Ajker Patrika

সীমান্তে পুশ ইন ও মানব পাচার চক্রের সক্রিয়তা: কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও নওগাঁয় বিজিবির কঠোর প্রতিরোধ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৬ জুন ২০২৬, ১৩: ০২
সীমান্তে পুশ ইন ও মানব পাচার চক্রের সক্রিয়তা: কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও নওগাঁয় বিজিবির কঠোর প্রতিরোধ
মেহেরপুরের গাংনীতে কঠোর অবস্থানে বিজিবি ও স্থানীয়রা। ছবি: আজকের পত্রিকা

কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও নওগাঁ সীমান্তজুড়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কথিত পুশ ইন চেষ্টা এবং সীমান্তকেন্দ্রিক মানব পাচার চক্রের তৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একাধিক স্থানে পুশ ইন চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বিজিবি ও স্থানীয়রা। এর ফলে কয়েকজনকে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে বিএসএফ। বিস্তারিত প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে:

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত এলাকায় মানব পাচার চক্র অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করছে। জনপ্রতি ৩০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়ে এসব চক্র বাংলাদেশে প্রবেশের প্রস্তাব দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বিজিবির কঠোর নজরদারি সত্ত্বেও তারা বিভিন্ন কৌশলে সীমান্ত ব্যবহার করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতাধীন কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর সীমান্তে প্রতিদিনই একাধিকবার পুশ ইনের চেষ্টা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের সতর্ক অবস্থানের কারণে এসব চেষ্টা বারবার ব্যর্থ হচ্ছে।

কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির দায়িত্বপূর্ণ দৌলতপুর সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারা নজরদারি করছেন। আজ সকালে তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা
কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির দায়িত্বপূর্ণ দৌলতপুর সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারা নজরদারি করছেন। আজ সকালে তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা

সর্বশেষ শনিবার ভোররাতে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া সীমান্ত দিয়ে ছয়জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হলে বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসীর তৎপরতায় তা প্রতিহত হয়। পরে ওই ছয় ব্যক্তি ভারতীয় সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

৪৭ বিজিবির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার মধ্যে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তের প্রায় ৪৬ কিলোমিটার এবং মেহেরপুরের গাংনী সীমান্তের প্রায় ৩৬ কিলোমিটার এলাকায় সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে বিভিন্ন বিওপিতে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করা হয়েছে, পাশাপাশি স্থানীয়রাও নজরদারি ও টহল কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন।

৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, সীমান্তে পুশ ইন ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে এবং কোনো অবৈধ অনুপ্রবেশ বরদাশত করা হবে না। মানব পাচার চক্রের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, বিজিবির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ সীমান্ত নিরাপত্তা ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

এদিকে সীমান্তঘেঁষা ভারতের বিভিন্ন এলাকায় থাকা হোল্ডিং সেন্টারগুলোতে বিভিন্ন স্থান থেকে আটক বা জড়ো করা ব্যক্তিদের রাখা হচ্ছে এবং পরে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নওগাঁর সাপাহার সীমান্তে ১৭ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা ব্যর্থ

অন্যদিকে নওগাঁর সাপাহার সীমান্তেও নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১৭ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) শেষ পর্যন্ত তাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেয়।

শনিবার (৬ জুন) বিষয়টি নওগাঁ ব্যাটালিয়ন ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম নিশ্চিত করেন।

এর আগে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে হাঁপানিয়া সীমান্তের ২৩৮/এমপি পিলার এলাকায় ১৭ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়। প্রায় ১৯ ঘণ্টা তারা শূন্যরেখা ও ভারতীয় অংশে অবস্থান করলেও বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি।

ঘটনাস্থলে বিজিবি কঠোর অবস্থান নেয় এবং পরবর্তীকালে পতাকা বৈঠক হলে বিএসএফ কোনো বৈধ প্রমাণ উপস্থাপন করতে না পারায় তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

১৭ জনের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, ছয়জন নারী এবং পাঁচটি শিশু ছিল বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, রাতের শেষ পর্যায়ে বিএসএফ তাদের ভারতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

নওগাঁ ব্যাটালিয়ন ১৬ বিজিবির অধিনায়ক জানান, মানবিক দিক বিবেচনায় প্রথমে তাদের শূন্যরেখায় রাখা হলেও পরে তারা ভারতে ফিরে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত