আনোয়ার হোসেন শামীম, গাইবান্ধা

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী ছাবিউল ইসলাম গাইবান্ধা জেলাতেই কর্মজীবনের ২১ বছর পার করেছেন। মাঝে একবার বদলি করা হলেও ২৩ দিনের ব্যবধানে আবারও ফিরে আসেন তিনি। এই জেলায় জেঁকে বসতে এই প্রকৌশলী ব্যবহার করেছেন সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতা। এ ছাড়া জেলায় প্রভাব বিস্তার করতে দলটির সাবেক ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়াকে ‘ধর্মের বাবা’ বানিয়েছিলেন তিনি।
গত বৃহস্পতিবার ৩৭ লাখ টাকাসহ নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের চলনবিল গেট এলাকায় ছাবিউলকে আটক করে নিরাপত্তা বাহিনী। এর জেরে আলোচনায় আসেন তিনি। এরপর সাবেক ও বর্তমান কর্মস্থলের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে ছাবিউলের ‘দাপটের’ বিষয়ে জানা গেছে। স্থানীয় লোকজন বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ছাবিউলের সম্পর্কে কেউ বলতে সাহস পেত না। দলটির নেতা-কর্মীদের সঙ্গেই ছিল তাঁর সার্বক্ষণিক ওঠাবসা।
এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, ছাবিউল ইসলামের গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলায়। বর্তমানে তিনি রাজশাহী নগরের লক্ষ্মীপুরে বাড়ি করেছেন। সেখানেই বসবাস করেন। তিনি ২০০৫ সালের ২১ ডিসেম্বর উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে গাইবান্ধার সাঘাটায় যোগদান করেন। এই কর্মস্থলে টানা ১৪ বছর দায়িত্ব পালন করে পদোন্নতি পেয়ে জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রকৌশলী গাইবান্ধা জেলা কার্যালয়ে যোগ দেন। এ সময় তিনি সাঘাটা উপজেলায় (উপজেলা প্রকৌশলী) অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন।
এই সাঘাটার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ওই আসনের প্রয়াত সংসদ সদস্য ফজলে রাব্বী মিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন তিনি। ছাবিউল ইসলাম সেই সময় ফজলে রাব্বীকে ‘ধর্মবাবা’ বানান। ঠিকাদারদের নিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতেন। এ ছাড়া কোন ঠিকাদার কোন ভোট সেন্টারের খরচ বহন করবেন, তাও তিনি নির্ধারণ করে দিতেন। ২০২২ সালের ২২ জুলাই ফজলে রাব্বী মারা গেলেও তিনি আওয়ামী লীগের ছত্রচ্ছায়ায় থাকেন।
সাঘাটা উপজেলার বাসিন্দা সোহাগ মিয়া বলেন, ‘আমরা ছাবিউল ইসলামকে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে তেমন একটা চিনতাম না। ওনাকে আমরা ডেপুটি স্পিকারের বেটা হিসেবেই চিনতাম। ভোটের সময় উনি নিজেই ডেপুটি স্পিকারের জন্য মাঠে কাজ করতেন।’
এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে আরও জানা গেছে, ছাবিউল নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে ২০২১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর বরিশাল জেলায় যোগ দেন। সেখানে মাত্র ২৩ দিন দায়িত্ব পালন করেন। তদবির করে ওই বছরই ৬ অক্টোবর গাইবান্ধায় বদলি নেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গাইবান্ধার এক ঠিকাদার বলেন, একই জেলায় দীর্ঘদিন থাকার কারণে ওই প্রকৌশলী নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। বিশেষত সব ঠিকাদারই তাঁর কাছে জিম্মি ছিলেন। কমিশন ছাড়া কোনো ফাইল সই করতেন না।
তবে ছাবিউল ইসলাম বলেন, ‘কাজ ঠিক থাকলে বিল ছাড় করা হয়। কোনো ধরনের ঘুষ নেওয়ার প্রমাণ কেউ দিতে পারবেন না।’ গাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া টাকার বিষয়ে তিনি বলেন, তাঁর বাবা মারা যাওয়ার পর জমি বিক্রির টাকা তাঁর চাচা দিয়ে গেছেন। সেগুলো তিনি বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছিলেন।
এদিকে টাকাসহ আটক হওয়ার পর ছাবিউলকে শুক্রবার বিকেলে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। গাড়ি থেকে জব্দ করা প্রায় ৩৭ লাখ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এর আগে এই ঘটনায় ছাবিউলকে নিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। সিংড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাজু আহমেদ এই ঘটনা তদন্ত করছেন।
এসআই রাজু আহমেদ বলেন, টাকাগুলো এলজিইডির কর্মকর্তা জমি বিক্রির টাকা বলে দাবি করলেও এর সমর্থনে কোনো কাগজপত্র জমা দিতে পারেননি। তাই টাকার বৈধতা নিরূপণের জন্য তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনে আবেদন পাঠিয়েছেন।
আরও খবর পড়ুন:

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী ছাবিউল ইসলাম গাইবান্ধা জেলাতেই কর্মজীবনের ২১ বছর পার করেছেন। মাঝে একবার বদলি করা হলেও ২৩ দিনের ব্যবধানে আবারও ফিরে আসেন তিনি। এই জেলায় জেঁকে বসতে এই প্রকৌশলী ব্যবহার করেছেন সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতা। এ ছাড়া জেলায় প্রভাব বিস্তার করতে দলটির সাবেক ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়াকে ‘ধর্মের বাবা’ বানিয়েছিলেন তিনি।
গত বৃহস্পতিবার ৩৭ লাখ টাকাসহ নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের চলনবিল গেট এলাকায় ছাবিউলকে আটক করে নিরাপত্তা বাহিনী। এর জেরে আলোচনায় আসেন তিনি। এরপর সাবেক ও বর্তমান কর্মস্থলের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে ছাবিউলের ‘দাপটের’ বিষয়ে জানা গেছে। স্থানীয় লোকজন বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ছাবিউলের সম্পর্কে কেউ বলতে সাহস পেত না। দলটির নেতা-কর্মীদের সঙ্গেই ছিল তাঁর সার্বক্ষণিক ওঠাবসা।
এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, ছাবিউল ইসলামের গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলায়। বর্তমানে তিনি রাজশাহী নগরের লক্ষ্মীপুরে বাড়ি করেছেন। সেখানেই বসবাস করেন। তিনি ২০০৫ সালের ২১ ডিসেম্বর উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে গাইবান্ধার সাঘাটায় যোগদান করেন। এই কর্মস্থলে টানা ১৪ বছর দায়িত্ব পালন করে পদোন্নতি পেয়ে জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রকৌশলী গাইবান্ধা জেলা কার্যালয়ে যোগ দেন। এ সময় তিনি সাঘাটা উপজেলায় (উপজেলা প্রকৌশলী) অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন।
এই সাঘাটার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ওই আসনের প্রয়াত সংসদ সদস্য ফজলে রাব্বী মিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন তিনি। ছাবিউল ইসলাম সেই সময় ফজলে রাব্বীকে ‘ধর্মবাবা’ বানান। ঠিকাদারদের নিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতেন। এ ছাড়া কোন ঠিকাদার কোন ভোট সেন্টারের খরচ বহন করবেন, তাও তিনি নির্ধারণ করে দিতেন। ২০২২ সালের ২২ জুলাই ফজলে রাব্বী মারা গেলেও তিনি আওয়ামী লীগের ছত্রচ্ছায়ায় থাকেন।
সাঘাটা উপজেলার বাসিন্দা সোহাগ মিয়া বলেন, ‘আমরা ছাবিউল ইসলামকে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে তেমন একটা চিনতাম না। ওনাকে আমরা ডেপুটি স্পিকারের বেটা হিসেবেই চিনতাম। ভোটের সময় উনি নিজেই ডেপুটি স্পিকারের জন্য মাঠে কাজ করতেন।’
এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে আরও জানা গেছে, ছাবিউল নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে ২০২১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর বরিশাল জেলায় যোগ দেন। সেখানে মাত্র ২৩ দিন দায়িত্ব পালন করেন। তদবির করে ওই বছরই ৬ অক্টোবর গাইবান্ধায় বদলি নেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গাইবান্ধার এক ঠিকাদার বলেন, একই জেলায় দীর্ঘদিন থাকার কারণে ওই প্রকৌশলী নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। বিশেষত সব ঠিকাদারই তাঁর কাছে জিম্মি ছিলেন। কমিশন ছাড়া কোনো ফাইল সই করতেন না।
তবে ছাবিউল ইসলাম বলেন, ‘কাজ ঠিক থাকলে বিল ছাড় করা হয়। কোনো ধরনের ঘুষ নেওয়ার প্রমাণ কেউ দিতে পারবেন না।’ গাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া টাকার বিষয়ে তিনি বলেন, তাঁর বাবা মারা যাওয়ার পর জমি বিক্রির টাকা তাঁর চাচা দিয়ে গেছেন। সেগুলো তিনি বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছিলেন।
এদিকে টাকাসহ আটক হওয়ার পর ছাবিউলকে শুক্রবার বিকেলে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। গাড়ি থেকে জব্দ করা প্রায় ৩৭ লাখ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এর আগে এই ঘটনায় ছাবিউলকে নিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। সিংড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাজু আহমেদ এই ঘটনা তদন্ত করছেন।
এসআই রাজু আহমেদ বলেন, টাকাগুলো এলজিইডির কর্মকর্তা জমি বিক্রির টাকা বলে দাবি করলেও এর সমর্থনে কোনো কাগজপত্র জমা দিতে পারেননি। তাই টাকার বৈধতা নিরূপণের জন্য তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনে আবেদন পাঠিয়েছেন।
আরও খবর পড়ুন:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুরের চারটি আসনের প্রার্থীদের মধ্যে চারজন কোটিপতি। তাঁরা হচ্ছেন স্বতন্ত্র আবুল বাসার খান, জামায়াতের ড. ইলিয়াস মোল্যা, বিএনপির শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান মোল্যা। এর মধ্যে প্রথম দুজন ফরিদপুর-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
১ ঘণ্টা আগে
কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে না পারা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বান্দরবানে জামায়াতের জয় ঠেকাতে বিএনপিকে সমর্থন দিতে পারে। বিএনপি এবার পাশে পাচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিকেও (জেএসএস)।
১ ঘণ্টা আগে
৭০ বছর বয়সী জাবেরুন নেছা। রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করে সারা জীবনের অর্জিত অর্থ দিয়ে নিজের নামে এক কাঠা ও ছেলের নামে দুই কাঠা জমি কিনেছিলেন। ১৭ বছর আগে কেনা সেই জমি এখন হাতছাড়া হওয়ার পথে।
২ ঘণ্টা আগে
বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ গেটসংলগ্ন রেললাইন এখন কার্যত রেলওয়ের নিয়ন্ত্রণে নেই। সরকারি বিধি, রেলওয়ে আইন ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে উপেক্ষা করে রেললাইনের গা ঘেঁষে গড়ে উঠেছে স্থায়ী ও অস্থায়ী অসংখ্য দোকান। এমনকি পরিত্যক্ত রেললাইনের ওপর দোকানঘর নির্মাণ করে নিয়মিত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
২ ঘণ্টা আগে