Ajker Patrika

১ কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি 
আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯: ৩১
১ কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে
পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম সম্রাট। ছবি: সংগৃহীত

বগুড়ার শেরপুর পৌর শহরের ফলপট্টি এলাকায় একটি ট্রাভেলস ও ট্রেডার্স প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও চাঁদা দাবির অভিযোগে যুবদল নেতাসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে শেরপুর থানায় মামলাটি করা হয়।

মামলায় পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম সম্রাটকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পৌরসভার ফলপট্টি এলাকার ‘মেসার্স সায়েম ট্রেডার্স’ ও ‘সায়েম ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস’-এর কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক আব্দুল্লাহ আল রাফাত শেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরে তা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সায়েম ট্রাভেলসের কার্যালয়ে গিয়ে কর্মচারীদের হুমকি দেন তরিকুল ইসলাম সম্রাট। পরে প্রতিষ্ঠানের মালিক আব্দুল মান্নানের কাছে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না দিলে প্রতিষ্ঠানের জায়গা দখল এবং শেরপুরে ব্যবসা করতে না দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুই দিন পর গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ৫০-৬০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রতিষ্ঠানে ঢোকে। তারা প্রতিষ্ঠানের মালিক ও তাঁর সন্তানদের খোঁজ করে এবং কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখায়। একপর্যায়ে প্রতিষ্ঠানের শাটার বন্ধ করে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এ সময় টেবিলে থাকা নগদ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক আব্দুল্লাহ আল রাফাত বলেন, তাঁর বাবা ব্যবসায়ী ও প্রবাসী। প্রতিষ্ঠানে চাঁদা দাবি ও হামলার ঘটনায় তাঁরা আতঙ্কিত। যুবদলের নাম ব্যবহার করে সরকারি অধিগ্রহণ করা জায়গা দখলের পর ভাড়া-বাণিজ্য করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। চাঁদা না দেওয়ায় তাঁর প্রতিষ্ঠানে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি তাঁর।

তবে যুবদল নেতা তরিকুল ইসলাম সম্রাট এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, শেরপুর বাসস্ট্যান্ডের ফলপট্টি এলাকায় মহাসড়কের পাশে তাঁদের পারিবারিক জায়গা রয়েছে। ওই জায়গার পেছনেই আব্দুল্লাহ আল রাফাতের প্রতিষ্ঠান। মূলত তাঁকে (সম্রাট) সেখান থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ কারণে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করে হয়রানি করা হচ্ছে। এ ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দিন বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে গতকাল দিবাগত রাতে তা নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত