
ইরানের শাসকগোষ্ঠীর কাছে হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখাটা ট্রাম্প প্রশাসনের দেওয়া হাজার কোটি ডলারের নিষেধাজ্ঞা মওকুফের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এর কারণ হলো—তেহরান আসলে একটি দীর্ঘমেয়াদি খেলা খেলছে। ইরানি কর্মকর্তাদের বিশ্বাস, গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল তাদের মূল লক্ষ্যগুলো অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার পর অবশেষে ইরান একটি আঞ্চলিক পরাশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
তেহরান যদি এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে স্থায়ী ব্যবস্থা নিশ্চিত করার মাধ্যমে নিজের এই নতুন অবস্থানকে পাকাপোক্ত করতে পারে এবং সেই সঙ্গে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনীতিগুলোর ওপর আধিপত্য বজায় রাখতে পারে—তাহলে বাকি সবকিছু—যার মধ্যে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা মওকুফও রয়েছে—এমনিতেই হাতের মুঠোয় চলে আসবে।
ইরানি পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ‘একটাই মাত্র পথ খোলা আছে—হরমুজ প্রণালিতে ইরানের তৈরি নতুন শৃঙ্খলাকে মেনে নেওয়া।’ একই ধরনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পার্লামেন্টের স্পিকার এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার প্রধান মধ্যস্থতাকারী মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি বলেছেন, ‘হরমুজ প্রণালি কেবল ইরানি ব্যবস্থার মাধ্যমেই উন্মুক্ত হবে, আমেরিকার হুমকিতে নয়।’
এই মনোভাব এক অশান্ত ভবিষ্যতেরই ইঙ্গিত দেয়। যেখানে নিয়মিত সহিংসতা, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ক্রমাগত অনিশ্চয়তা এবং উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলোর ওপর নতুন করে হামলার এক খাপ খোলা তলোয়ারের মতো আতঙ্ক বজায় থাকবে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংক ট্যাংক কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের ইরান বিষয়ক বিশেষজ্ঞ করিম সাদজাদপুর বলেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্রটি আরও বেশি করে গুণ্ডা শাসকগোষ্ঠীতে পরিণত হতে যাচ্ছে। এই যুদ্ধ থেকে তাদের শিক্ষা হলো—জোর খাটিয়েই ছাড় আদায় করা যায়। এর মধ্যে রয়েছে—প্রতিবেশীদের ওপর হামলা চালানো, হরমুজ প্রণালিকে হুমকির মুখে ফেলা এবং তেলের দাম বাড়ানো। পুতিনের রাশিয়ার মতোই, এই ইসলামি প্রজাতন্ত্র বিশ্বাস করে—তাদের নিরাপত্তা নিজেদের জনগণের সমৃদ্ধির ওপর নয়, বরং প্রতিবেশীদের নিরাপত্তাহীনতার ওপর নির্ভর করে।’
এবং ঠিক যেভাবে রাশিয়া তার প্রতিবেশী অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার করতে চায়, তেমনি ইরানি শাসকগোষ্ঠীও তেলসমৃদ্ধ উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলোকে নিজেদের স্বাভাবিক প্রভাব বলয়ের অংশ হিসেবে দেখে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে আমেরিকার হস্তক্ষেপের কারণে এই ধরনের প্রভাব বলয় থেকে তারা বঞ্চিত ছিল।
আমেরিকা যেহেতু এই উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানি হামলা থেকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে, তাই হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য তেহরানের এই প্রচেষ্টা মূলত মধ্যপ্রাচ্যে একটি নতুন প্যাক্স ইরানিকা বা ইরানি শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার উচ্চাকাঙ্ক্ষাকেই প্রতিফলিত করে। সর্বোপরি, উপসাগরীয় দেশগুলো কম-বেশি কেবল তাদের তেল ও গ্যাস রপ্তানির জন্যই নয়, বরং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র থেকে শুরু করে খাদ্যসামগ্রীর মতো অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহের জন্যও এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল।
সম্পর্কের এই পরিবর্তনের কিছু আভাস সম্প্রতি তেহরানে সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনেইর জানাজায় দেখা গেছে। সেখানে উপসাগরীয় ছয়টি দেশের মধ্যে তিনটি দেশের কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছিলেন, যাদের ওপর গত বসন্তে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছিল। এই দেশ তিনটি হলো—সৌদি আরব, কাতার ও ওমান।
সেখানে সৌদি প্রতিনিধিদলকে পবিত্র কোরআনের এমন একটি আয়াত শুনতে বাধ্য করা হয়েছিল, যা অঞ্চলের অনেকেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপমান হিসেবে দেখছেন। ওই আয়াতে কাফের এবং ঐশ্বরিক মদদপুষ্ট পক্ষের মধ্যকার একটি যুদ্ধের কথা বলা হয়েছিল। যার পরোক্ষ অর্থ দাঁড়ায়—সৌদিরা প্রথম দলটির অন্তর্ভুক্ত। বাকি যে উপসাগরীয় দেশগুলো খামেনির জানাজায় অংশ নেওয়া থেকে বিরত ছিল, যার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতও রয়েছে, তারাও কিন্তু তেহরানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে।
তেল আবিবের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের ইরান ও শিয়া অক্ষ কর্মসূচির পরিচালক রাজ জিমাত বলেন, ‘তারা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে—তারা আসলে ভূগোলের এক নির্মম সত্যের মুখোমুখি—ইসলামি প্রজাতন্ত্র এখানেই থাকছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চিরকাল যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্বে থাকবেন না এবং তাদের ইরানিদের সঙ্গে পাশাপাশিই বসবাস করতে হবে। তাদের এই বাস্তবতার মুখোমুখি হতেই হবে।’
এই অঞ্চলে সাম্প্রতিক সহিংসতার জেরে ওয়াশিংটন গত মাসে জারি করা ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের ছাড়পত্রটি প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এই ছাড়পত্রে আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের তেল বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা—যা ছিল এই যুদ্ধের মূল কারণ—তা নিয়ে আলোচনার প্রক্রিয়া চলাকালে এই ছাড়পত্রটি নিষেধাজ্ঞা-জর্জরিত ইরানি অর্থনীতির জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লাইফলাইন বা সঞ্জীবনী সুধা হিসেবে কাজ করছিল।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান এই পাল্টাপাল্টি হামলার সূত্রপাত হয়েছিল ওমানের জলসীমা ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করা জাহাজগুলোর ওপর ইরানের আক্রমণের পর থেকে। ওই জাহাজগুলো আসলে প্রণালির ইরানি অংশে কোনো কর বা টোল না দিয়ে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল।
তেহরানের দাবি, তাদের এই পদক্ষেপ সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত। কারণ, গত মাসে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে তারা যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে, তাতে স্পষ্ট উল্লেখ আছে যে এই প্রণালী দিয়ে নৌযান চলাচল করতে কোনো ফি বা মাশুল লাগবে না ঠিকই, তবে তা চলবে ‘ইরানি ব্যবস্থাপনায়।’ মার্কিন কর্মকর্তারা অবশ্য এই ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নন। ওমানি জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানি হামলাকে তাঁরা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বলে অভিহিত করেছেন। এদিকে, গত শনিবার ওমান ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা প্রণালীটি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করতে বৈঠকে বসেন।
এই মতবিরোধের মূল কারণ হলো গত ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত টানা ৪০ দিন ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাতের কোনো চূড়ান্ত মীমাংসা না হওয়া। ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসির সিনিয়র ফেলো হোলি ড্যাগরেস বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান—উভয় পক্ষই ভাবছে যে তারা এই যুদ্ধে জিতেছে। ইরানিরা এখন যে এতটা কঠোর অবস্থান নিচ্ছে, তার কারণ তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে। তারা বুঝতে পারছে যে—এই যুদ্ধ খোদ আমেরিকাতেই জনপ্রিয় নয় এবং হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতি থমকে গেছে। তারা আসলে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে দরকষাকষি করছে, কারণ তাদের ধারণা পরিস্থিতি এখন তাদের অনুকূলে।’
সৌদি ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক সালমান আল-আনসারির মতে, ইরান নিজেকে এই অঞ্চলের নতুন প্রধান শক্তি হিসেবে যে ভাবছে, তা আসলে তাদের এক ধরনের বিভ্রান্তি বা দিবাস্বপ্ন। কারণ, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশটির সামরিক শক্তি কতটা ভেঙে পড়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে তাদের প্রক্সি বাহিনী বা ছায়াশক্তিগুলোর নেটওয়ার্ক কতটা দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং তাদের অর্থনীতি কতটা পঙ্গু হয়ে গেছে, তা সবার জানা। তিনি বলেন, ‘তাদের এখন শুধু ভয় দেখানো, জলদস্যুতা, ফাঁকা আওয়াজ আর জলঘোলা করার ক্ষমতাই অবশিষ্ট আছে। এগুলো কোনো আঞ্চলিক প্রধান শক্তির লক্ষণ নয়, বরং এটি গুন্ডামির শামিল।’
কথাটি সত্য হতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রও এখন পর্যন্ত সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে হরমুজ প্রণালী সবার জন্য উন্মুক্ত করার মতো সক্ষমতা দেখাতে পারেনি। আপাতত দুই পক্ষের এই নতুন করে সামরিক তৎপরতা শুরু হওয়াটা পুরোপুরি যুদ্ধের রূপ নেয়নি। যুক্তরাষ্ট্র এখনো তেহরানকে সরাসরি নিশানা করেনি, আর ইরানিরাও বাহরাইন, কুয়েত এবং জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে মূলত ব্যর্থ কিছু হামলার মধ্যেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রেখেছে। তারা অঞ্চলের দুই প্রধান শক্তি সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) নতুন করে কোনো হামলা চালায়নি।
তবে এর অর্থ এই নয় যে—আগামী সপ্তাহগুলোতে এই সহিংসতা গণ্ডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির (সিআইএ) মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা মার্ক পলিমেরোপুলোস বলেন, ‘মৌলিক বিষয় হলো, ইরানিরা বিশ্বাস করে না যে—ট্রাম্প আবার যুদ্ধে জড়াতে চান। তাই তারা একের পর এক উসকানি দিয়েই যাবে। তারা ভাবছে ট্রাম্প তাদের ওপর বড় কোনো আঘাত হানবেন না। কিন্তু এখানে যেকোনো সময় পরিস্থিতি বিগড়ে যেতে পারে। এই পাল্টাপাল্টি হামলায় যদি কোনো বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটে এবং মার্কিন কোনো সেনা নিহত হয়, তবে ট্রাম্প হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলবেন। সুতরাং, এই খেলা মোটেও ঝুঁকিমুক্ত নয়।’
পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে তেহরানের নেতৃত্ব সংকটের বিষয়টি। সেখানে আসলে কে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তা মোটেও স্পষ্ট নয়। নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির বাবা গত ফেব্রুয়ারিতে এক হামলায় নিহত হন এবং ধারণা করা হয় যে—সেই একই হামলায় মোজতবাও আহত হয়েছিলেন। এরপর থেকে তাঁকে কোনো ভিডিওতে, এমনকি জনসমক্ষেও দেখা যায়নি। তেহরানের ক্ষমতায় আসার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী বেশ কয়েকটি কট্টরপন্থী দল গত মাসে আমেরিকার সঙ্গে হওয়া এই সমঝোতা স্মারকের তীব্র সমালোচনা করেছে। ফলে এই সমঝোতা চুক্তিটি ভেস্তে দেওয়ার জন্য পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করার পেছনে তাদের স্পষ্ট স্বার্থ রয়েছে।
থিংক ট্যাংক বুর্স অ্যান্ড বাজার ফাউন্ডেশনের গবেষণা পরিচালক মেহরান হাগিরিয়ান বলেন, ‘ইরানের সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়াটি এখন সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খল। সেখানে এমন একটি পক্ষ রয়েছে যারা পরিষ্কারভাবেই এই আলোচনার পক্ষে নয়। তাদের অনেকেই এই অবস্থাকে যতটা সম্ভব টেনে লম্বা করতে চায়। কারণ প্রতিদিন এই সংকট যত বাড়বে, বর্তমান শাসনব্যবস্থা তত শক্তিশালী হবে এবং যুদ্ধ-পরবর্তী কোনো রাজনৈতিক সংস্কারের সুযোগ তত কমে আসবে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে,১৯৮০-৮৮ সালের ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময়ও ঠিক এমনটাই ঘটেছিল। এই যুদ্ধ ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে দেশের ভেতরের প্রতিপক্ষদের নির্মূল করতে এবং তাদের ধর্মতান্ত্রিক শাসনকে পোক্ত করতে সাহায্য করেছিল।
কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক হামাদ আলসুনায়িয়ান বলেন, ট্রাম্পের নীতি নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ থাকা সত্ত্বেও ওয়াশিংটনের সঙ্গে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সহযোগিতা বাড়িয়ে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তা অংশীদার হিসেবে আমেরিকার গ্রহণযোগ্যতা ও নির্ভরযোগ্যতা কিছুটা ধাক্কা খেয়েছে ঠিকই, কিন্তু এখনো উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্য তারাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা অংশীদার। আমরা যেমনটা দেখছি, নিরাপত্তা অংশীদারত্ব মাঝেমধ্যে বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়, তবে কোনো অংশীদার না থাকার চেয়ে এটি থাকা অনেক ভালো।’
একই সঙ্গে তিনি যোগ করেন, আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারে ইরানের এই প্রচেষ্টাকে রুখতে উপসাগরীয় দেশগুলোর উচিত নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং নিজেদের সামরিক প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলা। তিনি বলেন, ‘উপসাগরীয় দেশগুলো এই হুমকিকে কীভাবে মোকাবেলা করার সিদ্ধান্ত নেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে এই অঞ্চলের ভবিষ্যতের ভূরাজনীতি।’
অনুবাদ করেছেন আজকের পত্রিকার সহসম্পাদক আব্দুর রহমান

ইতিহাসের সবচেয়ে উত্তপ্ত সময় পার করছে ইউরোপের দেশ ফ্রান্স। তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁইছুঁই হওয়ার পর জলবায়ু পরিবর্তনের চরম বাস্তবতায় দীর্ঘদিনের রক্ষণশীল অবস্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছে দেশটি। বিশেষ করে ঘরবাড়ি ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ঠান্ডা রাখার জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র...
২ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশের পদ্মা নদীর তীরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চারটি বিশাল আইভরি বা কুলিং টাওয়ারের সামনে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলতে ব্যস্ত স্থানীয় পর্যটকেরা। ২০২৮ সালে পুরোপুরি সম্পন্ন হওয়ার পর রূপপুর কেন্দ্রে রাশিয়ার সহায়তায় নির্মিত দুটি চুল্লি দেশের মোট বিদ্যুতের প্রায়...
৫ ঘণ্টা আগে
বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীরা আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের খেলোয়াড় এবং লিওনেল মেসির জার্সিতে থাকা বিখ্যাত প্রতীক বা ক্রেস্টটি খুব ভালোভাবেই চেনেন। এটি একটি উল্লম্ব ঢাল (শিল্ড) আকৃতির প্রতীক। নিচে রয়েছে বিজয় ও গৌরবের প্রতীক লরেল পাতার দুটি শাখা, আর ওপরে রয়েছে তিনটি তারা—যা আর্জেন্টিনার তিনটি বিশ্বকাপ জয়ের স্মারক
২ দিন আগে
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখন ইরানের কাছে এক ‘গোল্ডেন ওয়েপন’ বা ‘সোনালি অস্ত্র’ হয়ে উঠেছে। এই নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হলেও সেই ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত তেহরান। এমনকি যে পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য ইরান কয়েক দশক ধরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সহ্য করেছে...
৩ দিন আগে