Ajker Patrika

নারায়ণগঞ্জ থেকে বড় সাজ্জাদের সহযোগী সানি গ্রেপ্তার: পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৯: ৩৭
নারায়ণগঞ্জ থেকে বড় সাজ্জাদের সহযোগী সানি গ্রেপ্তার: পুলিশ
গ্রেপ্তার সাব্বির হোসেন সানি। ছবি: সংগৃহীত

বিদেশে পলাতক চট্টগ্রামের আট হত্যাকাণ্ডে আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খানের অনুসারী সাব্বির হোসেন সানিকে (৩৪) নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। পুলিশের দাবি, বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল গতকাল শুক্রবার রাতে নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। আজ শনিবার জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশের ভাষ্য, বড় সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী সাব্বির হোসেন সানি সাতক্ষীরা জেলার কালীগঞ্জ থানার সাতবসু গ্রামের মো. মালেকের ছেলে। চট্টগ্রামে তিনি পাঁচলাইশ থানার হামজারবাগ এলাকায় থাকতেন।

পাঁচলাইশ ও হাটহাজারী থানায় সানির বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, গ্রেপ্তার সানি বড় সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত সহযোগী। তিনি আগে বিদেশে থাকতেন। বড় সাজ্জাদের নির্দেশে গত বছর বাংলাদেশে ফিরে চট্টগ্রামে আসেন। এরপর থেকে বড় সাজ্জাদের হয়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন।

কারাগারে থাকা সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের পরিবর্তে সম্প্রতি চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার দায়িত্ব সানিকে দেওয়া হয়েছিল বলে পুলিশের দাবি। এ জন্য তিনি বড় সাজ্জাদের কাছ থেকে মাসে ৫০ হাজার টাকা বেতন পেতেন।

মাসুদ আলম বলেন, সানি ও তাঁর সহযোগীরা প্রভাব ও ভীতির পরিবেশ তৈরি করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছিলেন। চাঁদা দাবির পর নির্ধারিত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে অথবা চাঁদা আদায়ে ব্যর্থ হলে সানির নির্দেশে স্থানীয় সহযোগীদের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের বাসা বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র হামলা চালানো হতো। বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়ার পর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দীর্ঘ অনুসন্ধান, অবস্থান শনাক্তকরণ ও নিবিড় নজরদারির মাধ্যমে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকা থেকে সানিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মাসুদ আলম আরও বলেন, সম্প্রতি সানির বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের একটি ঘটনার অডিও রেকর্ড জেলা গোয়েন্দা শাখার হাতে এসেছে। অডিও রেকর্ডসহ অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। চাঁদাবাজির সঙ্গে তাঁর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা, সহযোগীদের পরিচয় এবং চক্রটির কার্যক্রম উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে।

২০২৪ সালের আগস্টের পর চট্টগ্রাম নগর ও রাউজান উপজেলায় একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাজ্জাদ আলী খানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছোট সাজ্জাদ, রায়হান, মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন, বোরহান ও মোহাম্মদসহ কয়েকজনের নাম আলোচনায় আসে।

পুলিশের ভাষ্য, আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে এই গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে একাধিক জোড়া খুনসহ ডজনের বেশি আলোচিত হত্যাকাণ্ড ঘটানোর অভিযোগ রয়েছে। মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবিতে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগও রয়েছে। ছোট সাজ্জাদ, ডেভিড ইমন ও মোহাম্মদসহ গ্যাংটির নিয়ন্ত্রকদের অনেকে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত