গাজীপুরের ভাওয়াল

গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে গড়ে তোলা হচ্ছে ভাগাড়। বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইন এবং বন বিভাগের বাধা উপেক্ষা করেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে গাজীপুর সিটি করপোরেশন (গাসিক)। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো প্রতিবাদ জানালেও ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের ভেতর এমন স্থাপনা গড়ে তোলা হচ্ছে। এতে ঝুঁকিতে পড়ছে পরিবেশ ও বন্য প্রাণীর আবাসস্থল।
ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান গড়ে তোলা হয় ১৯৮২ সালে। ১৯৭৪ সালের বাংলাদেশ বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুসারে এই উদ্যান গড়ে তোলা হয়। ২ হাজার একর বনাঞ্চলের ইকোপার্কসহ এর আয়তন ৫ হাজার ৬০ হেক্টর। উদ্যানে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের বন্য প্রাণী। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পর্যটকেরা যেমন প্রতিদিন এই উদ্যানে যান, তেমনি শিক্ষার্থীরাও যান গবেষণার জন্য। সেই উদ্যানের মধ্যে প্রায় দুই বিঘা জমিজুড়ে ভাগাড় তৈরির কাজ শুরু করেছে গাসিক। যদিও বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মধ্যে কিংবা বন্য প্রাণীর অভয়ারণ্যের দুই কিলোমিটার এলাকায় কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় মাঈদুল ইসলাম মামুন নামের এক ব্যক্তির কিছু জমি জাতীয় উদ্যানের সীমানাপ্রাচীরের ভেতর রয়েছে। সেই জায়গা ভাড়া নিয়েছে সিটি করপোরেশন। বন বিভাগ সূত্র জানায়, ১১ এপ্রিল মেসার্স বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রথমে শ্রমিকদের থাকার জন্য একটি শেড নির্মাণ করে। বিষয়টি জানার পরপরই পরদিন তা ভেঙে দেয় বন বিভাগ। এর পরদিন ১৩ এপ্রিল সিটি করপোরেশন দুই শতাধিক লোক নিয়ে এসে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে।
গাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল হাসান ভাগাড় নির্মাণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘ওই জমি ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের নয়। জমিটা সিটি করপোরেশন ভাড়া নিয়েছে। তবে জমির সঙ্গে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের জমি রয়েছে। যদিও আইনে রয়েছে, ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের সীমানা থেকে ২০০ মিটারের মধ্যে কোনো স্থাপনা করা যাবে না (আইন অনুসারে ২ কিলোমিটারের মধ্যে স্থাপনা নিষিদ্ধ)। বাধ্য হয়েই আমাদের কাজটি করতে হচ্ছে। যদিও বন বিভাগের বাধা রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রীর কথা হচ্ছে। আশা করছি, দ্রুত দুই মন্ত্রণালয় একটি ভালো সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে।’
গত সোমবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে নির্মাণ করা হয়েছে পাকা রাস্তা। এক্সকাভেটরের মাধ্যমে খননকাজ চালানো হচ্ছে। পাশের শাল ও গজারিগাছ কেটে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ চলছে। কয়েকজন কাজের তদারক করছেন।
এদিকে পরিবেশ মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে নির্মাণকাজ বন্ধের চিঠি দিয়েছে। বন বিভাগের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরা প্রতিদিনই কাজের অগ্রগতি প্রতিবেদন তৈরি এবং ভিডিও ধারণ করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিচ্ছেন।
ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের ডেপুটি রেঞ্জার ও রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘১১ এপ্রিল কাজ শুরুর পর থেকে বাধা দিয়ে আসছি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এরই মধ্যে বন বিভাগের একজন উপসচিব এবং স্থানীয় সরকারের একজন সচিব সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। বিষয়টি নিয়ে আন্তমন্ত্রণালয় আলোচনা চলছে।’ তিনি বলেন, বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী বন্য প্রাণীর অভয়ারণ্যের দুই কিলোমিটারের মধ্যে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু তারা তো কোনো বিধিনিষেধের তোয়াক্কা করছে না। আইনে আরও বলা হয়েছে, ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের ভেতর কোনো ব্যক্তির জমি থাকলেও সেখানে শুধু কৃষিকাজ, অর্থাৎ ফসল ফলানো যাবে। কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না।
ভাওয়াল গড় বাঁচাও আন্দোলনের মহাসচিব এ কে এম রিপন আনসারী বলেন, প্রকাশ্যে আইন অমান্য করছে একটি সরকারি সংস্থা। যারা সবকিছু বোঝে, আইন অমান্য করলে তাদের শাস্তি দ্বিগুণ হওয়া উচিত। ক্ষমতা খাটিয়ে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের সীমানাপ্রাচীর গুঁড়িয়ে দেওয়া কি সামান্য বিষয়? আমাদের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজনে মামলা করব। তবু ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান সুরক্ষিত রাখতে হবে।

বিদ্যুৎ, গ্যাস ও ডিজেলের তীব্র সংকটে দেশের প্রধান শিল্পাঞ্চল চট্টগ্রামের শিল্প খাত গভীর চাপের মুখে পড়েছে। ঘন ঘন লোডশেডিং, গ্যাসের নিম্নচাপ, জেনারেটরনির্ভর উৎপাদন এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির ফলে শিল্পকারখানাগুলোর উৎপাদন গড়ে ২৫ শতাংশ কমে গেছে বলে উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য মতে, একই সময়ে পরিচালন
৩৮ মিনিট আগে
কোনাপাড়া গ্রামের বালকি বিলে গিয়ে দেখা যায়, কষ্টের ফসল রক্ষায় কেউ কেউ হাঁটুসমান পানিতে নেমে, কেউ কেউ ডুবুরির মতো, আবার অনেকেই নৌকায় করে আধা পাকা ধান কাটার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ কোনো উপায় না পেয়ে হতাশ হয়ে তাকিয়ে আছেন ডুবে যাওয়া ফসলের দিকে।
১ ঘণ্টা আগে
ভুক্তভোগীদের দাবি, স্থানীয় স্বপন শরীফ. রমজান শরীফসহ কয়েক ব্যক্তি মিলে জনস্বার্থে ব্যবহৃত এই পথটি বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে ৩২টি পরিবারের প্রায় ৩০০ মানুষ কার্যত নিজ বাড়িতেই অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।
২ ঘণ্টা আগে
হরিণাবাড়ী গ্রামের কৃষক মিন্টু মিয়া বলেন, ‘এবার ধানের ফলন ভালো হওয়ার আশা ছিল। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে ধান নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। প্রায় ৪০ শতক জমির ধান পানিতে লুটিয়ে পড়েছে। আগে এক বিঘা জমির ধান কাটতে তিন-চার হাজার টাকা লাগত, এখন লাগছে সাত-আট হাজার টাকা। টাকা দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।
২ ঘণ্টা আগে