Ajker Patrika

চাঁদপুরে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৩৭০

চাঁদপুর প্রতিনিধি
আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯: ০৪
চাঁদপুরে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৩৭০
চাঁদপুরের মতলব উত্তর থানা প্রাঙ্গণে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান শেষে অভিভাবকদের সচেতন করতে বক্তব্য দেন মতলব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) জাবীর হুসনাইন সানীব। ছবি: সংগৃহীত

কিশোর অপরাধ ও কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার ঠেকাতে চাঁদপুরের আট উপজেলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৩৭০ জনকে আটক করেছে জেলা পুলিশ। গতকাল রোববার সন্ধ্যার পর থেকে রাত পর্যন্ত এ অভিযান চালানো হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের মাদক ও অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজির নির্দেশনা এবং চাঁদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মিজানুর রহমানের দিকনির্দেশনায় জেলার সব থানা ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সদস্যদের সমন্বয়ে এ অভিযান চালানো হয়।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কিশোর গ্যাং, উঠতি বয়সী কিশোরদের অপরাধপ্রবণতা ও জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিতকারী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও অপরাধপ্রবণ এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আটক করে তাঁদের বিষয়ে তথ্য যাচাই-বাছাই করা হয়।

রাত সোয়া ১১টার দিকে অভিযানের বিষয়ে গণমাধ্যমকে তথ্য নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নাদিয়া নূর।

পুলিশ সুপার জানান, জেলার বিভিন্ন থানা ও ডিবি পুলিশের অভিযানে মোট ৩৭০ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কারও বিরুদ্ধে অপরাধে সম্পৃক্ততার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নাদিয়া নূর বলেন, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের মাদক ও অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। যাচাই-বাছাই শেষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

চাঁদপুরের হাইমচরে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান শেষে অভিভাবকদের সচেতন করতে বক্তব্য দেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম। ছবি: সংগৃহীত
চাঁদপুরের হাইমচরে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান শেষে অভিভাবকদের সচেতন করতে বক্তব্য দেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম। ছবি: সংগৃহীত

তবে আটক সবাই যে অপরাধের সঙ্গে জড়িত, এমনটি নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। যাঁদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তাঁদের অভিভাবকদের ডেকে সন্তানদের বিষয়ে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরে অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

পুলিশের কর্মকর্তারা বলেন, উঠতি বয়সী কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার পেছনে পারিবারিক নজরদারির ঘাটতি, অপরাধপ্রবণ পরিবেশ ও বিভিন্ন ধরনের অনলাইন কার্যক্রমসহ নানা বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে। কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি পরিবারকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, উঠতি বয়সী কিশোরদের সঠিকভাবে পরিচালনা, কিশোর অপরাধ প্রতিরোধ ও কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার রোধে অভিভাবকদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত