Ajker Patrika

বিএনপির ওয়ার্ড সভাপতির বাড়িতে মিলল প্রণোদনার সার-বীজ, ধরিয়ে দিলেন সেক্রেটারি

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২৬, ১২: ৩৫
বিএনপির ওয়ার্ড সভাপতির বাড়িতে মিলল প্রণোদনার সার-বীজ, ধরিয়ে দিলেন সেক্রেটারি
বিএনপি নেতার বাড়ি থেকে কৃষকের প্রণোদনার সার-বীজ উদ্ধার। ছবি: আজকের পত্রিকা

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় এক বিএনপি নেতার বাড়ি থেকে সরকারি প্রণোদনার সার ও ধানবীজ উদ্ধার করে কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করেছে কৃষি বিভাগ। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ মন্ডল মির্জাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল্লাহ মন্ডল কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত ৮ বস্তা (প্রতি বস্তা ৫০ কেজি) সার এবং ২২ বস্তা (প্রতি বস্তায় ১০ কেজি) ধানবীজ উপজেলা কৃষি অফিস থেকে এনে নিজ বাড়িতে মজুত রাখেন। পরে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের অভিযোগের ভিত্তিতে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রকৃত কৃষকদের মধ্যে সেগুলো বিতরণ করেন।

এ বিষয়ে ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরিদ মালিথা বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা সভাপতির বাড়িতে গিয়ে সরকারি সার ও বীজ মজুত অবস্থায় দেখতে পাই। পরে কৃষি কর্মকর্তাকে জানানো হলে তিনি এসে সেগুলো কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করেন। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।’

উপজেলা কৃষক দলের সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেনের দাবি, ‘আব্দুল্লাহ মন্ডলের বিরুদ্ধে এর আগেও সরকারি বিভিন্ন বরাদ্দের উপকরণ নিজের বাড়িতে এনে রাখার অভিযোগ রয়েছে।’ তাঁর ভাষ্য, কিছু বিতরণ করে বাকিগুলো বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ঈদুল ফিতরের আগে শাড়ি বিতরণ নিয়েও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল।

সার পরিবহনকারী নছিমনচালক জাহিদ হোসেন বলেন, ‘সোমবার (৬ জুলাই) আমাকে শৈলকুপা উপজেলা কৃষি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে লিটন নামে এক ব্যক্তি একটি কার্ড দিয়ে ৮ বস্তা সার, ২২ প্যাকেট ধানবীজ ও কিছু গাছের চারা তুলে দেন। পরে সেগুলো আব্দুল্লাহ মন্ডলের বাড়িতে পৌঁছে দিই।’

ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল্লাহ মন্ডল। ছবি: আজকের পত্রিকা
ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল্লাহ মন্ডল। ছবি: আজকের পত্রিকা

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মির্জাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল্লাহ মন্ডল বলেন, ‘সোমবার সার ও ধানবীজ এনে বাড়িতে রেখেছিলাম। বৃষ্টির কারণে সেদিন বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার সকালে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা উপস্থিত হওয়ার পর তাঁর তত্ত্বাবধানে কৃষকদের মধ্যে সেগুলো বিতরণ করেছি।’

মির্জাপুর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাকিব হোসেন বলেন, ‘সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে সরকারি বরাদ্দের সার ও ধানবীজ তালিকা অনুযায়ী কৃষকদের মধ্যে ১০ কেজি করে সার ও ৫ কেজি করে ধানবীজ বিতরণ করা হয়েছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ‘সোমবার সার ও বীজ উত্তোলন করা হয়েছিল। বৃষ্টির কারণে সেদিন বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিপক্ষরা বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি করেছে।’

এক ব্যক্তি কীভাবে একসঙ্গে ৪৪ জন কৃষকের সার ও বীজ উত্তোলন করে বাড়িতে নিয়ে গেলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অনেক সময় কৃষকেরা পরিবহন খরচ কমাতে একসঙ্গে একজনের মাধ্যমে একাধিক কৃষকের সার বীজ নিয়ে যান। এখানেও সেই পদ্ধতিতেই উত্তোলন করা হয়েছিল।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত