Ajker Patrika

‘খাবার না পেয়ে’ মারধর, বাবুর্চির পর প্রাণ গেল আহত বৃদ্ধারও

রাজবাড়ী সংবাদদাতা
‘খাবার না পেয়ে’ মারধর, বাবুর্চির পর প্রাণ গেল আহত বৃদ্ধারও
অভিযুক্ত অজ্ঞাতপরিচয় মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে আটক করে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। ছবি: আজকের পত্রিকা

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় মাদ্রাসার রান্নাঘরে হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দুজন হয়েছে। গতকাল শুক্রবার এক যুবকের হামলায় বাবুর্চি ফজের আলী (৭০) নিহত হন। গুরুতর আহত সোনাবান (৬২) আজ শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

হামলার অভিযোগে সেন্টু (৪৩) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। সেন্টু নাটোর জেলা সদরের ডালা দক্ষিণপাড়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে। স্থানীয়রা জানায়, ওই ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্যহীন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার জুমার নামাজের পর দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে দৌলতদিয়া আনজুমান-ই-কাদেরিয়া মাদ্রাসাতু সাবি-ইল-হাসান দাখিল মাদ্রাসার রান্নাঘরে এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় মাদ্রাসার হোস্টেলের বাবুর্চি ফজের আলী শিক্ষার্থীদের খাবার পরিবেশন করছিলেন।

নিহত ফজের আলী রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের মল্লিকপাড়া গ্রামের মৃত আহমদ আলী সরদারের ছেলে। নিহত সোনাবান দৌলতদিয়ার সিদ্দিক কাজীপাড়ার সাইম উদ্দিন শেখের স্ত্রী।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, খাবার পরিবেশনের সময় এক ব্যক্তি সেখানে গিয়ে ফজের আলীর কাছে খাবার চান। শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত সব খাবার আগেই বিতরণ করা হয়ে যাওয়ায় তাঁর কাছে অতিরিক্ত খাবার ছিল না।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, বিষয়টি বুঝিয়ে বলার আগেই ওই ব্যক্তি রান্নার কাজে ব্যবহৃত কাঠ দিয়ে ফজের আলীর মাথার পেছনে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। ফজের আলী মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সোনাবান ফজের আলীকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে হামলাকারী তাঁকেও এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয় লোকজন দুজনকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক সেখানে ফজের আলীকে মৃত ঘোষণা করেন। সোনাবানকে প্রথমে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ তাঁর মৃত্যু হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সেন্টুকে আটক করে হেফাজতে নেয়।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আটক ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্যহীন কি না, তা যাচাই করতে পুলিশি পাহারায় তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাঁর নাম-পরিচয়ও পাওয়া গেছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত