Ajker Patrika

দিন শেষে বিপৎসীমার নিচে তিস্তার পানি

লালমনিরহাট প্রতিনিধি 
দিন শেষে বিপৎসীমার নিচে তিস্তার পানি
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় অবস্থিত দেশের বৃহত্তর সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজ ডালিয়া পয়েন্ট। ছবি: আজকের পত্রিকা

ভারী বৃষ্টি আর উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বেড়ে ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপরে উঠলেও দিন শেষে তা নিচে নেমে আসে। বন্যার আতঙ্ক কেটেছে তিস্তাপাড়ের চরাঞ্চলে।

আজ বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া পয়েন্টে পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ১৩ মিটার; যা বিপৎসীমার (স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ১৫ মিটার) ২ সেন্টিমিটার নিচে। এর আগে সকাল ৬টা ও ৯টায় পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

নদীপারের মানুষ ও বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, ভারী বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানিপ্রবাহ গতকাল মঙ্গলবার রাত থেকে বাড়তে থাকে এবং বিপৎসীমা অতিক্রম করে। আজ সকাল ৬টা ও ৯টায় তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয় বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপরে। ফলে তিস্তা নদীর উভয় পাড়ের নিম্নাঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় জেলার প্রায় ১৫ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়ে। পানির চাপ দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তিস্তাপাড়ের মানুষেরা।

বেলা গড়ার সঙ্গে সঙ্গে পানির চাপ কমতে শুরু করে এবং সন্ধ্যা ৬টায় তা বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার নিচে নেমে আসে। এতে বন্যার আতঙ্ক কেটে যায় তিস্তাপাড়ের বাসিন্দাদের। ধীরে ধীরে মুক্তি পেতে থাকে পানিবন্দী পরিবারগুলো। এভাবে গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা নদীতে পানি ওঠানামা চলে। তিস্তা নদীতে পানি বেড়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করলে লালমনিরহাট সদর, পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলার বেশ কিছু এলাকা বন্যায় ডুবে যায়।

তিস্তাপাড়ের গোবর্দ্ধন গ্রামের আজিজার রহমান বলেন, ‘রাত থেকে হু হু করে বাড়ে পানি। দিনভর বাড়তে থাকে। বিকেল হতেই পানি কমতে শুরু করে। ঘরবাড়ি থেকে নামতে শুরু করেছে বন্যার পানি। এ বছর স্বল্পমেয়াদি বন্যা হলেও দীর্ঘমেয়াদি বড় কোনো বন্যা হয়নি। গতকাল রাতে পানির চাপ দেখে আতঙ্কিত ছিলাম।’

উত্তর ডাউয়ামারী গ্রামের মাহফুজ বলেন, ‘সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি রাস্তাঘাট ডুবে গেছে। আমাদের গ্রামের সকল বাড়িতে হাঁটু বা কোমর পানি উঠেছিল। বিকেল হতেই পানি কমতে শুরু করে এবং ঘরবাড়ি থেকে পানিও নেমে যেতে শুরু করেছে।’

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার জানান, বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তবে দুপুরে কমতে শুরু করে সন্ধ্যায় তা বিপৎসীমার নিচে নেমে আসে। ফলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে। মূলত উজানের চাপে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হলেও আপাতত দীর্ঘমেয়াদি বন্যার কোনো শঙ্কা নেই।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত