Ajker Patrika

শিশু ডুবে মৃত্যু রোধে ‘চাইল্ড সেফটি ডিভাইস’ উদ্ভাবন ভোলার শিক্ষার্থী তাহাসিনের

শিমুল চৌধুরী, ভোলা 
ভোলার সিভিল সার্জন ও ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ডিভাইস সম্পর্কে ধারণা দিচ্ছে খুদে বিজ্ঞানী তাহাসিন। ছবি: আজকের পত্রিকা
ভোলার সিভিল সার্জন ও ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ডিভাইস সম্পর্কে ধারণা দিচ্ছে খুদে বিজ্ঞানী তাহাসিন। ছবি: আজকের পত্রিকা

উপকূলীয় দ্বীপ জেলা ভোলায় পুকুরে ডুবে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় সেই ঝুঁকি কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে এক শিক্ষার্থী। মো. তাহাসিন নামের ওই শিক্ষার্থী উদ্ভাবন করেছে ‘চাইল্ড সেফটি ডিভাইস’ নামের একটি বিশেষ যন্ত্র, যা পানিতে ডুবে গেলেই শিশুর অভিভাবকের মোবাইল ফোনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংকেত পাঠাবে। একই সঙ্গে শিশুটির অবস্থানও জানা যাবে।

প্রায় ৫০ গ্রাম ওজনের ডিভাইসটির কার্যকারিতা গত মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে ভোলা পৌরসভার একটি পুকুরে পরীক্ষামূলক প্রদর্শনীর মাধ্যমে দেখানো হয়। এ সময় ভোলার সিভিল সার্জন মো. মনিরুল ইসলাম ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

তাহাসিন জানায়, কোনো শিশু ডিভাইসটি ব্যবহার করে পানিতে ডুবে গেলে সঙ্গে সঙ্গে অভিভাবকের মোবাইলে রিং বেজে উঠবে। এতে দ্রুত উদ্ধার সম্ভব হবে এবং শিশুমৃত্যুর হার কমে আসবে।

শুধু ‘চাইল্ড সেফটি ডিভাইস’ নয়, এ পর্যন্ত অন্তত ১৮টি যন্ত্র উদ্ভাবন করেছে তাহাসিন। এর মধ্যে রয়েছে ‘লাইফ সেফটি ডিভাইস’, যা ব্যবহারকারীর ওপর হামলার চেষ্টা হলে হামলাকারীকে ২৫০ থেকে ৩৫০ ভোল্টের বৈদ্যুতিক শক দেবে। এ ছাড়া ‘ফারমার সেফটি মেশিন’, ‘ফারমার হেলপার মেশিন’, ‘ফারমার অ্যাসিস্ট্যান্ট মেশিন’, স্মার্ট থিফ ট্যাপ সিকিউরিটি, স্মার্ট হর্ন, স্মার্ট ডাস্টবিন, স্মার্ট ওয়াটার ট্যাপ, ডোজ অ্যালার্ম গ্লাস, স্মার্ট বৈদ্যুতিক টেস্টার, অটোমেটিক কার্টেন ওপেনার ও স্মার্ট শিপ স্ট্যাবিলাইজারসহ নানা যন্ত্র উদ্ভাবন করেছে সে।

তাহাসিন ভোলা জেলার দুর্গম মনপুরা উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের সোনারচর গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা আব্দুল হালিম স্থানীয় একটি মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক। তাহাসিন বর্তমানে ঢাকার মটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের প্রথম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী।

তাহাসিন জানায়, ছোটবেলা থেকে নতুন কিছু করার স্বপ্ন ছিল তার। লেখাপড়ার ফাঁকে উদ্ভাবনী কাজে সময় দেয় সে। তবে আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে অনেক আবিষ্কার বাস্তবে রূপ দিতে পারছে না। মা-বাবার দেওয়া খরচের টাকা থেকে সঞ্চয় করে এখন পর্যন্ত ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ে এসব যন্ত্র তৈরি করেছে সে।

ডিভাইস পরীক্ষা করার জন্য পুকুরপাড়ে খুদে বিজ্ঞানী তাহাসিন। ছবি: আজকের পত্রিকা
ডিভাইস পরীক্ষা করার জন্য পুকুরপাড়ে খুদে বিজ্ঞানী তাহাসিন। ছবি: আজকের পত্রিকা

ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ‘তাহাসিনের উদ্ভাবন অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এই ডিভাইসের মাধ্যমে যদি একটি শিশুর প্রাণও রক্ষা পায়, তাহলে তার প্রচেষ্টা সার্থক। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে স্বল্প খরচে বাণিজ্যিকভাবে এটি তৈরি করা গেলে সারা দেশে উপকার পাওয়া যাবে।’ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

ভোলার সিভিল সার্জন মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ভোলায় প্রায় প্রতিদিনই পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর ঘটনা ঘটে, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এই ধরনের উদ্ভাবন শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত