Ajker Patrika

চালু না হওয়া টার্মিনালে মাদকসেবীদের আড্ডা

  • প্রকল্পের জন্য দুই দফায় বরাদ্দ দেওয়া হয় ৭২ কোটি ৮০ লাখ টাকার বেশি
  • দ্বিতীয় দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয় ২০২৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত
  • জুলাই অভ্যুত্থানের সময় চুরি হয় সিঁড়ির রেলিং, ফ্যানসহ বেশ কিছু সরঞ্জাম
আব্দুল্লাহ আল মারুফ, সিরাজগঞ্জ
চালু না হওয়া টার্মিনালে মাদকসেবীদের আড্ডা

চারপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ভাঙা কাচ। কোথাও পড়ে আছে পরিত্যক্ত নির্মাণসামগ্রী, জমেছে আবর্জনা। সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল-পাঁচলিয়া এলাকায় গড়ে তোলা ট্রাক টার্মিনাল ও চালক বিশ্রামাগারের চিত্র এটি। কয়েক বছর আগে নির্মাণ শেষ হলেও চালু না হওয়ায় পড়ে আছে পরিত্যক্ত অবস্থায়।

সম্প্রতি সরেজমিনে এমনটাই দেখা গেছে। আরও দেখা গেছে, মূল ভবনের কক্ষগুলো ফাঁকা। দরজা-জানালার অনেকাংশই ভাঙা। ভেতরের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, আসবাব অনেক কিছুই চুরি হয়েছে। খোলা জায়গার একাংশে গবাদিপশু বেঁধে রাখা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর পুরো এলাকাটি অনিরাপদ হয়ে ওঠে। মাদকসেবীদের আনাগোনা বাড়ে, ঘটে বিভিন্ন অসামাজিক কার্যক্রম।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রকল্পটি চালু হলে এ এলাকায় ট্রাকচালকদের জন্য নিরাপদ বিশ্রামের ব্যবস্থা হতো। পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও কিছুটা গতি আসত। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকায় এখন এটি উল্টো সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে পণ্যবাহী ট্রাকচালকদের জন্য বিশ্রামাগার গড়ে তুলতে ২০১৯ সালে উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে ২০২০ সালের ২১ মে প্রায় ১৩ দশমিক ৫৬ একর জমিতে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়। ওই বছরের ১৫ অক্টোবর সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। প্রাথমিকভাবে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪২ কোটি ৮০ লাখ ৪৪ হাজার ৫৭৬ টাকা। পরে ২০২৩ সালে দ্বিতীয় দফায় প্রায় ২৯ কোটি ৯৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এদিকে চারপাশে গাছ লাগানোর জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় প্রায় ২১ লাখ টাকা। শুরুতে প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয় ২০২২ সালের ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত। পরবর্তী সময়ে ২০২৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়।

বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার লিমিটেড, রানা বিল্ডার্স প্রাইভেট লিমিটেড ও মেসার্স সাগর বিল্ডার্স।

নকশা অনুযায়ী এ ট্রাক টার্মিনালে একসঙ্গে ১০০টি ট্রাক পার্কিংয়ের সুবিধা, চালকদের জন্য শয়নকক্ষ, গোসলখানা, শৌচাগার, ক্যানটিন, নামাজঘর, প্রাথমিক চিকিৎসাকেন্দ্র, গাড়ি মেরামতের ওয়ার্কশপ ও ওয়াশ জোন রয়েছে। তবে উদ্বোধন না হওয়ায় এসব সুবিধা চালু হয়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের এক কর্মী বলেন, ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের সময় এই ভবনের বেশ কিছু জানালা ভেঙে ফেলা হয়। ফ্যান, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, সিঁড়ির রেলিংসহ অনেক কিছু চুরি হয়েছে। আর আশপাশে মাদকাসক্ত ছেলেরা এখানে এসে মাদক সেবনও করে।

গাজীপুর থেকে রংপুরগামী এক ট্রাকচালক বলেন, এই রুটে নিরাপদ বিশ্রামাগারের অভাব রয়েছে। এমন একটি স্থাপনা চালু হলে চালকদের উপকার হতো।

মোহাম্মদ আলী নামে অপর এক ট্রাকচালক বলেন, ‘৩০০-৪০০ কিলোমিটার গাড়ি চালিয়ে আমাদের ঘুমানোর দরকার কিন্তু সেই নিরাপত্তা আমরা পাচ্ছি না। মাঝে মাঝে যদি এখানে একটু আসি এলাকার মাদকাসক্ত ছেলেরা জোর করে আমাদের কাছে থেকে টাকা নিয়ে যায়। টাকা না দিলে গাড়ি আটকে দেয়। এখানে নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি খাবারের দোকান থাকার ব্যবস্থা করা দরকার।’

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইমরান ফারহান সুমেল বলেন, ‘আমরা এটি ইজারাদারকে বুঝিয়ে দেব। তখন ট্রাকচালকেরা এটি ব্যবহার করতে পারবেন। বাকি যে কাজগুলো রয়েছে সেগুলো অন্য প্রক্রিয়ায় করা হবে। নিরাপত্তার জন্য আনসার নিয়োগ করতে প্রধান প্রকৌশলীকে চিঠি দিsয়েছি। অনুমোদন হলে আনসার নিয়োগ দেব।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

প্রাথমিকেও চালু হচ্ছে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ক্লাস

বাংলাদেশ সরকারের বিবৃতিতে আমরা কষ্ট পেয়েছি: ইরানি রাষ্ট্রদূত

২০২৬ সালের ঈদুল আজহা কবে, যা জানা গেল

কিশোরগঞ্জে যুবদল নেতার হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

‘ওকে লাথি মেরে বের করে দিন’—নেতানিয়াহুর ছেলেকে যুদ্ধে পাঠাতে বললেন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত