Ajker Patrika

‘ওকে লাথি মেরে বের করে দিন’—নেতানিয়াহুর ছেলেকে যুদ্ধে পাঠাতে বললেন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৩: ১৩
‘ওকে লাথি মেরে বের করে দিন’—নেতানিয়াহুর ছেলেকে যুদ্ধে পাঠাতে বললেন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ছেলে ইয়ার নেতানিয়াহু। ছবি: জেরুজালেম পোস্ট

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ছেলে ইয়ার নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত করার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও হোয়াইট হাউসের সাবেক কৌশলবিদ স্টিভ ব্যানন। ব্যানন চান, ইয়ারকে ইরান যুদ্ধে সম্মুখ সমরে পাঠানো হোক।

সংবাদমাধ্যম আরটি ইন্টারন্যাশনালের এক্স-এ স্টিভ ব্যাননের একটি ভিডিও শেয়ার করা হয়, যেখানে তিনি এই কথা বলেন।

মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) প্রতি আহ্বান জানিয়ে ব্যানন বলেন, ‘নেতানিয়াহুর একটা ছেলে মায়ামিতে পড়ে আছে। কালই ওকে লাথি মেরে বের করে দিন।’

তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ব্যানন আরও বলেন, ‘যখন প্রয়োজন হয়, তখন ডিএইচএস কোথায় থাকে? ওকে ইসরায়েলে ফেরত পাঠান। ইউনিফর্ম পরিয়ে যুদ্ধের প্রথম সারিতে নামিয়ে দিন।’

টানা যুদ্ধ চলছে কিন্তু নেতানিয়াহুর দুই ছেলে ইয়ার বা অ্যাভনারকে কাউকেই ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীতে (আইডিএফ) যোগ দিতে দেখা যায়নি। তবে অ্যাভনার বরাবরই প্রচারবিমুখ। অন্যদিকে ইয়ার তাঁর বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও কট্টর মন্তব্যের কারণে প্রায়ই সংবাদপত্রের শিরোনামে থাকেন।

ব্যানন আরও যোগ করেন, ‘পাশাপাশি কাতার আর সৌদির রাজপুত্রদেরও সেখানে পাঠান। লন্ডনের ক্যাসিনো আর যৌনপল্লিগুলো থেকে ওদের বের করে এনে উপসাগরীয় অঞ্চলে ফেরত পাঠান।’

এর আগে গত শনিবার নিজের ‘ওয়ার রুম’ পডকাস্টে কথা বলার সময় হোয়াইট হাউসের এই সাবেক স্ট্র্যাটেজিস্ট বা কৌশলবিদ বলেন, যেকোনো স্থল অভিযানের ফার্স্ট ওয়েভ বা প্রথম ঢেউয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের অভিজাতদের এবং তাদের সন্তানদের থাকা উচিত।

ব্যানন বলেন, ‘হয়তো আমরা ওই রাজপুত্রদের দু-তিনজনকে ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় পেতে পারি। স্পেশাল ফোর্সে কি তাদের কোনো সন্তান আছে? চলুন ওই রাজপরিবারগুলোর দিকে তাকাই। দেখি তারা কতটা বড় বড় কথা বলছে।’

ওয়াশিংটনের অন্যান্য মিত্রদের ওপরও আক্রমণ চালিয়ে ব্যানন অভিযোগ করেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রকে শোষণ করছে। তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলিরা আমাদের সঙ্গে গেম খেলছে, আরবরা আমাদের সঙ্গে গেম খেলছে, ইউরোপীয়রাও গেম খেলছে। আর আমরা কী করছি? সেখানে সৈন্য পাঠাচ্ছি। ঠিক আছে, সামরিক অভিযানে বিজয় নিশ্চিত করার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিকল্প এবং আলোচনার পথ খোলা থাকা প্রয়োজন।’

অন্যদিকে ব্যারন ট্রাম্পকেও সেনাবাহিনীতে নিয়োগের দাবি উঠেছে। এ নিয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ‘DraftBarronTrump.com’ নামে একটি ব্যঙ্গাত্মক ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে। সেখানে ট্রাম্প পরিবারের ভুয়া উদ্ধৃতি ব্যবহার করে ১৯ বছর বয়সী ব্যারন ট্রাম্পের সাহসিকতার প্রশংসা করা হয়েছে এবং তাঁকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পাঠানোর দাবি তোলা হয়েছে।

বিশ্বের প্রভাবশালী নেতাদের সন্তানদের সেনাবাহিনীতে পাঠানোর এই দাবি অবশ্য নতুন কিছু নয়। যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী সব পুরুষের জন্য ‘সিলেক্টিভ সার্ভিস’ বা বাধ্যতামূলক সৈন্যদলে নাম লেখানোর নিয়ম রয়েছে। তবে ১৯৫৩ সালের পর দেশটিতে আর নতুন করে ‘ড্রাফট’ বা বাধ্যতামূলক নিয়োগের প্রয়োজন পড়েনি। উল্লেখ্য, এমন কোনো নিয়োগের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও কংগ্রেস উভয়েরই অনুমোদনের প্রয়োজন হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত