
প্রশ্ন: হজ পালনের সময় যদি নারীদের ঋতুস্রাব শুরু হয়, তাহলে করণীয় কী? এ বিষয়ে ইসলামের বিধান জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।
আসমা বিনতে নুর, চট্টগ্রাম
উত্তর: হজে নারীদের ঋতুস্রাব বা হায়েজ শুরু হওয়া একটি স্বাভাবিক বিষয়। এ নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়া বা নিজেকে ইবাদত থেকে বঞ্চিত মনে করার কোনো কারণ নেই। শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে এ অবস্থায় করণীয় ও বিধানসমূহ নিচে সবিস্তারে আলোচনা করা হলো:
হজের মূল আমলগুলো পাঁচ দিনে পাঁচটি স্থানে সম্পন্ন করতে হয়। ইহরাম বাঁধার পর কোনো নারীর পিরিয়ড শুরু হলে তিনি তাওয়াফে জিয়ারত বাদে হজের বাকি সব আমল যথানিয়মে পালন করবেন। হায়েজের কারণে তাওয়াফ বিলম্বিত হলে কোনো গুনাহ হবে না। পবিত্র হওয়ার পর গোসল করে তাওয়াফ করে নেবেন।
তবে যদি হায়েজ বন্ধ হওয়ার আগেই ফেরার ফ্লাইটের সময় হয়ে যায় এবং মক্কায় অবস্থান করা অসম্ভব হয়, তবে বাধ্য হয়ে ওই অবস্থাতেই তাওয়াফে জিয়ারত করে নেবেন। তবে এ জন্য কাফফারা হিসেবে একটি দম (পশু জবাই) দিতে হবে। (রদ্দুল মুহতার: ২ / ৫১৮)
হায়েজ অবস্থায় যা যা করা যাবে
ক. আরাফাতের ময়দানে অবস্থান (উকুফে আরাফা)। খ. মুজদালিফায় অবস্থান। গ. মিনায় অবস্থান ও শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ (রমি)। ঘ. সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে সায়ি করা। ঙ. তিলাওয়াত ছাড়া সব ধরনের জিকির-আজকার, দরুদ শরিফ ও দোয়া পাঠ।
হায়েজ অবস্থায় যা করা যাবে না
ক. পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তাওয়াফ করা যাবে না। খ. মসজিদুল হারামের ভেতরে প্রবেশ করা যাবে না। গ. তিলাওয়াত করা যাবে না।
ওষুধ খেয়ে ঋতু বন্ধ রাখার বিধান
হজের সফর নির্বিঘ্ন করতে কোনো নারী যদি অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ খেয়ে পিরিয়ড বন্ধ রাখেন এবং হজের কাজ সম্পন্ন করেন, তবে শরয়ি দৃষ্টিতে এতে কোনো বাধা নেই। (ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া: ১৫ / ৪৯১)
ওমরাহ পালনের ক্ষেত্রে বিধান
ওমরাহর প্রধান রুকন হলো তাওয়াফ। ওমরাহ করতে গিয়ে কোনো নারীর পিরিয়ড শুরু হলে তিনি পবিত্র হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন। যদি পবিত্র হওয়ার আগেই ফেরার সময় হয়ে যায়, তবে অপবিত্র অবস্থায়ই তাওয়াফ ও সায়ি করে চুল কেটে হালাল হয়ে যাবেন।
এ ক্ষেত্রে অপবিত্র অবস্থায় তাওয়াফ করার কারণে কাফফারা হিসেবে হারাম এলাকায় একটি ‘দম’ দিতে হবে।
তথ্যসূত্র: ফাতাওয়ায়ে শামি, ফাতাওয়ায়ে তাতারখানিয়া, আসান ফিকাহ, সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম
উত্তর দিয়েছেন: মুফতি শাব্বির আহমাদ, ইসলাম বিষয়ক গবেষক

পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর জন্য ত্যাগ, আনুগত্য ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের এক অনন্য উৎসব। সামর্থ্যবান মুসলমানদের ওপর পশু কোরবানি করা ওয়াজিব। তবে অনেক সময় আর্থিক সংকটের কারণে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে—কোরবানির জন্য পর্যাপ্ত নগদ অর্থ না থাকলে ঋণ করে কোরবানি করা যাবে কি? এই কোরবানি কি বৈধ হবে?
৭ ঘণ্টা আগে
ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ। মুসলমানদের জীবনে পবিত্র ঈদুল আজহা বয়ে আনে এক অনন্য ত্যাগ ও আনন্দের বার্তা। কোরবানি একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ হলো—নৈকট্য লাভ, উৎসর্গ করা, আত্মত্যাগ কিংবা প্রিয়ভাজন হওয়া। শরিয়তের পরিভাষায়, সামর্থ্যবান ব্যক্তির নির্দিষ্ট সময়ে নির্ধারিত পশু আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে...
৯ ঘণ্টা আগে
কোরবানি আল্লাহর পছন্দনীয় আমল। এ জন্য যুগে যুগে পৃথিবীতে আগমনকারী সব উম্মতের ওপর কোরবানির বিধান দেওয়া হয়েছিল। কোরবানি যেহেতু আল্লাহর নামে পশু জবাইয়ের মাধ্যমে পালন করতে হয়, এ জন্য পশু নির্বাচনের ক্ষেত্রে শরিয়ত কিছু সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে।
১২ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১৭ ঘণ্টা আগে