
সুষ্ঠু যান এবং পথচারী চলাচলের সুবিধার্থে রাজধানীতে ফুটপাত ও সড়কে অবৈধ দখল উচ্ছেদে গতকাল বুধবার অভিযান চালিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। রাজধানীর ফুটপাত এবং রাস্তার অনেকটা জুড়ে দোকান বসিয়ে নানাভাবে দখল করা হয়; যা যানজট সৃষ্টি ও দুর্ঘটনায় বড় ভূমিকা রাখে। কর্তৃপক্ষ মাঝে মাঝে অভিযান চালালেও এর সমাধান স্থায়ী হয় না।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এই সংকটের সঙ্গে বিভিন্ন পক্ষ জড়িত। তাই সমস্যার সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনও বলছে, সব পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে একটি টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এই প্রতিবেদক কয়েক দিন আগে রাজধানীর মিরপুর, উত্তরা, মোহাম্মদপুর, শেওড়াপাড়া, শ্যামলী, নিউমার্কেট, গুলিস্তান, মহাখালী, গুলশান, বাড্ডা, কারওয়ান বাজার, পান্থপথ, পল্টন, মতিঝিল, বিজয়নগরসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে সর্বত্র কমবেশি ফুটপাত দখলে থাকা দেখেছেন। চা-সিগারেটের দোকান, মোবাইল অ্যাকসেসরিজ, খাবার, পোশাক, খেলনাসহ বিভিন্ন পণ্যের দোকান বসেছে ফুটপাত ও সড়কের পাশে। এতে পথচারীরা প্রায়ই রাস্তায় নেমে হাঁটতে বাধ্য হচ্ছে।
মিরপুর এলাকার বাসিন্দা শাফায়েত আহমেদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, মিরপুর ১ থেকে ১৪ পর্যন্ত মূল সড়কের পাশে অধিকাংশ ফুটপাতেই অস্থায়ী দোকান গড়ে উঠেছে। তিনি বলেন, ‘ফুটপাতে হাঁটা যায় না, তাই বাধ্য হয়ে রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হয়। এতে আমাদের যেমন ঝুঁকি থাকে, তেমনি যানজটও হয়।’
মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা রাকিব মোহাম্মদ বলেন, ‘মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে বেড়িবাঁধ তিনরাস্তা পর্যন্ত পথে আমাকে প্রায়ই চলাচল করতে হয়। এ পথের ফুটপাত তো দখলেই, রাস্তাও দখল হয়ে গেছে। হেঁটেও যাওয়া যায় না, যানজটের জন্য গাড়িতেও উঠতে ইচ্ছা করে না।’
স্থানীয় বাসিন্দা এবং রাস্তার পাশের প্রতিষ্ঠানগুলোর লোকজনের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বললে তাঁরা জানান, সারা বছর রাস্তার পাশে এবং ফুটপাতে দোকান, স্থাপনা ইত্যাদি থাকে। ঈদের আগে অস্থায়ী দোকানের সংখ্যা আরও বাড়ে। তাঁদের অভিযোগ, উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলে কয়েক দিন ঠিক থাকে। তবে নজরদারি না থাকলে পরে দ্রুততম সময়ে আবার অবৈধ দোকানপাট বসে যায়। পথচারী বা স্থানীয়রা পথ বন্ধ করার প্রতিবাদ করলে হুমকি দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী এবং পর্যবেক্ষকদের অভিযোগ, নিয়মিত নজরদারির ঘাটতি, রাজনৈতিক প্রভাবে আইন প্রয়োগে দুর্বলতা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে ফুটপাত স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত করা যায় না।
অন্যদিকে ফুটপাতে অবস্থান নেওয়া হকাররা বলেন জীবিকার প্রয়োজনের কথা। তাঁরা বলেন, বিকল্প কর্মসংস্থানের অভাবে বাধ্য হয়ে ফুটপাতে বসতে হচ্ছে তাঁদের। গত রোববার কথা হয় মিরপুর ১০ নম্বরের ফুটপাতের দোকানি হাসমত উল্লাহর সঙ্গে। সিটি করপোরেশনের অভিযানের খবর পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন তিনি। আজকের পত্রিকাকে হাসমত বলেন, ‘ছোট একটা দোকান কইরা সংসার চালাই। এটা চালাইতেও কত দেনদরবার করা লাগে। আমাগো ব্যবসার জায়গা কইরা দেক, আমরা সেখানে যামু।’
কোটি কোটি টাকা হাতবদল
ফুটপাতে অবৈধ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে কোটি কোটি টাকা তোলা হয় বলে অনেক বছর ধরে পত্রপত্রিকায় লেখালেখি হয়ে আসছে। ধানমন্ডি এলাকার এক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সীমান্ত সরকার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘সবাই জানে, ফুটপাতের ব্যবসার সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা জড়িত। তাঁদের টাকা না দিলে ফুটপাতে ব্যবসা করা যায় না।’
হকারদের বিভিন্ন সংগঠন বলছে, রাজধানীজুড়ে প্রায় আড়াই লাখ হকার রয়েছে। স্থান ও আকার বিবেচনা করে এসব দোকান থেকে ১০০ থেকে ১,২০০ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলমেন্টের ‘দ্য স্টেট অব সিটিজ ২০১৬: ট্রাফিক কনজেশন ইন ঢাকা সিটি-গভর্ন্যান্স পারস্পেকটিভ’ শিরোনামের গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার দুই সিটির ফুটপাত থেকে বছরে ১ হাজার ৮২৫ কোটি টাকার চাঁদা আদায় হয়। হকার সংগঠনগুলোর মতে, বর্তমানে এই অঙ্ক তিন হাজার কোটি টাকার বেশি। এই চাঁদা তোলার সঙ্গে রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতা-কর্মী ছাড়াও থানা-পুলিশের একাংশ জড়িত বলে বরাবরের অভিযোগ।
বারবার ব্যয়বহুল উচ্ছেদ
সিটি করপোরেশনের কর্তারা জানিয়েছেন, রাজধানীর অধিকাংশ এলাকায় ফুটপাত এবং তার পাশের রাস্তা আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ পেয়েছেন তাঁরা। ঢাকার উত্তরে মিরপুর এবং দক্ষিণের গুলিস্তান এলাকায় সবচেয়ে বেশি হকারের অবস্থান বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করতে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। ঢাকা উত্তর সিটি গত এক বছরে ৩৫১টি উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে প্রায় ১৬৬ কিমি ফুটপাত দখলমুক্ত করেছে বলে জানিয়েছে। এ হিসাবে ঢাকা উত্তরে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে গত এক বছরে খরচ হয়েছে প্রায় ৭০ লাখ টাকা। আর প্রতি কিলোমিটার ফুটপাত দখলমুক্ত করতে খরচ হয়েছে ৪২ হাজার টাকার বেশি। দক্ষিণ সিটির ক্ষেত্রে এমন সুনির্দিষ্ট হিসাব পাওয়া যায়নি।
সমন্বিত উদ্যোগ একমাত্র উপায়
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফুটপাত দখলের সমস্যার সমাধান সিটি করপোরেশনের একার পক্ষে সম্ভব নয়। অতীতে বহুবার ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও তা কার্যকর হয়নি। এর সমাধানে দুই সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন, ফুটপাতের হকার ও দোকানি, স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি এবং নাগরিক সমাজের সদস্যদের নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।
ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ঢাকার ফুটপাত গরিব লোকেরা দখল করে না। এর পেছনে একটা চক্র আছে। রাজনৈতিক দলের নেতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের একটা অংশ মিলে এই চক্র। ফুটপাতের ব্যবসা থেকে আসা টাকার বড় একটি অংশ এই চক্র নিয়ন্ত্রণ করে। তাদের চিহ্নিত করে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ফুটপাত দখলের সমস্যার সমাধান সম্ভব।’
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের এই অধ্যাপক আরও বলেন, পুনর্বাসন, ফ্যামিলি কার্ড, রেশনসহ বিভিন্ন সুবিধা দিয়ে হকারদেরও অবস্থার উন্নতি করতে হবে।
দুই সিটির কর্মকর্তারাও কিছুদিন পরপর উচ্ছেদের বদলে হকারদের জন্য স্থায়ী জায়গা নির্মাণ, সেখানে পুনর্বাসনের ব্যবস্থাসহ সমন্বিত উদ্যোগের কথা বলেছেন। সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ফুটপাত হকারমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন দুই সিটির প্রশাসকেরা।
গত রোববার মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানের আগেই সেখান থেকে সরে পড়েন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। পরে সেখানে ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান আলোচনার মাধ্যমে হকারদের স্থায়ী পুনর্বাসনের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, ‘জনগণের যাতায়াতের ব্যবস্থা যেমন সহজ করতে হবে, তেমনি যাঁরা গরিব ব্যবসায়ী আছেন, তাঁদেরকেও একটি জায়গার ব্যবস্থা করে দিতে হবে। সবার পরামর্শ নিয়েই আপনাদেরকে একটি ভিন্ন জায়গায় স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হবে।’
এ বিষয়ে ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জোবায়ের হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ফুটপাত উচ্ছেদের আগে রাজনৈতিক নেতারাসহ সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। ব্যবসায়ীদের জন্যও বিশেষ জায়গা নির্বাচন, স্থানান্তর ইত্যাদি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে।’
ডিএসসিসির প্রশাসকের একান্ত সচিব ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. রাসেল রহমান জানিয়েছেন, তাঁরাও ফুটপাতের সমস্যা সমাধানে একই পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। শিগগির সকল পক্ষকে নিয়ে নাগরিক সংলাপের আয়োজন করা হবে।
হকারদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থার কথা ভাবা হচ্ছে কি না জানতে চাইলে রাসেল রহমান বলেন, ‘পুরোনো পদ্ধতি কাজ করেনি। তাই নতুন পদ্ধতিতে যাওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। সেখানে পুনর্বাসনের বিষয়টি অবশ্যই থাকবে।’

রাজশাহী বিভাগের তিন জেলায় হামের সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বগুড়া ও নওগাঁ জেলায় ইতিমধ্যে বেশ কিছু রোগী শনাক্ত হয়েছে। বগুড়ায় হামের উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে জয়পুরহাটে এখনো নিশ্চিত রোগী পাওয়া না গেলেও হামে আক্রান্তের লক্ষণ থাকায় শিশুদের নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে।
১ ঘণ্টা আগে
১৫ দিন ধরে বৃষ্টিপাতে সুনামগঞ্জের ছোট-বড় অন্তত অর্ধশতাধিক হাওরের কাঁচা ধান তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতায় নষ্ট হচ্ছে এক ফসলি জমির কয়েক হাজার হেক্টর বোরো ধান। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে, ৬ এপ্রিল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
১ ঘণ্টা আগে
চারপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ভাঙা কাচ। কোথাও পড়ে আছে পরিত্যক্ত নির্মাণসামগ্রী, জমেছে আবর্জনা। সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল-পাঁচলিয়া এলাকায় গড়ে তোলা ট্রাক টার্মিনাল ও চালক বিশ্রামাগারের চিত্র এটি। কয়েক বছর আগে নির্মাণ শেষ হলেও চালু না হওয়ায় পড়ে আছে পরিত্যক্ত অবস্থায়।
১ ঘণ্টা আগে
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চাকরি দেওয়ার কথা বলে এক গ্রামের ২২ জনকে ডাকা হয়েছিল ঢাকায়। এমন চাকরির আশায় আজ বুধবার ঢাকা এসেছিলেন তাঁরা মৌলভীবাজার থেকে। তবে বিমানবন্দরে এসে জানতে পারলেন, সবই ভুয়া।
৪ ঘণ্টা আগে