ইসলামপুরে এসআই-এর বিরুদ্ধে ঘুষ ও হয়রানির অভিযোগ

জামালপুরের ইসলামপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়, তদন্তের নামে ঘুষ গ্রহণ এবং বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কখনো মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে, কখনো তদন্তের কথা বলে এবং আবার কখনো থানায় আটকে রেখে টাকা আদায় করেন তিনি।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এসআই জিল্লুর রহমান।
এসআই জিল্লুরের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ করেছেন জহুরুল ইসলাম নামে এক ভুক্তভোগী। তিনি ইসলামপুর উপজেলার চিনাডুলী ইউনিয়নের শিংভাঙ্গা গ্রামের মৃত শাহ আলমের ছেলে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুলাই বিকেলে পারিবারিক বিষয়কে কেন্দ্র করে একই এলাকার মৃত ওয়াহেদ আলীর ছেলে দেলু ও লিটনের লোকজন জহুরুল ইসলামকে মারধর করেন। স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। ছয় দিন চিকিৎসা শেষে তিনি বাড়ি ফেরেন।
এ ঘটনায় জহুরুল ইসলামের স্ত্রী মোছা. হামেদা বেগম বাদী হয়ে ইসলামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে বলা হয়, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে এসআই জিল্লুর রহমান খরচবাবদ টাকা দাবি করেন। পরে জহুরুল তাঁকে সাড়ে চার হাজার টাকা দেন। এরপর অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের জন্য আরও টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ জহুরুলের।
একপর্যায়ে জহুরুল ২৫ হাজার টাকা দেওয়ার পর গত ৩ আগস্ট অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘দুই দফায় ২৯ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েও এখন পর্যন্ত মামলার কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করেননি এসআই জিল্লুর। উল্টো তিনি রাগারাগি করেন। জানতে পেরেছি, আসামিদের কাছ থেকেও মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছেন তিনি। আমরা মামলার কার্যক্রম নিয়ে চরম হতাশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছি।’
এসআই জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ সম্পর্কে সার্কেল কর্মকর্তার কার্যালয়ে অভিযোগ গ্রহণে দায়িত্বে থাকা কনস্টেবল মো. জাকির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বলেন, ’এসআই জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি।’
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে জামালপুরের (এসপি) মোছা. ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, ’অভিযোগের বিষয়ে খোঁজখবর নেব। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে, অভিযুক্ত এসআইয়ের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ‘অভিযোগ ঠিক নয়। আমি দায়িত্বশীলভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমার বিরুদ্ধে এক টাকার ঘুষ গ্রহণের সত্যতাও কেউ প্রমাণ করতে পারবে না।’
ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘এসআই জিল্লুরের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’









