Ajker Patrika

চকরিয়ায় বন্যাকবলিত মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে পানিবাহিত নানা রোগে

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি 
চকরিয়ায় বন্যাকবলিত মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে পানিবাহিত নানা রোগে
বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে চকরিয়ার একটি এলাকা। ফাইল ছবি

অতি ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় গৃহিণী সালমা খাতুনের (৩৩) বাড়ি ডুবে গিয়েছিল। পানি নামতে শুরু হলে গত দুদিন পর তাঁর টিনশেড ঘর পরিষ্কার করতে গিয়ে হাতে-পায়ে চুলকানি দেখা দিয়েছে। তাঁর বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের গোবিন্দুপর গ্রামে।

সালমা খাতুনের বাড়ির অদূরে আনোয়ারা বেগমের বসতঘরও বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হয়েছে তাঁকে। এতে তাঁর পায়ে চর্মরোগ হয়েছে। হাতের কনুইয়েরও একই অবস্থা।

শুধু সালমা আর আনোয়ারা নন, চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় বন্যাকবলিত মানুষ পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। অনেকে চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে গেছে। আবার অনেকে ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনছে।

সালমা খাতুন ও আনোয়ারা বেগম বলেন, বসতঘরের উঠান ও ঘরের মেঝেতে তিন ফুট পলিমাটি জমেছে। এসব পলি পরিষ্কার ছাড়া ঘরে ঢোকা যাচ্ছে না। নোংরা ও ময়লাযুক্ত পানিতে কাজ করতে গিয়ে চুলকানি দেখা দিয়েছে। হাসপাতালের একটা টিম পাশের একটি কমিউনিটি ক্লিনিকে এসেছিল, সেখানে গিয়ে মলম ও ওষুধ নিয়েছেন তাঁরা।

পাশের বিবিরখিল গ্রামের জুলেখা বেগম জানান, তাঁর দুই ছেলে বন্যার পানিতে সাঁতার কেটেছে। এখান থেকে ওখানে গেছে। এ কারণে দুজনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে লালচে চুলকানি দেখা গেছে। কোনো সরকারি সংস্থা চিকিৎসা দিতে এখানে আসেনি। তাই বাধ্য হয়ে ফার্মেসি থেকে চুলকানির ওষুধ এনে তাদের খাওয়ানো হয়েছে।

জানা গেছে, অতিবৃষ্টি ও উজানের পানিতে দুই উপজেলার অন্তত দুই লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়ে। চার দিন ধরে বন্ধ রয়েছে সড়ক যোগাযোগ। গতকাল শনিবার পানি নামতে শুরু করে, তবে আজ রোববার সকাল থেকে টানা বৃষ্টি হওয়ায় আবারও পানি বেড়েছে। এতে মানুষ পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বন্যার পানিতে অধিকাংশ নলকূপ ডুবে গেছে। এতে সংকটে পড়ে বন্যার পানি ব্যবহার করেছে অনেকে। ফলে কারও জ্বর-সর্দি, আবার কারও কারও গায়ে গুটিবসন্তের মতো দেখা দিয়েছে।

কৈয়ারবিল ছোয়ালিয়াপাড়ার আজগর আলী বলেন, বন্যার পানিতে তিন দিন বসতঘর ডুবে ছিল। এখনো উঠানে পানি জমে আছে। তিন সন্তান ও স্ত্রী জ্বর-সর্দিতে ভুগছে। এমনকি চুলকানি দেখা দিয়েছে। নলকূপে বন্যার পানি ঢুকেছিল, এখন ওই নলকূপের পানি চেপে খেতে হচ্ছে।

কাকারা ইউনিয়নের পুলেরছড়ার বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘বাড়িতে বন্যার পানি প্রবেশ করলে কাছের এক আত্মীয়ের বাড়ি চলে যাই। সেখান থেকে ফিরে আসার পর গবাদিপশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছি। একটি গরু বন্যার পানি খেয়ে ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হয়েছে।’

চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা চিকিৎসক মিসকাত উদ্দীন আহমদ বলেন, বন্যার পানি নেমে গেলে পানিবাহিত রোগ বাড়বে। চুলকানি ও চর্মরোগও দেখা দেবে। এখন বন্যার পানির কারণে লোকজন হাসপাতালে আসতে পারছে না। বন্যার পানি নেমে গেলে রোগীর চাপ বাড়বে। তবে হাসপাতালে কিছু ডায়রিয়া রোগী ভর্তি আছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত