
জামালপুরের ইসলামপুরে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ব্রহ্মপুত্র, যমুনাসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে শুরু হয়েছে তীব্র ভাঙন। ফসলি জমি, বসতভিটা, রাস্তাঘাট ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। নদীপাড়ের মানুষ চরম আতঙ্ক ও দুশ্চিন্তায় দিন পার করছে।
আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে ব্রহ্মপুত্র নদের তীব্র ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা পেতে উপজেলার পলবান্ধা ইউনিয়নের পূর্ব বাহাদুরপুর এলাকায় বিশেষ মোনাজাত ও মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। একই দিন দক্ষিণ সিরাজাবাদ নতুনপাড়া এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধন করেছেন। এ ছাড়া গত রোববার দুপুরে দশআনী নদীর ভাঙন প্রতিরোধ ব্যবস্থার দাবিতে গোয়ালেরচর ইউনিয়নের বোলাকীপাড়া এলাকায় মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এলাকাবাসীর দাবি, ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগসহ স্থায়ী তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবু যেন অতিদ্রুত ব্যবস্থা নেন। তা না হলে বসতভিটা নদীতে হারিয়ে তাঁরা ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়বেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পূর্ব বাহাদুরপুর ও নতুনপাড়া এলাকায় অনেক বসতভিটা ইতিমধ্যে ব্রহ্মপুত্র নদে বিলীন হয়েছে। অনেকে ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। চরপুটিমারী ও চরগোয়ালিনী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়ছেন। অপর দিকে, বোলাকীপাড়া ও চন্দনপুর গ্রামে দশআনী নদীর তীব্র ভাঙনে ইতিমধ্যে কয়েক শ একর ফসলি জমি নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে বাড়িঘর, বোলাকীপাড়া বাজার, নির্মাণাধীন পাকা সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা। এ ছাড়া সাপধরী ও বেলগাছা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় যমুনা নদীর তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে।
বোলাকীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মসুর শাহিন মিয়া, ওয়ারেজ মিয়া ও সরুজ আলী জানান, নদীভাঙনে আবাদি জমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। মাথা গোঁজার ঠাঁই বসতভিটা ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। এবার বর্ষার শুরুতেই নদীর ভয়ংকর রূপ দেখে তাঁরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
পূর্ব বাহাদুরপুর গ্রামের শতবর্ষী হুজুর আলী মুন্সী বলেন, ‘আমার জীবনে কম কইরা হইলেও দশবার বসতভিটা নদী খাইছে। জমিজমাও নদীতে গেছে। গত বন্যায় এক ছেলের বসতবাড়ি নদীতে ভেঙে গেছে। এবার ১৫ দিনের মইধ্যে তিন ছেলের বসতভিটা নদীতে ভাইঙা পড়ছে। এখন কী করমু, ভাইব্যা পাইতাছি না। চিন্তায় ঘুম আসে নাহ।’
একই গ্রামের কৃষক ফুলচান শেখ বলেন, ‘আমার বাড়ি এ পর্যন্ত আটবার নদীতে ভাঙছে। এখন নদী বাড়িঘেঁষে বইতাছে। ভাঙনরোধে ব্যবস্থা না নিলে এবারও বসতভিটা নদীতে যাইব।’
কৃষক সিদ্দিক আলী বলেন, ‘আমার ৯ বার বাড়ি নদীতে ভাইঙা গেছে। এবারও বাড়ি ভাঙনের ভয় হইতাছে।’
জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাওবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নকিবুজ্জামান খান বলেন, ‘ভাঙনরোধে ইতিমধ্যে কয়েক জায়গায় জিও ব্যাগ ডাম্পিং কাজ শুরু করা হয়েছে। নদীভাঙনের বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রাখছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর ভাঙনের তথ্য পাঠানো হচ্ছে।’
বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা ও উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি রেহান আলী বলেন, ‘ভাঙনরোধের বিষয়ে সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। ভাঙনরোধে যাবতীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে মর্মে তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।’
জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসনের সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবু বলেন, ‘আমাদের উপজেলাটি নদ-নদীভাঙনকবলিত এলাকা। ভাঙন প্রতিরোধে চেষ্টা করে যাচ্ছি। ভাঙনের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করা হয়েছে। আশা রাখি, দ্রুত সময়ের মধ্যে নদীভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় পাহাড় ধস ও গাছ উপড়ে পড়ার ঘটনার চার ঘণ্টা পর চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে সড়কে সব ধরনের যান চলাচল শুরু হয়।
১ মিনিট আগে
টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানির উচ্চতা বৃদ্ধিতে ঝালকাঠির বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে কৃষিজমি, আমনের বীজতলা ও গ্রামীণ সড়ক। ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা ও স্বাভাবিক চলাচল। বিষখালী নদীর চর ভাটারকান্দা এলাকায় নতুন করে নদীভাঙনের শঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
৩ মিনিট আগে
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় দপ্তরের নবাগত পরিচালক এস এম মনিরুজ্জামান সোমবার যোগদান করে মঙ্গলবার সকালে ঢাকায় যান। কিন্তু আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে তাঁর যোগদানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন বিএনপি পরিচয়ধারী একদল চিকিৎসক ও শিক্ষার্থী। নগরের ব্রাউন কম্পাউন্ড বিভাগীয় পরিচালকের কার্যালয়ের সামনে
৩৮ মিনিট আগে
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলায় অটোরিকশায় ট্রাকের ধাক্কায় নারীসহ দুজন নিহত হয়েছেন। আহত হন আরও পাঁচজন। আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বেলা আড়াইটার দিকে উপজেলার বনখুর এলাকায় জয়পুরহাট-পাঁচবিবি সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
১ ঘণ্টা আগে