হাওরের ফসল রক্ষা

হাওরাঞ্চলের এক ফসলি জমি রক্ষার শেষ ভরসা ফসল রক্ষা বাঁধ। প্রতিবছরের মতো এবারও নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ হলেও কৃষকদের অভিযোগ, কাজ হয়েছে দায়সারা। সময় পেরিয়ে গেলেও অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে অনেক বাঁধ, এরই মধ্যে শুরু হয়েছে বৃষ্টি। নড়বড়ে ও দুর্বল কাঠামো নিয়ে পানির চাপ সামলাতে পারবে কি না, তা নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা। কোথাও কোথাও ইতিমধ্যে ধস নেমেছে বাঁধের পাশ। আগাম বন্যার আশঙ্কায় আতঙ্কিত হাওরের কৃষক।
তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে, কিছুটা দেরি হলেও আগাম বন্যা মোকাবিলায় বাঁধগুলো সক্ষম হবে।
নীতিমালা অনুযায়ী, পাউবোর তদারকিতে গত বছরের ৩০ অক্টোবরের মধ্যে প্রকল্প নির্ধারণের কাজ চূড়ান্ত হওয়ার কথা। ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পিআইসি গঠন। আর ফসল রক্ষা বাঁধের নির্মাণকাজ ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে শুরু এবং ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তা শেষ করার কথা। ওই সময়ের মধ্যে বাঁধে দুর্বাঘাস লাগিয়ে পরিচর্চা করে সেগুলো তাজা করার নিয়ম রয়েছে।
বাঁধে ধস: নেত্রকোনায় আগাম বন্যার হাত থেকে একমাত্র বোরো ফসল রক্ষায় বাঁধ নির্মাণের কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি। নির্ধারিত সময়ের ২৪ দিন পেরোলেও শুধু বাঁধে মাটি কাটার কাজ শেষ হয়েছে। মাটি দুরমুজ পিটিয়ে বসানো, দুর্বাঘাস লাগিয়ে পরিচর্চা—এসবই বাকি। কিছু বাঁধে অনেক দূরে দূরে কিছু ঘাস লাগানো হলেও তা কেবল নিয়ম রক্ষার।
এদিকে থেমে থেমে শুরু হয়েছে বৃষ্টিপাত। মাটি শক্ত না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানিতে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি বাঁধের পাশ ধসে যায়। যদিও সেগুলো মেরামত করা হয়েছে। কৃষকদের শঙ্কা, পুরোদমে বৃষ্টিপাত শুরু হলে নড়বড়ে এসব বাঁধ টিকবে না।
গত বুধবার মোহনগঞ্জ উপজেলার গাগলাজুর ইউনিয়নের করাচাপুর গ্রামের সামনে চিকাডুবি হাওরে হাইজদা বেড়িবাঁধ উপপ্রকল্পের ২৪ নম্বর পিআইসির বাঁধের দুপাশে কয়েকটি অংশ সামান্য বৃষ্টিতে ধসে যায়। বাঁধের কোনোরকম ড্রেসিং করা হলেও দুই পাশে কয়েকটি দুর্বাঘাসের ছোট ছোট স্তূপ ফেলে রাখা হয়েছে। বাঁধের মাটি ঠিকমতো দুরমুজ মেরে বসানো হয়নি। একই দিনে খালিয়াজুরী উপজেলার চৈত্তার হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের একটি অংশে ১৫ মিটার ধসে পড়ে। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে পরে তাড়াহুড়ো করে সংস্কার করেন সংশ্লিষ্টরা। এতে করে বাঁধের স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা।
মোহনগঞ্জের তেঁতুলিয়া গ্রামের কৃষক আবদুল হাসিম বলেন, ‘হাওরের একটা ফসলের ওপর আমাদের সারা বছরের খাওয়াদাওয়া, আনন্দ উৎসব, চিকিৎসা, বাজার খরচ, ছেলেমেয়ের পড়াশোনাসহ সবকিছু নির্ভর করে। এই ফসল ঘরে তুলতে না পারলে আমাদের জীবনে দুর্ভোগ নেমে আসে। আর বাঁধের ওপর নির্ভর করে এই ফসল। তবে এবার দুর্বল বাঁধের কারণে আগাম বন্যা হলে হাওরের ফসল তলিয়ে যেতে পারে।’
খালিয়াজুরী উপজেলার লেপসিয়া এলাকার কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এবার সবচেয়ে দেরিতে বাঁধের কাজ শেষ করা হয়েছে। এতে করে মাটি শক্ত হওয়ার সময় পায়নি। ইতিমধ্যে বৃষ্টি হতে শুরু করেছে। আগাম বন্যা হলে ফসল রক্ষা করা কঠিন হবে।’
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘যেসব বাঁধে ঘাস কম, সেখানে দ্রুত ঘাস লাগানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আপাতত বন্যার পূর্বাভাস নেই; পানি বাড়লেও ফসলের ক্ষতির শঙ্কা নেই।’
ঝুঁকিপূর্ণ ক্লোজারে পড়ছে মাটি
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে গত কয়েক দিনের বজ্র ও শিলাবৃষ্টি কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছে কৃষকের বুকে। অনিয়ম-দুর্নীতির খপ্পরে পড়া দায়সারা বাঁধ বৃষ্টিতে আরও নড়বড়ে হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ক্লোজারে এখনো মাটি ফেলার ধামাচাপা কাজ চলমান আছে। হাওর এলাকায় এ নিয়ে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
গত মঙ্গলবার দুপুরে তাহিরপুরের মাটিয়ান হাওরের বিপজ্জনক আলমখালী ক্লোজারে গেলে ওই বাঁধে এখনো মাটি ফেলতে দেখা যায়। এ ছাড়া একাধিক বাঁধ ঘুরে পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগজনক মনে হয়েছে। খোদ শ্রমিকসহ বাঁধ তীরবর্তী গ্রামের একাধিক কৃষক এ প্রতিবেদকের কাছে ক্ষোভ ঝেড়েছেন।
ঝুঁকিপূর্ণ এ বাঁধের কাজ শেষ হওয়ার কথা আরও এক মাস আগে—এখন কেন প্রশ্ন রেখে বাঁধের পার্শ্ববর্তী খাউকান্দি-বড়দল গ্রামের মো. ফয়জুন নূর, মো. রিয়াজসহ একাধিক কৃষক বলেন, গতবারের তুলনায় এবারের কাজ অনেক দুর্বল। আর কয় দিন বৃষ্টি হলে পাহাড়ি ঢল এক ধাক্কায় সব শেষ করে দেবে। বাঁধের কাজ কে করে কেউ জানে না। জিজ্ঞেস করলে বলে ইউএনও। সব বাঁধের কাজ নিয়ে জালিয়াতি আর জালিয়াতি।
সম্প্রতি ধর্মপাশা উপজেলার সোনামড়ল হাওরের সুখাইড়, নোয়াগাঁও, জারাকোনা গ্রামসংলগ্ন কয়েকটি বাঁধ ঘুরে দেখা যায়, কিছু কিছু বাঁধে বৃষ্টিতে সৃষ্ট ফাটল কিংবা ভাঙন ঢাকতে তড়িঘড়ি দুর্বা লাগিয়ে ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকার’ চেষ্টা করছেন শ্রমিকেরা।
হালি হাওরের উলুকান্দি-ঝুনুপুর গ্রামের মধ্যস্থলের নেত্তুয়ার কাড়া বাঁধের একাংশ নদীগর্ভে ধসে বিপজ্জনক অবস্থায় পতিত হয়েছে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কাবিটা মনিটরিং কমিটির সভাপতি মো. মেহেদী হাসান মানিক বলেন, ‘বাঁধে মাটির কাজ শেষ হয়েছে। অনেক বাঁধে বাঁশ, বস্তা ও জিওটেক্স ধরা নেই। বাঁধের নিরাপত্তায় কয়েক দিনের মধ্যে বাকি কাজ করা হবে।’
কম বরাদ্দে শেষ কাজ
কিশোরগঞ্জে ১৪৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ১৩৯টি ফসল রক্ষা বাঁধের সংস্কারকাজ। তবে কাজ শেষ হলেও মাটির স্থায়িত্ব এবং বৃষ্টির ক্ষয় রোধে ঘাস লাগানো নিয়ে কিছুটা উদ্বিগ্ন স্থানীয় কৃষকেরা। বরাদ্দ সংকটের মধ্যেও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হওয়ায় স্বস্তির পাশাপাশি রয়েছে কাজে গাফিলতির অভিযোগও।
পাউবো সূত্রে জানা গেছে, এবার সব বাঁধ সংস্কার কাজে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৩ কোটি ২১ লাখ টাকা। কিন্তু বরাদ্দ পাওয়া গেছে মাত্র ৫ কোটি ৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় মাত্র এক-পঞ্চমাংশ বরাদ্দ এসেছে। প্রাক্কলিত ব্যয়ের তুলনায় বরাদ্দ কম থাকার পরেও পিআইসি কমিটি ভালোভাবেই তাদের কাজ সম্পন্ন করেছে।
সরেজমিনে হাওরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বাঁধের কাজ শেষ হলেও কাজের মান নিয়ে কৃষকদের মনে স্বস্তির পাশাপাশি রয়ে গেছে গভীর শঙ্কা। তাঁরা বলছেন, ইতিমধ্যেই বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি শুরু হয়েছে। হাওরের নিচু অংশে এখনো পানি জমেনি। তবে আগাম বন্যা হলে বাঁধের স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা কাটছে না তাঁদের। পূর্ব অষ্টগ্রাম ইউনিয়নের কৃষক হাফিজ মিয়া বলেন, ‘খেত বাঁচানোর লাগি বাঁধ তো হইছে, আগুইল (আগাম) পানিতে ক্ষতি হইব না। এহন শিলাবৃষ্টি না হইলে আল্লাহর রহমতে ধান ঘরে তোলতে পারমু।’
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘কৃষকেরা সময়মতো ফসল ঘরে তুলবেন—পিআইসি, উপজেলা ও জেলা কমিটি সার্বক্ষণিক তদারকি করছে। কোনো বিপদ দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
[প্রতিবেদনে তথ্য দিয়ে সহায়তা করছেন সংশ্লিষ্ট জেলার প্রতিনিধিরা]

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় বর্তমানে ১১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২২ হাজার। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর গতকাল রোববার উপজেলার সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি শুরু করেছে। তবে প্রথম দিনেই ৪০টি বিদ্যালয়ের অন্তত ১০ হাজার খুদে
১৫ মিনিট আগে
স্বপ্নের ইউরোপে আর যাওয়া হলো না সুনামগঞ্জের ১০ তরুণের। লিবিয়া থেকে রাবারের বোটে করে গ্রিসে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে তাঁদের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। গত শনিবার তাঁদের মৃত্যুর খবর পরিবারের লোকজন জানতে পারেন। খাবার ও পানির সংকটে সাগরে এমন করুণ মৃত্যুর ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবারে চলছে মাতম।
১ ঘণ্টা আগে
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌ-রুট এখন যাত্রী ও চালকদের জন্য এক আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। গত বুধবারের দৌলতদিয়া ঘাটে বাসডুবির ভয়াবহ ঘটনা এই নৌ-রুটের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অব্যবস্থাপনা এবং অবকাঠামোগত দুর্বলতাকে পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে।
১ ঘণ্টা আগে
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবিপ্রবি) উপাচার্য শূন্য রয়েছে ১৫ দিন ধরে। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে নানা সংকট, নেমে এসেছে স্থবিরতা। উপাচার্যের (ভিসি) স্বাক্ষরের জন্য আটকে আছে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের বেতন। এমন পরিস্থিতিতে নিজস্ব ক্যাম্পাস থেকে দ্রুত উপাচার্য নিয়োগের দাবি
২ ঘণ্টা আগে