
এখন পর্যন্ত ইউক্রেন রাশিয়ার আক্রমণ প্রতিহত করেছে বলেই ধরে নেওয়া যায়। ইউক্রেনীয়দের সাহস এবং পশ্চিমা সহায়তা এর জন্য ধন্যবাদ পেতে পারে। কিন্তু প্রায় এক বছর লড়াইয়ের পরও যুদ্ধ শেষের ইঙ্গিত মিলছে না।
এদিকে ছয় মাস পর নতুন করে ইউক্রেনের ভূমি দখলে অগ্রসর হতে শুরু করেছে রুশ বাহিনী। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমাদের কাছ থেকে অস্ত্র পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে কিয়েভ।
ইউক্রেনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র আরও ২৫০ কোটি ডলারের এবং ফিনল্যান্ড নতুন করে ৪৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার সমপরিমাণের অস্ত্র সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। তবে জার্মানির তৈরি লেপার্ড-২ ট্যাংক পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
রাশিয়ার নতুন করে আঘাত ও অগ্রসর হওয়ার পরিস্থিতিতে বড় ধরনের অস্ত্র সহায়তা এখনো অনিশ্চিত। এ নিয়ে এরই মধ্যে হতাশা প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির উপদেষ্টা মিখাইলো পোদোলিয়াক। পশ্চিমাদের ‘সিদ্ধান্তহীনতা’ ইউক্রেন যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
ক্রেমলিন যখন ফেব্রুয়ারিতে সর্বাত্মক আক্রমণ শুরু করে, তখন আপাতদৃষ্টিতে মনে হয়েছিল, ইউক্রেন সরকার পরাস্ত হবে এবং মস্কো প্রায় নির্বিঘ্নে অনুগত একটি শাসনব্যবস্থা কায়েম করবে। কিন্তু এই হিসাব ভুল ছিল। গত বসন্তে কিয়েভের চারপাশ ঘিরে পূর্ব এবং দক্ষিণে সেনাবাহিনী জড়ো করে। গ্রীষ্মের শেষের দিকে ইউক্রেনীয় সেনারা পশ্চিমা অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অগ্রসর হতে শুরু করে।
এরপরও কিন্তু মস্কো এগিয়েছে। সম্ভবত ৩ লাখ অতিরিক্ত সেনা জড়ো করেছিল। এই ম্যাস মোবিলাইজেশনের সময় অনেক রুশ দেশ ছেড়ে পালিয়েছেও। ক্রেমলিন ইউক্রেনের দনবাস এলাকা রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে। ইউক্রেনের অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অনেক এলাকা প্রায় বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছিল। এক বছরে তিনজনের মধ্যে একজন ইউক্রেনীয় বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষেরই পিছু হটার জোরালো ইঙ্গিত মিলছে না। কোনো পক্ষই শান্তি আলোচনার জন্য প্রস্তুত নয়। মস্কো কূটনৈতিক আলোচনার জন্য প্রস্তুত বললেও ইউক্রেনের সরকারকে পশ্চিম নিয়ন্ত্রিত নাৎসি প্রভাবিত বলে তিরস্কার করে কিয়েভকে আত্মসমর্পণের দাবি জানাচ্ছে।
ক্রমেই অচলাবস্থা তৈরি হচ্ছে। বেলারুশের ভূমি থেকে মধ্য ইউক্রেনে নতুন করে আক্রমণের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। মস্কো আশা করছে, হাড় কাঁপানো ঠান্ডা এবং গ্যাসের উচ্চ দামের কারণে ইউক্রেনকে সমর্থন করতে গিয়ে রুশ হাইড্রোকার্বনের ওপর পশ্চিমা বয়কটে ইউরোপীয়রা ধৈর্য হারাবে।
পশ্চিমা ঐক্যেও কিছু ফাটল দেখা যাচ্ছে। অনেক ইউরোপীয় দেশ বিশ্বাস করে, ইউক্রেনের পরাজয় আসন্ন। এই সময় মস্কোকে উসকানি দেওয়া তাদের বিপদ বাড়াবে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির গত বছরের শেষ দিকের ওয়াশিংটন সফর বিরোধী রিপাবলিকান পার্টির ক্ষোভের কারণ হয়েছে।
সত্যিকারের বিপর্যয়মূলক পরিস্থিতি হতে পারে—ন্যাটো এবং রাশিয়ার মধ্যে সম্ভাব্য পারমাণবিক শক্তি বৃদ্ধির প্রবণতা।
মস্কো এবং পশ্চিমারা উভয়ই সরাসরি সংঘর্ষ এড়াতে কৌশল নিয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, পশ্চিমারা ইউক্রেনে নো-ফ্লাই জোনের ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছে। কিছু উন্নত অস্ত্র সরবরাহের ক্ষেত্রেও সীমা টেনেছে। রাশিয়া ন্যাটো অঞ্চলে হামলা এড়িয়ে গেছে।
পুতিন বারবার রাশিয়ার পারমাণবিক শক্তির উল্লেখ করেছেন। আপাতদৃষ্টিতে এটা পশ্চিমাদের সতর্ক করার লক্ষ্যেই। যদিও সম্প্রতি এমন বক্তব্য থেকে সরে এসেছেন তিনি।
তবুও, সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিশেষ করে যদি পুতিন মনে করেন তাঁর ক্ষমতাকে কেউ চ্যালেঞ্জ করছে। প্রকৃতপক্ষে, এই যুদ্ধ সম্ভবত ষাট বছরের মধ্যে পারমাণবিক সংঘর্ষের সর্বোচ্চ ঝুঁকি তৈরি করেছে। এটি একটি দীর্ঘ স্থবিরতার মঞ্চও তৈরি করতে যাচ্ছে।

মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ‘মেড ইন ইন্ডিয়া: দ্য সাপ্লাই অব ওয়েপনস অ্যান্ড মিউনিশসন টু ইসরায়েল’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজায় চলমান ইসরায়েলের ‘গণহত্যামূলক’ সামরিক অভিযানের পুরো সময়জুড়ে ভারত ইসরায়েলে কয়েক...
৩ দিন আগে
ইরাকে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের শেষ সামরিক ঘাঁটিগুলো থেকেও মার্কিন সেনারা চলতি সপ্তাহের বুধবার অর্থাৎ, আগামীকালই চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইরান ও তার আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলো এই ঘটনাকে নিজেদের বিজয় হিসেবে দেখছে।
৩ দিন আগে
একটি অস্থায়ী চেকপয়েন্ট। সেখানেই আটকে যাচ্ছে মোটরবাইক, ব্যবসায়ী, এমনকি মানুষের জীবনও। চেকপয়েন্টটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের হাকিমপুরের একটি গ্রামের সড়কে। সেখানে দুই তরুণী বোরকা পরে অপেক্ষা করছেন। এক সীমান্তরক্ষী তাদের পিঠ থেকে নামিয়ে ব্যাগগুলো তন্নতন্ন করে দেখছে।
৪ দিন আগে
আফগানিস্তানের তালেবান সরকার জানিয়েছে, পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমান হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। এই হামলার উপযুক্ত জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে কাবুল। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের সীমান্ত উত্তেজনা আবারও বড় ধরনের সামরিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
৫ দিন আগে