Ajker Patrika

জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে তৈরি হবে ‘ক্রিয়েটিভ হাব’

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১১ জুন ২০২৬, ১৯: ০০
জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে তৈরি হবে ‘ক্রিয়েটিভ হাব’

জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে সরকার ‘ক্রিয়েটিভ হাব’ তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে এবারের বাজেটে। এই হাবে থাকবে মিলনায়তন, বইয়ের দোকান, সিনেপ্লেক্স, ছোট ক্যাফেটেরিয়া এবং বিশেষ সৃজনশীল পণ্য প্রদর্শন ও বিপণনের ব্যবস্থা।

আজ বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বরাদ্দ প্রস্তাব করেন। এবারের বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি খাতের উন্নয়নে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া এই খাতে বংলাদেশ ব্যাংকের সিএসআর খাত থেকে আরও ৫০০ কোটি টাকার তহবিল সংগ্রহ করা হবে। সেখানে ক্রিয়েটিভ অর্থনীতির বিকাশে সৃজনশীল খাতকে আলাদা করে গুরুত্ব দিয়েছে সরকার।

ক্রিয়েটিভ শিল্পের বিশাল অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে উন্মুক্ত করার মাধ্যমে অর্থনীতির মূল ধারায় সম্পৃক্ত করার কথা বলা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বয়ের মাধ্যমে উদ্যোগ গ্রহণে কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে, যা সংস্কৃতি খাতকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

বাজেট বক্তৃতায় বলা হয়েছে, দেশজুড়ে আঞ্চলিক সৃজনশীল হাব গড়ে তুলতে ১০ বছরের বিনিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ঢাকার পূর্বাচলে ১৬০ একর জায়গার ওপর সেন্ট্রাল ক্রিয়েটিভ হাব করার পরিকল্পনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া কারওয়ান বাজার ও তেজগাঁওয়ে ক্রিয়েটিভ হাব করা হতে পারে। বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এবং শিশু একাডেমি ও শিল্পকলা একাডেমি চত্বরেও ক্রিয়েটিভ হাব স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সৃজনশীল পণ্য নির্দিষ্ট বা চিহ্নিত করতেও উদ্যোগ নেবে সরকার। তাঁতশিল্প, মৃৎশিল্প, বুননশিল্প, শীতলপাটি, শতরঞ্জি, কাঠের খেলনা, হাতে তৈরি গয়না, টেরাকোটাসহ আরও অনেক পণ্য চিহ্নিত করা হবে।

এই খাতে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, অঞ্চলভিত্তিক সমৃদ্ধ ঐতিহ্য এবং ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক পর্যটন বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষ করে, ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা রেস্টোরেশন করে আন্তর্জাতিক উৎসব করা হবে।

নতুন প্রজন্মের প্রতিভা বিকাশে জাতীয় পর্যায়ের ঐতিহ্যবাহী ‘নতুন কুঁড়ি’ ও ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ প্রতিযোগিতাকে আধুনিক ও সম্প্রসারিত করে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাতীয়, সাংস্কৃতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন উৎসব আয়োজনে ক্যালেন্ডার প্রস্তুত করা হয়েছে। যেমন—শীতের পিঠা উৎসব, বাউল উৎসব, উত্তরবঙ্গের জামাই মেলা, নদী ও সভ্যতাকে কেন্দ্র করে উৎসব ইত্যাদি।

ক্রিয়েটিভ পণ্য বিপণনেও সহায়তা দেবে সরকার। বাংলাদেশি কনটেন্ট নির্মাতাদের বিশ্ববাজারে ঢুকতে সহায়তা দেওয়া হবে। থিয়েটার ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ব্যাপকভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করবে সরকার। চলচ্চিত্রশিল্পের উন্নয়নের জন্য মানসম্পন্ন স্টুডিও করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত