Ajker Patrika

সিরাজদিখানে সেতুর কাজ দ্রুত শেষ করার দাবিতে মানববন্ধন

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি
সিরাজদিখানে সেতুর কাজ দ্রুত শেষ করার দাবিতে মানববন্ধন
মোল্লাবাজার সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মানববন্ধন। ছবি: আজকের পত্রিকা

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের মোল্লাবাজার সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিনেও সেতুর কাজ শেষ না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। আজ শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের খাসমহল চৌরাস্তায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ধলেশ্বরী শাখা নদীর ওপর নির্মাণাধীন মোল্লাবাজার সেতুর কাজ ২০১৮ সালে শুরু হলেও প্রায় আট বছরেও তা শেষ হয়নি। একাধিকবার সময়সীমা বাড়ানো হলেও বাস্তবে কাজের অগ্রগতি অত্যন্ত ধীর। বর্তমানে প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হলেও মূল সেতুর গুরুত্বপূর্ণ অংশ এখনো বাকি রয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে নির্মাণকাজ প্রায় বন্ধ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৫২ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটি নির্মাণের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হওয়ায় সম্প্রতি ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। তবে নতুন করে কাজ কবে শুরু হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ইটভাটার মালিকদের ফেরি চলাচল, প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ, নকশাগত জটিলতা ও সমন্বয়হীনতার কারণে প্রকল্পটি বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নদীর মাঝখানে কাজ শুরু করলেও ইটবাহী ট্রলার চলাচলের কারণে তা বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

বক্তারা আরও বলেন, সেতুটি চালু হলে মুন্সিগঞ্জের চারটি উপজেলার মানুষের ঢাকায় যাতায়াত সহজ হবে। বর্তমানে বিকল্প সড়ক দিয়ে ঢাকায় যেতে প্রায় ৪২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয় এবং সময় লাগে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা। অথচ সেতুটি চালু হলে মাত্র ৩০ মিনিটেই ঢাকায় পৌঁছানো সম্ভব হবে।

মোল্লাবাজার সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মানববন্ধন। ছবি: আজকের পত্রিকা
মোল্লাবাজার সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মানববন্ধন। ছবি: আজকের পত্রিকা

এদিকে সেতুর কাজ শেষ না হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে ট্রলার ও দেশীয় ফেরিতে নদী পারাপার করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জনপ্রতি পাঁচ টাকা ও মোটরসাইকেল ২০ টাকা ভাড়ায় পারাপার করতে হচ্ছে। ফেরির জন্য ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলেও জানান তাঁরা।

মানববন্ধন থেকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এ ছাড়া সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কেরানীগঞ্জ এলজিইডি কর্মকর্তার কাছেও স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

কর্মসূচিতে বক্তারা পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো, আগামী ছয় মাসের মধ্যে সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা, সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা, নতুন সময়সীমা নির্ধারণ ও প্রকাশ করা, কাজের গুণগত মান নিশ্চিতে মনিটরিং টিম গঠন এবং বিকল্প যাতায়াতব্যবস্থা নিরাপদ করা।

বক্তারা বলেন, সেতুটি চালু হলে যোগাযোগ, শিক্ষা ও স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। কিন্তু দীর্ঘসূত্রতার কারণে প্রকল্পটি ঝুলে থাকায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। তাই দ্রুত সেতুর কাজ সম্পন্নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত আইসিটি কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম, নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জমির হোসেন, সমাজসেবক সাহাব উদ্দিন বাদল, বালুচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজি মো. আওলাদ হোসেন, সমাজসেবক আব্দুল মতিন, মো. মোশারফ হোসেন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সহস্রাধিক মানুষ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি পায়নি বাংলার জয়যাত্রা, শারজা বন্দরে ফিরে যাচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের শীর্ষ ৫২ জনই নিহত

ফ্রান্সের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ইতালির রাজকুমারীর প্রেমের গুঞ্জন

বিমানবন্দরে ৮৩ লাখ টাকার স্বর্ণ, ৯ হাজার ডলারসহ হজ কাফেলার মোয়াল্লেম গ্রেপ্তার

আপনার জিজ্ঞাসা: হজের সময় ঋতুস্রাব শুরু হলে নারীদের করণীয়

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত