Ajker Patrika

৫০৬ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল, ডিজিএমসহ ৪ কর্মচারীকে শোকজ

মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি 
আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬: ০২
৫০৬ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল, ডিজিএমসহ ৪ কর্মচারীকে শোকজ
মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। ছবি: আজকের পত্রিকা

মাগুরায় মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে এক গ্রাহকের নামে ইস্যু করা ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকার ‘ভুতুড়ে’ বিদ্যুৎ বিল অবশেষে সংশোধন করা হয়েছে। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। দ্রুত বিল সংশোধন করে ১ হাজার ৯৬৩ টাকার নতুন বিল গ্রাহকের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়। গতকাল মঙ্গলবার সেই বিল পরিশোধ করে স্বস্তি পেয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।

ঘটনাটি মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের। ওই গ্রামের বাসিন্দা ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী মোছা. আলেয়া খাতুনের নামে সেপ্টেম্বর ২০২৬ মাসের এই বিল ইস্যু করেছিল মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিস।

বিলের বিস্তারিত তথ্য থেকে জানা যায়, গত ৮ আগস্ট থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রাহকের বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে মাত্র ২৩৫ ইউনিট। আবাসিক শ্রেণির (এলটি-এ) এই ব্যবহারের বিপরীতে প্রকৃত বিল হওয়ার কথা ছিল ১ হাজার ৯৬৩ টাকা। বিলম্ব মাশুলসহ এর পরিমাণ দাঁড়ানোর কথা ছিল ২ হাজার ৫৬ টাকা।

কিন্তু বিল প্রস্তুতের সময় ডিমান্ড চার্জের ঘরে ভুলবশত ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা বসিয়ে দেওয়া হয়। এর সঙ্গে ২৪ কোটি ১৩ লাখ টাকার ভ্যাট যুক্ত হয়ে মোট বিল দাঁড়ায় ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা। এমনকি নির্ধারিত সময়ে বিল পরিশোধ না করলে বিলম্ব মাশুলসহ ৫৩০ কোটি ৯৬ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে বলেও বিলে উল্লেখ করা হয়।

অস্বাভাবিক এই বিল দেখে হতবাক হয়ে পড়েন আলেয়া খাতুন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। আলেয়া খাতুন বিলটিকে ‘আজগুবি’ আখ্যা দিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের চরম খামখেয়ালিপনা ও দায়িত্বহীনতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এ ঘটনায় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিলটি সংশোধন করে। পরে সংশোধিত বিল গ্রাহকের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। গতকাল মঙ্গলবার সকালে আলেয়া খাতুন সংশোধিত বিল পরিশোধ করেন।

ভুক্তভোগী গ্রাহক মোছা. আলেয়া খাতুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এটা শুধু ভুতুড়ে বা ভৌতিক বিল নয়, একেবারে আজগুবি। বিদ্যুৎ বিভাগের এমন চরম খামখেয়ালিপনা ও দায়িত্বহীনতায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে।’

গণমাধ্যমকে ধন্যবাদ জানিয়ে আলেয়া খাতুন বলেন, সাংবাদিকদের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের কারণে বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন দ্রুত বিলের কাগজ ঠিক করে দিয়েছেন। এরই মধ্যে সংশোধিত বিল পরিশোধ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. রেজাউল করিম জানান, গ্রাহকের মিটার পরিবর্তনের সময় সিল নম্বরের ডিজিটগুলো ভুলবশত ডিমান্ড চার্জের ঘরে বসে যাওয়ায় এ অনাকাঙ্ক্ষিত বিভ্রাট ঘটে।

মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. মহিতুল ইসলাম জানান, এটি একটি দায়িত্বহীন টাইপিং ভুল। ইতিমধ্যে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডিজিএম, বিলিং সুপারভাইজার, বিলিং সহকারী এবং মিটার রিডার কাম মেসেঞ্জারকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত