দীর্ঘদিনেও শেষ হয়নি সড়কের কাজ, ভোগান্তিতে বকশীগঞ্জবাসী

জামালপুরের বকশীগঞ্জে প্রায় ২ কোটি ৮৮ লাখ ৯৪ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ৪ দশমিক ৯ কিলোমিটার সড়কের কাজ দীর্ঘদিন ধরে অসমাপ্ত পড়ে আছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বাদ দেওয়া হলেও নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হয়নি। ফলে সড়কটির নির্মাণকাজ কবে শেষ হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পথচারীরা।
সড়কটি বকশীগঞ্জ পৌর বাসস্ট্যান্ডের বটতলা থেকে পুরাতন গরুহাটি হয়ে জব্বারগঞ্জ বাজার পর্যন্ত বিস্তৃত। দীর্ঘদিন ধরে কাজ অসমাপ্ত থাকায় সড়কের বিভিন্ন অংশ ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। এতে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের শেষ দিকে সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। কাজের মান নিয়ে অভিযোগ তুলে একপর্যায়ে স্থানীয় বাসিন্দারা বাধা দেন। পরে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ জহুরুল হক নিম্নমানের কাজের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করেন। এরপরও সড়কটির কাজ শেষ হয়নি। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।
উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ‘ঘূর্ণিঝড় আম্ফান ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পল্লি সড়ক অবকাঠামো পুনর্বাসন’ শীর্ষক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সড়কটির সংস্কারকাজের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রায় ২ কোটি ৮৮ লাখ ৯৪ হাজার টাকা ব্যয়ে কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় শওকত এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির মালিক শওকত। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় প্রতিষ্ঠানটিকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে এলজিইডি।
সড়কটির বেহাল অবস্থায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহনচালকেরা। স্থানীয় ব্যবসায়ী নাসির বলেন, ‘সড়কটির কাজ অসমাপ্ত থাকায় মানুষের চলাচলে অনেক কষ্ট হচ্ছে। বর্ষার সময় দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। দ্রুত কাজ শেষ করা হলে এলাকাবাসীর ভোগান্তি কমবে।’
অটোরিকশাচালক রফিক মিয়া বলেন, ‘ভাঙা রাস্তা দিয়ে অটোরিকশা চালাতে অনেক সমস্যা হয়। যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই ঝুঁকিতে পড়তে হয়। সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা দরকার।’
জামালপুর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ রমজান আলী বলেন, ‘ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বাদ দেওয়া হয়েছে। অতি দ্রুত নতুন দরপত্র আহ্বান করা হবে এবং কাজ সম্পন্ন করা হবে।’
দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত নতুন দরপত্র আহ্বান করে সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।









