Ajker Patrika

‘গাজা গণহত্যায়’ ইসরায়েলকে অস্ত্র দিয়েছে ভারত-ব্রাজিলসহ ৫১ দেশ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৩ মে ২০২৬, ১৯: ৪৬
‘গাজা গণহত্যায়’ ইসরায়েলকে অস্ত্র দিয়েছে ভারত-ব্রাজিলসহ ৫১ দেশ
জাতিসংঘের গণহত্যা কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্রগুলোই গাজা যুদ্ধে ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহ করেছে। ছবি: এপি

২০২৪ সালের জানুয়ারি। হাড়কাঁপানো এক শীতের দিনে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) সামনে জড়ো হয়েছেন হাজার হাজার বিক্ষোভকারী। তাঁদের লক্ষ্য হলো, গাজায় ইসরায়েলের চালানো ১০০ দিনের বেশি ‘গণহত্যামূলক’ যুদ্ধের নিন্দা জানানো। অন্যদিকে প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার দূরে অবরুদ্ধ গাজার ফিলিস্তিনিরা তখন ইউটিউব লাইভস্ট্রিমে আইসিজের কার্যক্রম দেখছিল। আর যারা দেখছিল না, তারা ব্যস্ত ছিল ইসরায়েলের বোমা থেকে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে।

জাতিসংঘের গণহত্যা কনভেনশনের আট দশকের ইতিহাসে খুব কমসংখ্যক অভিযোগ সর্বোচ্চ আদালতে উঠেছে। সেদিন দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বের সর্বোচ্চ আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছিল, গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর এই নির্মম হামলা ‘গণহত্যা’ (একটি জাতি, ধর্মীয় বা গোষ্ঠীকে আংশিক বা সম্পূর্ণ ধ্বংস করা) কি না, তা খতিয়ে দেখতে।

আদালতের ভেতরে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আইরিশ আইনজীবী ব্লিন নি ঘ্রালাই বিচারকদের উদ্দেশ করে বলেছিলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ফিলিস্তিনি জনগণকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হচ্ছে। এটি ইতিহাসের প্রথম গণহত্যা, যেখানে ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা নিজেরাই নিজেদের ধ্বংসের দৃশ্য রিয়েল টাইমে (সরাসরি) সম্প্রচার করছে। এই আশায়—যদি বিশ্ববাসী কিছু একটা করে!’

ব্লিন নি ঘ্রালাই আদালতকে জানান, গাজায় প্রতিদিন গড়ে ২৪৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হচ্ছে; যার মধ্যে প্রতি ঘণ্টায় দুজন করে মোট ৪৮ জন মা এবং প্রতি ঘণ্টায় পাঁচজন করে ১১৭ জনের বেশি শিশু রয়েছে। হামলার শুরুর পর তত দিনে নিহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৭ হাজার।

২০২৪ সালের ২৬ জানুয়ারি আইসিজে তাঁর অন্তর্বর্তীকালীন রায়ে গাজায় গণহত্যার স্পষ্ট ও বাস্তব ঝুঁকি রয়েছে বলে জানান এবং ইসরায়েলকে হামলা বন্ধের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আদালত গণহত্যা কনভেনশনের স্বাক্ষরকারী ১৫৩টি দেশকে তাদের আইনি বাধ্যবাধকতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘গণহত্যা প্রতিরোধে সদস্যদেশগুলোকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’

কিন্তু আদালতের সেই সতর্কবার্তার পরও পরবর্তী ২২ মাসে গাজায় হত্যাযজ্ঞ চলতেই থাকে। অবশেষে ২০২৫ সালের অক্টোবরে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি হয়। তত দিনে গাজায় নিহতের সংখ্যা ৭ হাজার থেকে ৭০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে এবং আহতের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৭১ হাজারে। আর এই পুরো সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইসরায়েলে নির্বিঘ্নে অস্ত্র সরবরাহ করা চলছিল।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার কয়েক মাসব্যাপী দীর্ঘ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এমন ৫১টি দেশের নাম উঠে এসেছে, যারা গাজা যুদ্ধের পুরো সময়ে ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহ করেছে। আইসিজে গাজায় গণহত্যার বিষয়ে সতর্ক করার পরও এই ৫১ দেশ থেকে ইসরায়েলে সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র উৎপাদন সামগ্রী পাঠানো অব্যাহত ছিল।

আল জাজিরা ইসরায়েলি ট্যাক্স অথরিটির ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত আমদানি-সংক্রান্ত তথ্য, কাস্টমস রেকর্ড এবং তথ্য অধিকার (এফওআই) আইনের আওতায় পাওয়া নথিপত্র বিশ্লেষণ করেছে। তাদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইউরোপ, এশিয়া, উত্তর আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার এসব দেশ থেকে ইসরায়েলে ব্যাপক পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, এই তালিকায় নাম থাকা প্রতিটি দেশ জাতিসংঘের ‘গণহত্যা কনভেনশন’-এর স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্র।

এমনকি অনেক দেশ, যারা প্রকাশ্যে ইসরায়েলে অস্ত্র বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল বা আংশিক স্থগিত করেছিল, তাদের তৈরি সামরিক সরঞ্জামও চোরাপথে ইসরায়েলে প্রবেশ করেছে। ইসরায়েলি কাস্টমসের তথ্য বলছে, আইসিজের রায়ের পর ইসরায়েলে সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদ আমদানির পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পায়।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইসরায়েলে সামরিক সরঞ্জাম পাঠানো শীর্ষ পাঁচটি দেশ হলো যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, রোমানিয়া, তাইওয়ান এবং চেক প্রজাতন্ত্র। যুদ্ধের সময় এসব দেশ থেকে প্রতিনিয়ত ইসরায়েলে সামরিক সরঞ্জাম চালানের পরিমাণ বেড়েছে।

ইসরায়েলি কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ২ হাজার ৬০৩টি সামরিক চালান ইসরায়েলে প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে গোলাবারুদ, বিস্ফোরক, অস্ত্রের যন্ত্রাংশ এবং সাঁজোয়া যানের (ট্যাংক) বিভিন্ন উপাদান ছিল।

এই দুই বছরে আমদানি করা অস্ত্রের মোট মূল্য ছিল ৩ দশমিক ২২ বিলিয়ন শেকেল (প্রায় ৮৮ কোটি ৫৬ লাখ মার্কিন ডলার)। আর মোট মূল্যের ৯১ শতাংশই ইসরায়েল আমদানি করেছে ২০২৪ সালের ২৬ জানুয়ারি আইসিজের রায়ের পর।

যুদ্ধ শুরুর আগের ২০ মাসে (২০২২ থেকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর) ইসরায়েলে সামরিক সরঞ্জাম আমদানির পরিমাণ ছিল মাত্র ১ দশমিক ৪১ বিলিয়ন শেকেল (৩৮ দশমিক ৮১ কোটি ডলার)। অর্থাৎ আইসিজের রায়ের পরও যুদ্ধ চালিয়ে যেতে ইসরায়েল বিদেশি অস্ত্রের ওপর তাদের নির্ভরশীলতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও অস্ত্রের সরবরাহ কমেনি। ২০২৫ সালের শেষ দুই মাসে ইসরায়েল আরও ৩২৪ দশমিক ৯ মিলিয়ন শেকেল (৮ দশমিক ৯৪ কোটি ডলার) মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম আমদানি করেছে।

ভারতের ভূমিকা ও এইচএস কোড ‘৯৩’-এর ভেতরের গল্প

তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের পরেই (৪২ শতাংশ) দ্বিতীয় শীর্ষ অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ ছিল ভারত (২৬ শতাংশ)। অর্থাৎ ইসরায়েলের মোট আমদানিকৃত সামরিক সরঞ্জামের দুই-তৃতীয়াংশেরই উৎস ছিল এই দুই দেশ।

আল জাজিরা ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের কাস্টমস বুক এবং ২০২৪ সালে ভারতে তৈরি অস্ত্রের ৯১টি গোপন রপ্তানি নথি হাতে পেয়েছে। এগুলো আন্তর্জাতিক কাস্টমস কোড এইচএস-৯৩০৬ (বোমা, গ্রেনেড, টর্পেডো, মিসাইল, গোলাবারুদ ও তার যন্ত্রাংশ) এর আওতাভুক্ত। নথিতে দেখা যায়, ভারতের একাধিক প্রতিরক্ষা কোম্পানি সরাসরি ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমস ও ইসরায়েলি মিলিটারি ইন্ডাস্ট্রিজের (আইএমআই সিস্টেমস) কাছে মারণাস্ত্রের কাঁচামাল পাঠাচ্ছে।

ভারতের কল্যাণী রাফায়েল অ্যাডভান্সড সিস্টেমস

এটি মূলত ভারত ও ইসরায়েলের যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত। ভারতের কল্যাণী স্ট্র্যাটেজিক সিস্টেমস ও ইসরায়েলের রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমস যৌথভাবে এটি নিয়ন্ত্রণ করে। কোম্পানিটি এখন পর্যন্ত ভারত থেকে ৫ লাখ ৫৪ হাজার ১২০টি ‘হেভি ফ্র্যাগমেন্টেশন’ যন্ত্রাংশ রাফায়েলের কাছে পাঠিয়েছে, যা সাধারণত বোমার ভেতরে ধাতব টুকরা ছড়ানোর কাজে ব্যবহার করা হয়।

এ ছাড়া বিভিন্ন মেয়াদে কল্যাণী স্ট্র্যাটেজিক সিস্টেমস ইসরায়েলি মিলিটারি ইন্ডাস্ট্রিজের কাছে ৫০টি ‘১৫৫এমএম প্রজোকক্টাইল বডি’ পাঠিয়েছে। এটি হলো ১৫৫ মিলিমিটার কামানের গোলার প্রধান ইস্পাতের কাঠামো, যার ভেতরে বিস্ফোরক ভরা হয়।

ভারতের আরেকটি প্রতিষ্ঠান ইকোনমিক এক্সপ্লোসিভস লিমিটেড ইসরায়েলের রেশেফ টেকনোলজিসের কাছে ৯৯ হাজার ৪০০ ইউনিট ‘বুস্টার পেলেট’ রপ্তানি করেছে, যা বড় ধরনের বিস্ফোরক বা মিসাইল সক্রিয় করার কাজে ব্যবহৃত হয়।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে আল জাজিরার পক্ষ থেকে ভারত সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

নিষেধাজ্ঞা ও স্থগিতাদেশের দ্বিমুখী নীতি

বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষের বিক্ষোভ ও আইনি লড়াইয়ের মুখে অনেক পশ্চিমা দেশ ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহ স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু বিশ্লেষকেরা বলছেন, এগুলো ছিল মূলত রাজনৈতিক ‘আইওয়াশ’ বা লোকদেখানো নীতি, যার ভেতরে আইনি ফাঁকফোকর রাখা হয়েছিল।

আইনি জটিলতা ও আন্তর্জাতিক অপরাধে অংশীদারত্ব

লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের আন্তর্জাতিক আইনের অধ্যাপক স্টিফেন হামফ্রেস আল জাজিরাকে বলেন, ‘আইসিজের রায়ের আগেই পর্যাপ্ত প্রমাণ ছিল যে ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহকারী দেশগুলো যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে সমান অংশীদার হতে পারে।’

ফৌজদারি আইনের অধ্যাপক গেরহার্ড কেম্প বলেন, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশন স্পষ্ট প্রতিবেদন দিয়েছিল—‘ইসরায়েল গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর গণহত্যা চালাচ্ছে’। কমিশন স্পষ্ট করে বলেছিল, গণহত্যা কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী সদস্যরাষ্ট্রগুলো ইসরায়েলে এমন কোনো অস্ত্র বা যন্ত্রাংশ পাঠাতে পারবে না যা গণহত্যার কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। তা সত্ত্বেও এই ৫১টি দেশ নিজেদের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত স্বার্থকে মানবাধিকারের ওপরে স্থান দিয়েছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের গবেষক প্যাট্রিক উইলকেন বলেন, ‘ইসরায়েলের পক্ষে একা কোনোভাবেই গাজা উপত্যকাজুড়ে বোমা হামলা ও দুই বছর ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না। ইসরায়েল মূলত টিকে ছিল অস্ত্র ও গোলাবারুদের একটি বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপর, যার নেতৃত্বে ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং পেছনে হাত ছিল বিশ্বের আরও বহু দেশের।’

ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহকারী ৫১টি দেশের মধ্যে কয়েকটি দেশের তালিকা ও তাদের অস্ত্র সরবরাহের পরিমাণ নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—

যুক্তরাষ্ট্র: ইসরায়েলে সর্ববৃহৎ অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ। যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের প্রায় ৪২ শতাংশ অস্ত্র সরবরাহ করে থাকে। গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটি এখন পর্যন্ত ইসরায়েলে ১ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র সরবরাহ করেছে।

ভারত: ইসরায়েলের দ্বিতীয় বৃহত্তম অস্ত্র সরবরাহকারী (প্রায় ২৬ শতাংশ) ভারত। দেশটি এখন পর্যন্ত ইসরায়েলে ৮৩৭ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলারের অস্ত্র সরবরাহ করেছে। গাজা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ভারতের সরবরাহ ছিল অন্যান্য সময়ের চেয়ে বেশি।

চীন: ইসরায়েলে এখন পর্যন্ত ৭১ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলারের অস্ত্র পাঠিয়েছে চীন। তবে চীনের ক্ষেত্রে মজার বিষয় হলো—তারা প্রকাশ্যে আইসিজের রায়কে সমর্থন করলেও, ৮৩ শতাংশ চালানই পাঠিয়েছে রায়ের পর।

ফ্রান্স: ইসরায়েলে প্রায় ৪৯ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলারের অস্ত্র পাঠিয়েছে ফ্রান্স। ২০২৪ সালের অক্টোবরে প্রেসিডেন্ট মাখোঁ অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের আহ্বান জানানোর পরও ফ্রান্স থেকে ২৫টি নতুন চালান ইসরায়েলে ঢোকে।

জার্মানি: ২০২৫ সালের আগস্টে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মের্ৎস গাজায় ব্যবহারযোগ্য অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের ঘোষণা দেন। কিন্তু এর এক মাস পরই বার্লিন থেকে বড় চালান বেন গুরিওন বিমানবন্দরে পৌঁছায়। জার্মানি এখন পর্যন্ত ইসরায়েলে প্রায় ৪৩ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের অস্ত্র সরবরাহ করেছে।

ইতালি: অস্ত্র সরবরাহে সাময়িক স্থগিতাদেশের ঘোষণা দিলেও যুদ্ধবিরতির আগের মাস পর্যন্ত ৩৩টি চালানে প্রায় ২৪ মিলিয়ন ডলারের অস্ত্র ইসরায়েলে পাঠায় ইতালি।

স্পেন: ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ইসরায়েলে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার দাবি করলেও সেটি আইনি রূপ পায় ২০২৫ সালের অক্টোবরে। এর মাঝে ৯৯টি চালানে ইসরায়েলে প্রায় ২১ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলারের অস্ত্র পাঠায় স্পেন।

সিঙ্গাপুর: যুদ্ধবিরতির পক্ষে ভোট দিলেও ইসরায়েলে সরবরাহ করা অস্ত্রের ৮৮ শতাংশ ( প্রায় ২০ দশমিক ২ মিলিয়ন) গেছে আইসিজের রায়ের পর।

কানাডা: নতুন লাইসেন্স বন্ধের দাবি করলেও, চুক্তি অনুযায়ী কাস্টমস কোড ছাড়া বিভিন্ন অস্ত্রের চালান চালু রেখেছিল কানাডা ( প্রায় ১ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার)।

ব্রাজিল: মুখে আইসিজের রায়ের সমর্থন করলেও দেশটি আড়ালে কোটি টাকার সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে। অথচ দেশটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে অন্যতম শক্তিশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে নিজেকে দাবি করে এসেছে। গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়ে ব্রাজিলের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনাসমূহ আইনিভাবে বাধ্যতামূলক এবং ইসরায়েলের উচিত তা অবিলম্বে ও পূর্ণাঙ্গভাবে মেনে চলা। তবে মুখে বড় বড় বুলি আওড়ালেও বাস্তবের কাস্টমস রেকর্ড ব্রাজিলের এই দ্বিমুখী নীতিকে সবার সামনে উলঙ্গভাবে তুলে ধরেছে।

ইসরায়েলি ট্যাক্স অথরিটির তথ্য অনুযায়ী, গাজা যুদ্ধ চলাকালে ব্রাজিল থেকে ইসরায়েলে ৮ দশমিক ৭ মিলিয়ন শেকেল (প্রায় ২৪ লাখ মার্কিন ডলার) মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম ও উপাদান পাঠানো হয়েছে। মজার বিষয় হলো, এই চালানের প্রায় ৮০ শতাংশই ইসরায়েলে প্রবেশ করেছে ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে আইসিজে কর্তৃক গাজায় গণহত্যার ঝুঁকি সংক্রান্ত সতর্কবার্তা জারির পর।

এ বিষয়ে কাতারভিত্তিক আল জাজিরার পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে ব্রাজিলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক অদ্ভুত ব্যাখ্যা দিয়েছে। মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, ২০২৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারির পর থেকে তারা ইসরায়েলে নতুন কোনো সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানির আবেদন অনুমোদন করেনি।

তবে ব্রাজিল সরকার তাদের এই দাবির ভেতরেই একটি বড় আইনি লুপহোল বা ফাঁকফোকর রেখে দিয়েছে। ব্রাজিলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্বীকার করেছে, দেশটির রপ্তানি নীতি অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু ক্যাটাগরির সামরিক পণ্য পাঠানোর জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমোদনের কোনো প্রয়োজন পড়ে না।

আল জাজিরা থেকে সংক্ষেপে অনুবাদ করেছেন জগৎপতি বর্মা

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এআইয়ের নাম শুনেই খেপে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়শিক্ষার্থীরা

তেল বেচতে ভারতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বাণিজ্য ও কূটনীতির জট খুলবে কি

জামায়াত নেতার ডাকা খেয়াঘাট দখলে নিলেন বিএনপির আহ্বায়ক

চীনে কয়লাখনিতে বিস্ফোরণে নিহত ৯০, এক দশকের মধ্যে সর্বাধিক প্রাণহানির রেকর্ড

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদনকারীদের ফিরতে হবে নিজ দেশে

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত