Ajker Patrika

নাগরপুরে তীব্র নদীভাঙনে বিলীন অর্ধশত বসতবাড়ি, স্থাপনা ও ফসলি জমি

মাসুদ রানা, নাগরপুর (টাঙ্গাইল)
আপডেট : ৩০ জুন ২০২৬, ১৭: ১৬
নাগরপুরে তীব্র নদীভাঙনে বিলীন অর্ধশত বসতবাড়ি, স্থাপনা ও ফসলি জমি
যমুনার ভাঙনে ঘরবাড়ি ও জমিজমা হারিয়ে দিশেহারা নদীর তীরবর্তী বাসিন্দারা। ছবি: আজকের পত্রিকা

যমুনার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র নদীভাঙন শুরু হয়েছে টাঙ্গাইলের নাগরপুরে। সলিমাবাদ ইউনিয়নের সলিমাবাদ পশ্চিমপাড়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় এক ঘণ্টার ব্যবধানে প্রায় অর্ধশত বাড়িঘর, কুয়েতি মসজিদ, ফসলি জমি ও বহু গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে পাকা রাস্তা, স্কুল, মাদ্রাসা ও হাটবাজার।

আজ মঙ্গলবার সরেজমিনে ভাঙনকবলিত এলাকায় দেখা যায়, যমুনার প্রবল স্রোতে মুহূর্তেই ধসে পড়ছে নদীতীর। ঘরবাড়ি ও শেষ সম্বল রক্ষায় নদীর তীরবর্তী বাসিন্দারা আসবাবপত্রসহ ঘরবাড়ি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।

বাস্তুভিটা হারিয়ে অনেক পরিবার নিকটাত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। অনেকেই খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে নদীপাড়ের সহস্রাধিক পরিবার।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, গত কয়েক দিনের টানা ভাঙনে সলিমাবাদ পশ্চিমপাড়ার বিস্তীর্ণ এলাকার ঘরবাড়ি, ভিটেমাটি ও শত শত বিঘা ফসলি জমি ইতিমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। কুয়েতের অর্থায়নে নির্মিত ২২ বছরের পুরোনো মসজিদটিও যমুনায় তলিয়ে গেছে।

ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে এই এলাকায় ভাঙন দেখা দিলেও ভাঙনরোধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। ফলে বারবার তাঁদের ঘরবাড়ি সরাতে হয় এবং ভিটেমাটি হারিয়ে তাঁরা নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন।

যমুনার ভাঙনে ঘরবাড়ি ও জমিজমা হারিয়ে দিশেহারা নদীর তীরবর্তী বাসিন্দারা। ছবি: আজকের পত্রিকা
যমুনার ভাঙনে ঘরবাড়ি ও জমিজমা হারিয়ে দিশেহারা নদীর তীরবর্তী বাসিন্দারা। ছবি: আজকের পত্রিকা

নদীগর্ভে বসতভিটা হারানো আব্দুল হক (৫০) জানান, মাত্র ১৩ শতাংশ নিয়ে তাঁর বসতবাড়ি ছিল। গোটা বসতবাড়ি এখন নদীর পেটে। বসতবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন তাঁরা।

সুফিয়ান (৫২) নামের আরেক ব্যক্তি জানান, তাঁর একটি মাত্র ছাপরাঘর ছিল। গাছপালাসহ সেই বসতঘরটিও যমুনায় বিলীন হয়ে গেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত শাহ জামাল জানান, এক ঘণ্টার মধ্যে ১০ বিঘা জমিসহ বসতভিটা নদীতে তলিয়ে গেছে। কিছুই রক্ষা করতে পারেননি। একই অবস্থা ওই এলাকার কালাম, ছালাম, বাবুল, শাহালম, মতিন, শাহিনসহ আরও অনেকের।

সলিমাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মনির হোসেন ভূঁইয়া জানান, যমুনার তীরে প্রচণ্ড ভাঙন শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিবছর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীভাঙন শুরু হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৩৫টি পরিবার বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। এখনই জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী বেড়িবাঁধ না হলে পশ্চিম সলিমাবাদের বিস্তীর্ণ এলাকা মানচিত্র থেকে মুছে যাবে।

নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. এরফান উদ্দিন সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, ভাঙনরোধে পাঁচটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে কাজ করা হবে। এ ছাড়া ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা করা হচ্ছে। তালিকা শেষে তাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত