
বিশ্বজুড়ে প্রতি সাতজন মানুষের মধ্যে একজন মাইগ্রেনে আক্রান্ত। গাল, চোয়াল, কপাল বা চোখের পেছনে ব্যথা বা চাপ এই রোগের সাধারণ উপসর্গ। অনেক সময় সামান্য স্পর্শেও এই ব্যথা চরম আকার ধারণ করতে পারে। মাইগ্রেনে আক্রান্ত ব্যক্তিদের এক-তৃতীয়াংশের ক্ষেত্রেই প্রচলিত চিকিৎসা কাজে আসে না। ১ এপ্রিল যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত ‘অক্সফোর্ড গ্লিমফ্যাটিক অ্যান্ড ব্রেন ক্লিয়ারেন্স সিম্পোজিয়াম’-এ নিজের গবেষণা উপস্থাপনের সময় ইউনিভার্সিটি অব আইওয়া’র আদ্রিয়ানা দেলা পিয়েত্রা বলেন, ‘মাইগ্রেনে আক্রান্ত অনেকের জন্য চুল আঁচড়ানোও যন্ত্রণাদায়ক হয়ে ওঠে।’
তবে এক গবেষণা বলছে, মস্তিষ্কের নিজস্ব ‘পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থা’ বা ক্লিনিং সিস্টেমকে কাজে লাগিয়ে মাইগ্রেন চিকিৎসার নতুন পথ উন্মোচিত হতে পারে।
নিউসায়েন্টিস্টের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসায় ব্যবহৃত একটি ওষুধ ইঁদুরের মস্তিষ্কে মাইগ্রেন সৃষ্টিকারী একটি শক্তিশালী রাসায়নিক উপাদান কার্যকরভাবে অপসারণে সহায়তা করেছে। এর ফলে ইঁদুরগুলোর মধ্যে মুখের ব্যথার লক্ষণ কম দেখা গেছে। উল্লেখ্য, মাইগ্রেন আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রায় ৬০ শতাংশই তীব্র ব্যথার সময় মুখের এই সমস্যায় ভোগেন।
বর্তমানে মাইগ্রেনের চিকিৎসায় মূলত ট্রিপটান জাতীয় ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহার করা হয়। ধারণা করা হয়, এগুলো প্রদাহ কমায় এবং ‘ক্যালসিটোনিন জিন-রিলেটেড পেপটাইড’ (সিজিআরপি) নামক এক ধরনের নিউরোট্রান্সমিটারের মাত্রা কমিয়ে দেয়। সিজিআরপি মাইগ্রেনের অন্যতম প্রধান কারণ এবং বর্তমানের শক্তিশালী থেরাপিগুলো এই উপাদানটিকেই লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়।
এই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত না থাকা ইউনিভার্সিটি অব ব্রিস্টলের গবেষক ভ্যালেন্টিনা মোসিয়েঙ্কো বলেন, ‘অনেক রোগীই প্রচলিত ওষুধে সুস্থ হন না। প্রায়ই তাঁদের কয়েক দিন ধরে নরকযন্ত্রণা সহ্য করতে হয় এবং তাঁরা দৈনন্দিন কাজও করতে পারেন না।’
গবেষকরা এর আগে এক পরীক্ষায় দেখেছিলেন যে, উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসায় অনুমোদিত প্রাজোসিন (Prazosin) ইঁদুরের মস্তিষ্কের আঘাতজনিত কারণে সৃষ্ট মুখের ব্যথা উপশম করে। এ ধরনের আঘাত মস্তিষ্কের বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থা বা ‘গ্লিমফ্যাটিক সিস্টেম’-এর ক্ষতি করে। প্রাজোসিন মূলত মস্তিষ্কের কোষ থেকে বর্জ্য তরল বের করে দেওয়ার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। গবেষকরা লক্ষ্য করেন, নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষার জন্য রাখা মাইগ্রেন আক্রান্ত ইঁদুরগুলোও এই ওষুধে উপকৃত হচ্ছে।
বিষয়টি আরও গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে গবেষক দলটি একটি দলভুক্ত ইঁদুরকে ছয় সপ্তাহ ধরে প্রাজোসিন মেশানো জল পান করান। অন্য দলটিকে দেওয়া হয় সাধারণ জল। এরপর সব ইঁদুরের দেহে সিজিআরপি ইনজেকশন দিয়ে মাইগ্রেন তৈরি করা হয়।
৩০ মিনিট পর গবেষকেরা ইঁদুরগুলোর কপালে বিভিন্ন পুরুত্বের প্লাস্টিকের সুতা দিয়ে মৃদু খোঁচা দেন। সাধারণ অবস্থায় এগুলো যন্ত্রণাদায়ক না হলেও সুতা যত পুরু হয়, অনুভূতি তত স্পষ্ট হয়। পরীক্ষায় দেখা গেছে, প্রাজোসিন নেওয়া ইঁদুরগুলো সাধারণ ইঁদুরের তুলনায় অনেক বেশি পুরু সুতার খোঁচাতেও ভ্রুক্ষেপ করেনি। দেলা পিয়েত্রার মতে, প্রাজোসিন পাওয়া ইঁদুরগুলোর আচরণ সুস্থ ইঁদুরের মতোই ছিল।
পরবর্তী বিশ্লেষণে দেখা যায়, সিজিআরপির কারণে গ্লিমফ্যাটিক সিস্টেমের যে ক্ষতি হয়েছিল, প্রাজোসিন তা সারিয়ে তুলেছে। এর ফলে ব্যথার সংকেত বহনকারী মলিকিউল বা অণুগুলো দ্রুত মস্তিষ্ক থেকে অপসারিত হয়েছে বলে মনে করছেন দেলা পিয়েত্রা।
গবেষকরা এখন মানুষের ওপর এর কার্যকারিতা পরীক্ষা করতে চান। গবেষক মোসিয়েঙ্কো বলেন, ‘যদি মানুষের ক্ষেত্রেও এটি কার্যকর হয়, তবে তা হবে এক দারুণ সাফল্য। যেহেতু ওষুধটি আগে থেকেই মানুষের ব্যবহারের জন্য নিরাপদ হিসেবে স্বীকৃত, তাই এর প্রয়োগ সহজ হতে পারে।’

দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে আজ বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৮৬৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
১ দিন আগে
ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা তরী। নিজের কাজগুলো নিজেই করতে পছন্দ করেন। তবে ইদানীং কিছু বিষয় নিয়ে বেশ সমস্যায় পড়ছেন তিনি। রান্নাঘরে গিয়ে কেন গিয়েছিলেন, মনে পড়ছে না। কাউকে কল দিতে ফোন হাতে নিয়েছেন, কিন্তু মনে পড়ছে না কাকে কল দেবেন। কিছু খুঁজতে পাশের ঘরে গেছেন, সেখানে গিয়ে ভুলে গেছেন, কী খুঁজতে এসেছেন।
১ দিন আগে
হামের পাশাপাশি দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল সোমবার সকাল ৮টা থেকে আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৮৭২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
২ দিন আগে
ডেঙ্গু রোগীর জ্বর ভালো হয়ে গেলেও তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছাড় দেওয়া যাবে না। জ্বর কমার পর ডেঙ্গুর একটি পর্যায়ে রক্তের প্লাজমা লিকেজ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ জন্য ডেঙ্গু রোগীদের অন্তত চার দিন পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। প্রয়োজনে হাসপাতালের গেট বন্ধ রেখে নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ করে রোগীদের পর্যবেক্ষণে রাখার নির্দেশনা
২ দিন আগে