Ajker Patrika

হামের সংক্রমণ: ভর্তি শিশুদের মধ্যে ৯০ শতাংশই টিকা নেয়নি

  • দুই জেলায় ২০ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে
  • বগুড়ায় হামের উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে
বগুড়া প্রতিনিধি
হামের সংক্রমণ: ভর্তি শিশুদের মধ্যে ৯০ শতাংশই টিকা নেয়নি
বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে হামে আক্রান্ত রোগীরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

রাজশাহী বিভাগের তিন জেলায় হামের সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বগুড়া ও নওগাঁ জেলায় ইতিমধ্যে বেশ কিছু রোগী শনাক্ত হয়েছে। বগুড়ায় হামের উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে জয়পুরহাটে এখনো নিশ্চিত রোগী পাওয়া না গেলেও হামে আক্রান্তের লক্ষণ থাকায় শিশুদের নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বগুড়ায় ১২ জন এবং নওগাঁয় ৮ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে। জয়পুরহাটে গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত কোনো হামে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়নি।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, পাবনা থেকে আশপাশের জেলাগুলোতে রোগটি ছড়িয়ে পড়ছে। আক্রান্ত হওয়া রোগীদের বেশির ভাগই শিশু। যাদের প্রায় ৯৫ শতাংশের বয়স দেড় মাস থেকে ৯ মাসের মধ্যে। তবে কিছু প্রাপ্তবয়স্ক রোগীও শনাক্ত হয়েছেন।

চিকিৎসকেরা জানান, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া অধিকাংশ শিশুর বয়স ৯ মাসের নিচে; যা উদ্বেগজনক। রাজশাহী অঞ্চলে হামে মৃত্যুবরণকারীদের বেশির ভাগের বয়সও ৯ মাসের কম। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুদের প্রায় ৯০ শতাংশই টিকা নেয়নি বলে জানা গেছে।

সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যমতে, বগুড়া জেলায় ৩৬ জন সন্দেহভাজন হামের রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। এদের মধ্যে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে ৫ জন এবং মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ৬ জন ভর্তি রয়েছে।

বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মনজুর-এ-মুর্শেদ জানান, বুধবার ভোর ৪টার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হুমায়রা নামের ১০ বছরের এক শিশু মারা গেছে। হামের উপসর্গ দেখে মঙ্গলবার বিকেলে শিশুটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

বগুড়া জেলা সিভিল সার্জন ডা. খুরশিদ আলম জানান, জেলায় ৩৬ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ জনের নমুনা পরীক্ষার ফল পাওয়া গেছে, যেখানে ১২ জন পজিটিভ, ১৩ জন নেগেটিভ এবং ১১ জনের রিপোর্ট অপেক্ষমাণ।

চিকিৎসকেরা জানান, আক্রান্তদের ৯০ শতাংশই এক বছরের কম বয়সী এবং অধিকাংশই টিকাবঞ্চিত। একই সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যেও সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। বগুড়ায় টিকা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

নওগাঁ জেলায় এখন পর্যন্ত আট রোগী শনাক্ত হয়েছে। উপসর্গ নিয়ে ৪১ রোগী পাওয়া গেছে। সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ দেখা দিয়েছে নওগাঁ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড এবং নিয়ামতপুর উপজেলার ভাবিচা ইউনিয়নে।

নওগাঁ সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় শয্যাসংকট দেখা দিয়েছে। অনেক রোগীকে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আক্রান্ত এলাকাগুলোতে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল প্রদান করা হচ্ছে এবং সার্চিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

জয়পুরহাটে এখনো কোনো নিশ্চিত রোগী পাওয়া যায়নি। তবে ৩১ মার্চ পর্যন্ত ৫ শিশুর নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তাদের বয়স ৫ মাসের নিচে বলে জানা গেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

প্রাথমিকেও চালু হচ্ছে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ক্লাস

বাংলাদেশ সরকারের বিবৃতিতে আমরা কষ্ট পেয়েছি: ইরানি রাষ্ট্রদূত

২০২৬ সালের ঈদুল আজহা কবে, যা জানা গেল

কিশোরগঞ্জে যুবদল নেতার হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

‘ওকে লাথি মেরে বের করে দিন’—নেতানিয়াহুর ছেলেকে যুদ্ধে পাঠাতে বললেন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত