Ajker Patrika

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আরও ২৫৪ জন আটক

 কুমিল্লা প্রতিনিধি 
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আরও ২৫৪ জন আটক
কুমিল্লা নগরীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ। গতকাল রাতে তোলা। ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লার ১৮টি থানায় একযোগে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আরও ২৫৪ জনকে আটক করেছে জেলা পুলিশ। গতকাল শনিবার রাত ৮টা থেকে আজ রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভোর রাত পর্যন্ত নগরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। এর আগে গত বুধবার একই ধরনের অভিযানে ৬২৪ জনকে আটক করা হয়েছিল।

কুমিল্লা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান জানান, কিশোর গ্যাংবিরোধী নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে জেলার ১৮টি থানায় একযোগে অভিযান চালানো হয়েছে। নগর ও উপজেলা পর্যায়ে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা এবং উঠতি বয়সী বখাটেদের আড্ডার স্থান চিহ্নিত করে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। তিনি বলেন, অভিযানে ২৫৪ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে অভিযোগের ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে গতকার শনিবার রাতে কুমিল্লা নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩৭ জনকে আটক করেছে কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ। পুলিশের দাবি, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তাঁরা সবাই রতন গ্রুপের সক্রিয় সদস্য।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন আনিসুর রহমান ওরফে আনিক (১৯)। তিনি নগরের ছোটরা মফিজাবাদ কলোনির আবুল কাশের ছেলে। আনিক রতন গ্রুপের প্রধান ইমরান হোসেন ওরফে রতনের ভাগনে। রতন আত্মগোপনে থাকায় আনিক বর্তমানে গ্রুপটির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন।

পুলিশ জানায়, ২০২২ সালে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের হাতে সংঘটিত একটি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন আনিক। ওই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে জামিনে বের হয়ে তিনি আবারও গ্যাংয়ের কার্যক্রমে যুক্ত হন।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, নগরের বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের আড্ডা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে—এমন স্থানগুলোতে অভিযান চালানো হয়েছে। এতে ৩৭ জনকে আটক করা হয়।

ওসি তৌহিদুল আনোয়ার আরও বলেন, অভিযানে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ছিনতাই, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের নাম-পরিচয় ও অতীতের অপরাধের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে গত বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কুমিল্লার ১৮টি থানায় একযোগে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চালায় জেলা পুলিশ। ওই অভিযানে ৬২৪ জনকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের মধ্যে ৪৫১ জনকে মুচলেকায় অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। অন্য ১৭৩ জনের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, নিয়মিত মামলা, ভ্রাম্যমাণ আদালত, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ বিভিন্ন অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

জেলায় ধারাবাহিক এই অভিযান শুরু হয়েছে ১৩ বছর বয়সী সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হওয়ার মধ্যে।

১৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকার বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। পরদিন সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের মধ্যে দুজন অপ্রাপ্তবয়স্ক।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত