামত চাওয়া হয়। ওই মিটিংয়েও কর্মকর্তারা নতুন পোশাকের বিষয়ে আপত্তি জানান। পুলিশ কর্মকর্তাদের আপত্তির পরও র্যাব, আনসার ও পুলিশের নতুন পোশাক চূড়ান্ত করে সরকার।
পুলিশ সদর দপ্তরের সূত্রটি জানায়, তাড়াহুড়ো করে ১৪১ কোটি টাকার কাপড় কেনার দরপত্র করা হয়। কাজ পায় বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান নোমান গ্রুপ। এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) ১৮ কোটি ৯৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ঘোষিত আয়ের বাইরে সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগে মামলা রয়েছে। গত বছর দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজ সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১-এ মামলাটি করেন। এর আগে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মো. নুরুল ইসলামের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।
সরকারি ক্রয় নীতিমালা অনুযায়ী, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট, ২০০৬ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস, ২০০৮—দুর্নীতিতে অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তি ও ব্যক্তির প্রতিষ্ঠান সরকারি কোনো কেনাকাটায় অংশ নিতে পারবে না বলে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু নোমান গ্রুপের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকার পরও তাঁর প্রতিষ্ঠান কাপড় ক্রয়ের কাজ পায়; যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।
বিতর্কিত এমন একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের তদন্তাধীন ব্যক্তির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানকে পুলিশের কেনাকাটায় যুক্ত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, পুলিশের মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের এমন ক্রয়াদেশ দেওয়া শুধু ক্রয়নীতির লঙ্ঘন নয়, বরং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও যোগসাজশমূলক দুর্নীতি-সহায়ক ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে। বর্তমান সরকারের উচিত, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা এবং কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
তবে অভিযোগের বিষয়ে খোদা বকশ চৌধুরী দাবি করেন, তিনি যোগদানের আগেই পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের বিষয়টি আলোচনা হয়, সবকিছু নির্ধারণ হয়ে যায়। তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না।
এদিকে ইতিমধ্যে নোমান গ্রুপ থেকে মেট্রোপলিটন ও বিশেষায়িত পুলিশ সদস্যদের জন্য অন্তত ১৫ লাখ মিটার কাপড় নেওয়া হয়েছে। আরও ধাপে ধাপে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (লজিস্টিকস) সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বলেন, সব কাপড় এক সঙ্গে দেবে না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। একসঙ্গে তারা এত কাপড় দিতে পারবে না। তাই ধাপে ধাপে কাপড় নিচ্ছি।
পুলিশের পক্ষ থেকে আপত্তির পরও কাপড় সরবরাহ নেবেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা এখনো সরকারের কোনো নির্দেশনা পাননি। তাই নিতে থাকবেন।
এ বিষয়ে নোমান গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘পোশাকের মানের কোনো সমস্যা নেই। পুলিশ যেভাবে বলছে, সেভাবেই পোশাক দেওয়া হয়েছে। আমি শুনতে পেয়েছি পুরোনো পোশাকে আবার পুলিশ ফিরে যাবে। আমি ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ পেয়েছি। আমাকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। আমি ব্যাংক থেকে ১০০ কোটি টাকার ঋণ নিয়ে তারপর তাদের কাপড় সরবরাহ করেছি, এখনো করছি, ধাপে ধাপে সব দেওয়া হবে। এখন আর কাপড় না নিয়ে পারবে না পুলিশ, কাপড় তাদের নিতেই হবে।’
দুর্নীতির মামলার বিষয় তিনি বলেন, ‘মামলা আমার বিরুদ্ধে হয়েছে; কিন্তু আমার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নেই। ফলে প্রতিষ্ঠান সরকারি কেনাকাটায় অংশ নিতে পারে।’

বিদায়ী আইজিপি বাহারুল আলম ও নবনিযুক্ত আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের হল অব প্রাইডে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
৬ ঘণ্টা আগে
সপ্তাহখানেক ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় দোকানপাট, রান্না ঘরে জমে থাকা গ্যাসের বিস্ফোরণে প্রাণহানি বেড়ে চলছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার ভোররাতে চট্টগ্রামের হালিশহর আবাসিক এলাকায় একটি বাসায়।
৭ ঘণ্টা আগে
পিলখানার ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, পিলখানার ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে ইতিহাসে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম...
৭ ঘণ্টা আগে
বরিশালের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাসে ভাঙচুর এবং বিচারকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনায় ৯ আইনজীবীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করা হয়েছে। আজ বুধবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে এই রুল জারি করেন
৮ ঘণ্টা আগে