Ajker Patrika

কুষ্টিয়ার-১ ও ৩: বিএনপি দুর্গ পুনরুদ্ধারে মরিয়া, বাধা জামায়াত

  • আসন দুটিতে ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সংসদ নির্বাচনে টানা জয় পায় বিএনপি।
  • কুষ্টিয়া-১ আসনে বিএনপির মূল প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী, সঙ্গে বাড়তি চ্যালেঞ্জ বিদ্রোহী প্রার্থী।
  • কুষ্টিয়া-২ আসনে দাঁড়িপাল্লা নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থী।
দেবাশীষ দত্ত, কুষ্টিয়া তামিম আদনান, দৌলতপুর
কুষ্টিয়ার-১ ও ৩: বিএনপি দুর্গ পুনরুদ্ধারে মরিয়া, বাধা জামায়াত

কুষ্টিয়ার চারটি সংসদীয় আসনই একসময় বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে শক্ত ঘাঁটি ছিল কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) ও কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে। কিন্তু ২০০৮ সালে নির্বাচনে বেহাত হওয়া আসন দুটি আওয়ামী লীগের দখলে চলে যায়। এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই দুই আসন পুনরুদ্ধারে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন ধানের শীষের প্রার্থীরা।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগে না থাকলেও বিএনপির সেই লড়াইয়ে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। এর সঙ্গে কুষ্টিয়া-১ আসনে বিএনপিকে আরও বেগ পেতে হচ্ছে দলের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থীকে নিয়ে। ফলে শেষ সময়ে ভোটার টানতে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থীরা।

জানা গেছে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৩ আসনে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জেলা বিএনপির সদস্যসচিব জাকির হোসেন সরকার। অন্যদিকে জামায়াতে যোগ দিয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইসলামিক বক্তা আমির হামজা। আসনটিতে এই দুই প্রার্থীর মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ভোটাররা মনে করছেন।

এই আসনে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা ছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মো. আবদুল্লাহ আখন্দ, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির (বিআরপি) হাতি প্রতীকে মোছা. রুম্পা খাতুন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) মীর নাজমুল ইসলাম মই প্রতীকে এবং গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) ট্রাক প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোহা. শরিফুল ইসলাম।

সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এবং ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কুষ্টিয়া সদরে ধানের শীষের প্রার্থী জাকির হোসেন সরকারের সঙ্গে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী আমির হামজার দ্বিমুখী লড়াই হতে যাচ্ছে। এরই মধ্যে বিএনপি, জামায়াতসহ অন্যান্য দলের প্রার্থী এবং তাঁদের কর্মী-সমর্থকেরা কাকডাকা ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত নিজ নিজ প্রার্থীর পক্ষে বেশ জোরেশোরেই প্রচার চালাচ্ছেন।

বিএনপির নেতা-কর্মীরা জানান, দলীয় কোন্দল নিরসন হওয়ায় এবং মনোনয়নপ্রত্যাশী সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিনের সমর্থন পাওয়ায় বর্তমানে বিএনপির প্রার্থীর অবস্থান ভালো রয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের একটি অংশও জাকির সরকারের পক্ষে রয়েছেন।

অন্যদিকে ইসলামি বক্তা আমির হামজা বয়সেও তরুণ। এই প্রথম তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন। বক্তা হিসেবে তাঁর জনপ্রিয়তা রয়েছে। ফলে তিনিও ভোটের মাঠে ভালো অবস্থানে রয়েছে।

কুষ্টিয়া-৩ আসনে বিএনপি অনেকটা নির্ভার থাকলেও কুষ্টিয়া-১ আসনে দলের বিদ্রোহী ও জামায়াতের প্রার্থী ঘিরে সমীকরণ জটিল হয়ে উঠেছে। এই আসনে বিএনপির প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। পাশাপাশি বিএনপির এক স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থী দলটির জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছেন। তবে এসব বিষয়কে খুব বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে না বিএনপি।

দলটির নেতা-কর্মীদের দাবি, কুষ্টিয়া-১ আসন ঐতিহাসিকভাবে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ভোট কারচুপির কারণে আসনটি হাতছাড়া হলেও এবার তা পুনরুদ্ধারে দলটি সাংগঠনিকভাবে কাজ করছে।

জানা গেছে, আসনটিতে এবারের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা (বিএনপি), দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মাওলানা বেলাল উদ্দিন (জামায়াতে ইসলামী), মোটরসাইকেল প্রতীকে নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা (স্বতন্ত্র), লাঙ্গল প্রতীকে শাহরিয়ার জামিল (জাতীয় পার্টি), হাতপাখা প্রতীকে আমিনুল ইসলাম (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), ট্রাক প্রতীকে শাহাবুল ইসলাম (গণঅধিকার পরিষদ), মোমবাতি প্রতীকে বদিরুজ্জামান (বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট) এবং তারা প্রতীকে গিয়াস উদ্দিন (জেএসডি) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

বিএনপির নেতা-কর্মী ও ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপির দলীয় প্রার্থী, স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাঠে থাকায় ভোট ভাগাভাগির আশঙ্কা রয়েছে।

জানা গেছে, কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে ১৯৯১ সাল থেকে চারটি সংসদ নির্বাচনে টানা জয় পান বিএনপির প্রার্থী আহসানুল হক মোল্লা। তাঁর মৃত্যুর পর ২০০৪ সালের উপনির্বাচনে তাঁর ছেলে রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে ধানের শীষের সেই ঘাঁটি ভাঙে আওয়ামী লীগ।

অপর দিকে ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনের আগপর্যন্ত কুষ্টিয়া-৩ আসন বিএনপির দুর্গ হিসেবে ছিল। আসনটিতে ১৯৯১ সাল থেকে ২০০১ পর্যন্ত টানা চারবার বিএনপির প্রার্থীরা বিজয়ী হন। কিন্তু ২০০৮-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে এমপি নির্বাচিত হন খন্দকার রশীদুজ্জামান দুদু। তাঁর মৃত্যুর পর দশম

জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে সর্বশেষ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত টানা তিন মেয়াদে এখানকার সংসদ সদস্য ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা মাহবুব উল আলম হানিফ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

মাথায় গুলিবিদ্ধ জুলাই যোদ্ধা আশরাফুল মারা গেছেন

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পর সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে ভারত-আওয়ামী লীগ বিদ্বেষ তীব্র হয়: সাবেক সেনাপ্রধানের জবানবন্দি

ঢাকা–১৮ আসনে নির্বাচন না করার ঘোষণা মাহমুদুর রহমান মান্নার

আইসিসি-পিসিবির সঙ্গে জরুরি মিটিংয়ে হঠাৎ লাহোরে বিসিবি সভাপতি

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: শেষ সময়ে এমপিওর তোড়জোড়

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত