Ajker Patrika

পি কে হালদারসহ ৪৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট, অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পেয়েছে দুদক

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২০: ১৪
পি কে হালদারসহ ৪৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট, অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পেয়েছে দুদক
প্রশান্ত কুমার হালদার। ফাইল ছবি

আলোচিত অর্থ পাচারকারী প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পি কে হালদারসহ ৪৮ জনের বিরুদ্ধে ৮৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুটি মামলায় চার্জশিট অনুমোদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাঁদের বিরুদ্ধে রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেড থেকে নামসর্বস্ব ও অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ নিয়ে ঋণের অর্থ আত্মসাতের মামলায় চার্জশিট অনুমোদন করা হয়েছে।

আজ বুধবার কমিশনের সভায় চার্জশিট দুটি অনুমোদন দেওয়া হয়। দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম এসব তথ্য জানিয়েছেন।

আকতারুল ইসলাম জানান, দুটি মামলার একটি নওশেরুল ইসলামের মালিকানাধীন নেচার এন্টারপ্রাইজের নামে ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে। এই মামলায় ৪৫ কোটি টাকা ঋণের আবেদন করা হলেও ৩৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পেয়েছে দুদক।

দুদকের করা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন ২১ জন। তদন্তে নতুন করে আরও সাতজনের সম্পৃক্ততা পাওয়ায় পি কে হালদারসহ মোট ২৮ জনকে আসামি করে চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

দুদকের তদন্ত প্রতিবেদনে নেচার এন্টারপ্রাইজকে নামসর্বস্ব ও কাগুজে প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের কোনো কার্যকর ব্যবসায়িক কার্যক্রম ছিল না বলে কমিশনের তদন্তে উঠে এসেছে। এ প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ অনুমোদন ও বিতরণে বিভিন্ন পর্যায়ে অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে।

নেচার এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নওশেরুল ইসলাম, পি কে হালদারের পাশাপাশি এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল হক গাজীসহ প্রতিষ্ঠানটির ৯ পরিচালক, সাতজন কর্মকর্তাসহ অভিযোগসংশ্লিষ্ট মোট ২৮ জনকে চার্জশিটে আসামি করা হয়েছে।

রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পি কে হালদার, নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান রহমান কেমিক্যাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান উজ্জ্বল কুমার নন্দীসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলায় চার্জশিট অনুমোদন করা হয়েছে। দুদকের তদন্তে তাঁদের বিরুদ্ধে রহমান কেমিক্যালের মতো নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে ৫৩ কোটি টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই মামলায় পি কে হালদারসহ ২০ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট অনুমোদন করেছে কমিশন।

দুদকের সূত্র জানায়, পি কে হালদারের বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকাকালে বিভিন্ন কাগুজে ও অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ নেওয়া এবং সেই অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে একাধিক মামলা হয়েছে। ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে এসব মামলা করা হয়। এর মধ্যে বেশির ভাগ মামলার তদন্ত শেষ করেছে কমিশন। পর্যায়ক্রমে এসব মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হচ্ছে।

দুদকের অভিযোগে বলা হচ্ছে, পি কে হালদার বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকাকালে ভুয়া ও নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান তৈরি করে অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচার করেছেন। এসব ঘটনায় কমিশন এখন পর্যন্ত ৬৭টির মতো মামলা করেছে। মামলাগুলোয় প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির তথ্য পাওয়া গেছে বলে দুদক জানিয়েছে।

২০২২ সালের ১১ মে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার হন পি কে হালদার। দেশে তাঁর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলার বিচার চলছে। এর আগে ২০২৩ সালে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় পি কে হালদারকে ২২ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে বড় অঙ্কের অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত