
কুষ্টিয়ার চারটি সংসদীয় আসনই একসময় বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে শক্ত ঘাঁটি ছিল কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) ও কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে। কিন্তু ২০০৮ সালে নির্বাচনে বেহাত হওয়া আসন দুটি আওয়ামী লীগের দখলে চলে যায়। এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই দুই আসন পুনরুদ্ধারে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন ধানের শীষের প্রার্থীরা।
নির্বাচনে আওয়ামী লীগে না থাকলেও বিএনপির সেই লড়াইয়ে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। এর সঙ্গে কুষ্টিয়া-১ আসনে বিএনপিকে আরও বেগ পেতে হচ্ছে দলের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থীকে নিয়ে। ফলে শেষ সময়ে ভোটার টানতে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থীরা।
জানা গেছে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৩ আসনে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জেলা বিএনপির সদস্যসচিব জাকির হোসেন সরকার। অন্যদিকে জামায়াতে যোগ দিয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইসলামিক বক্তা আমির হামজা। আসনটিতে এই দুই প্রার্থীর মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ভোটাররা মনে করছেন।
এই আসনে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা ছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মো. আবদুল্লাহ আখন্দ, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির (বিআরপি) হাতি প্রতীকে মোছা. রুম্পা খাতুন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) মীর নাজমুল ইসলাম মই প্রতীকে এবং গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) ট্রাক প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোহা. শরিফুল ইসলাম।
সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এবং ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কুষ্টিয়া সদরে ধানের শীষের প্রার্থী জাকির হোসেন সরকারের সঙ্গে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী আমির হামজার দ্বিমুখী লড়াই হতে যাচ্ছে। এরই মধ্যে বিএনপি, জামায়াতসহ অন্যান্য দলের প্রার্থী এবং তাঁদের কর্মী-সমর্থকেরা কাকডাকা ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত নিজ নিজ প্রার্থীর পক্ষে বেশ জোরেশোরেই প্রচার চালাচ্ছেন।
বিএনপির নেতা-কর্মীরা জানান, দলীয় কোন্দল নিরসন হওয়ায় এবং মনোনয়নপ্রত্যাশী সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিনের সমর্থন পাওয়ায় বর্তমানে বিএনপির প্রার্থীর অবস্থান ভালো রয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের একটি অংশও জাকির সরকারের পক্ষে রয়েছেন।
অন্যদিকে ইসলামি বক্তা আমির হামজা বয়সেও তরুণ। এই প্রথম তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন। বক্তা হিসেবে তাঁর জনপ্রিয়তা রয়েছে। ফলে তিনিও ভোটের মাঠে ভালো অবস্থানে রয়েছে।
কুষ্টিয়া-৩ আসনে বিএনপি অনেকটা নির্ভার থাকলেও কুষ্টিয়া-১ আসনে দলের বিদ্রোহী ও জামায়াতের প্রার্থী ঘিরে সমীকরণ জটিল হয়ে উঠেছে। এই আসনে বিএনপির প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। পাশাপাশি বিএনপির এক স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থী দলটির জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছেন। তবে এসব বিষয়কে খুব বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে না বিএনপি।
দলটির নেতা-কর্মীদের দাবি, কুষ্টিয়া-১ আসন ঐতিহাসিকভাবে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ভোট কারচুপির কারণে আসনটি হাতছাড়া হলেও এবার তা পুনরুদ্ধারে দলটি সাংগঠনিকভাবে কাজ করছে।
জানা গেছে, আসনটিতে এবারের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা (বিএনপি), দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মাওলানা বেলাল উদ্দিন (জামায়াতে ইসলামী), মোটরসাইকেল প্রতীকে নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা (স্বতন্ত্র), লাঙ্গল প্রতীকে শাহরিয়ার জামিল (জাতীয় পার্টি), হাতপাখা প্রতীকে আমিনুল ইসলাম (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), ট্রাক প্রতীকে শাহাবুল ইসলাম (গণঅধিকার পরিষদ), মোমবাতি প্রতীকে বদিরুজ্জামান (বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট) এবং তারা প্রতীকে গিয়াস উদ্দিন (জেএসডি) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
বিএনপির নেতা-কর্মী ও ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপির দলীয় প্রার্থী, স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাঠে থাকায় ভোট ভাগাভাগির আশঙ্কা রয়েছে।
জানা গেছে, কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে ১৯৯১ সাল থেকে চারটি সংসদ নির্বাচনে টানা জয় পান বিএনপির প্রার্থী আহসানুল হক মোল্লা। তাঁর মৃত্যুর পর ২০০৪ সালের উপনির্বাচনে তাঁর ছেলে রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে ধানের শীষের সেই ঘাঁটি ভাঙে আওয়ামী লীগ।
অপর দিকে ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনের আগপর্যন্ত কুষ্টিয়া-৩ আসন বিএনপির দুর্গ হিসেবে ছিল। আসনটিতে ১৯৯১ সাল থেকে ২০০১ পর্যন্ত টানা চারবার বিএনপির প্রার্থীরা বিজয়ী হন। কিন্তু ২০০৮-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে এমপি নির্বাচিত হন খন্দকার রশীদুজ্জামান দুদু। তাঁর মৃত্যুর পর দশম
জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে সর্বশেষ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত টানা তিন মেয়াদে এখানকার সংসদ সদস্য ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা মাহবুব উল আলম হানিফ।

জাতীয় পার্টির (জাপা) একসময়ের শক্ত ঘাঁটি ছিল গাইবান্ধা। জেলার পাঁচটি আসনের সব কটিই দলটির দখলে ছিল। তবে সেটি এখন ইতিহাস। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, বর্তমানে এখানে দৃশ্যত অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে দলটি।
৩৫ মিনিট আগে
‘আমি এমপি প্রার্থী হাবিবা। ভাইস চেয়ারম্যান দাঁড়ানু না দাদু আমি? ওই হাবিবা আমি। ভাইস চেয়ারম্যান হওয়ার পরে তো চেয়ার কাইড়ে নিল। দয়া করে আমার ফুটবল মার্কায় ভোটটা দিয়েন।’ এভাবেই মানুষের কাছে ভোট চাইছেন রাজশাহী-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবা বেগম।
৩৯ মিনিট আগে
আসন্ন সংসদ নির্বাচনে রংপুর বিভাগের আট জেলার ৩৩টি আসনে মোট প্রার্থী ২৩৪ জন। একসময় জাতীয় পার্টির ঘাঁটিখ্যাত এই বিভাগে এবার তাদের অবস্থান অনেকটাই দুর্বল বলে জানিয়েছেন ভোটাররা। বেশির ভাগ আসনে এবার বিএনপি-জামায়াত দ্বিমুখী লড়াই হওয়ার আভাস দিচ্ছেন এলাকার মানুষ।
১ ঘণ্টা আগে
রাজধানীর কলতাবাজার পানির পাম্প এলাকার ভাড়া মেস থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) এক নারী শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত শিক্ষার্থীর নাম রাকিবা সুলতানা (২০)। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
২ ঘণ্টা আগে