মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সম্ভাব্য সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে দুই পক্ষই ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে যুদ্ধবিরতি স্থায়ীভাবে কার্যকর করতে প্রস্তাবিত এই চুক্তির বিভিন্ন শর্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
দুই দেশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একটি ‘মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ বা সমঝোতা স্মারক তৈরির কাজ চলছে। এর মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধ, বাণিজ্য এবং ভবিষ্যৎ বিরোধ নিষ্পত্তির রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে।
তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, খসড়া চুক্তির কয়েকটি ধারা নিয়ে এখনো মতপার্থক্য রয়ে গেছে। একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘তাড়াহুড়ো করে কোনো চুক্তিতে যাবে না’।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্ভাব্য চুক্তিতে কী থাকছে, তা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। চলুন দেখি কী আছে এতে—
বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি সম্ভাব্য সমঝোতার অন্যতম প্রধান অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, চুক্তি হলে প্রণালিটি পুনরায় পুরোপুরি চালু করা হবে। তবে ইরানি গণমাধ্যম বলছে, তেহরান এই নৌপথের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে এবং জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে আগের তুলনায় আরও বেশি নিয়মকানুন মানতে হবে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘হরমুজ প্রণালির বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। এটি ইরান ও ওমানসহ উপকূলীয় দেশগুলোর বিষয়।’
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু পর থেকে ইরান হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর নৌ-অবরোধ আরোপ করে।
চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানকে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত সীমিত করতে হবে এবং ভবিষ্যতে ‘পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা না করার নিশ্চয়তা’ দিতে হবে।
তবে ইরান জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধের সমঝোতা চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে না।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, বর্তমান খসড়ায় ইরান তাদের পারমাণবিক স্থাপনা বন্ধ করা বা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তরের কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি।
অর্থনৈতিক সংকটে থাকা ইরান বিদেশি ব্যাংকে আটকে থাকা কয়েক বিলিয়ন ডলারের সম্পদ দ্রুত ছাড়ের দাবি জানিয়েছে। ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘আলোচনার শুরুতেই অবরুদ্ধ সম্পদ ছাড়ের বিষয়টি পরিষ্কার হতে হবে।’
তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি স্বাভাবিকভাবে চালু হওয়ার পরই এসব সম্পদ ছাড় ও নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয় বিবেচনা করা হবে।
ইরানের ধারণা, শুধু তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেই ৬০ দিনের মধ্যে সরকার প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত আয় করতে পারবে।
যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছিল। তবে সাম্প্রতিক আলোচনায় এই ইস্যুটি আগের তুলনায় কম গুরুত্ব পাচ্ছে। যদিও ইসরায়েল ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলো এখনো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছে।
সম্ভাব্য সমঝোতায় লেবাননে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সংঘাত কীভাবে সমাধান হবে, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়। ইরানি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, খসড়া চুক্তিতে ‘লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধের সমাপ্তি’ উল্লেখ রয়েছে। তবে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের দাবি, ট্রাম্প দেশটিকে ‘সব ধরনের হুমকির বিরুদ্ধে স্বাধীনভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার’ সমর্থন দিয়েছেন।
ইরানের একটি সূত্র জানিয়েছে, তেহরানের মূল লক্ষ্য হচ্ছে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ীভাবে যুদ্ধের অবসান নিশ্চিত করা।

রাশিয়া-ইরানের ‘স্বার্থের সম্পর্ক’ কি ভাঙনের মুখে, এই সম্পর্ক বহু সংঘাত, যুদ্ধ ও অবিশ্বাসে ভরা। ১৮২৯ সালে তৎকালীন রুশ রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্ডার গ্রিবোয়েদভ তেহরানে ক্ষুব্ধ জনতার হাতে নিহত হন। রাশিয়া-পার্সিয়া যুদ্ধের পর চুক্তি বাস্তবায়ন ও ক্ষতিপূরণ আদায়ের দায়িত্বে ছিলেন তিনি...
৪ ঘণ্টা আগে
২০২৪ সালের জানুয়ারি। হাড়কাঁপানো এক শীতের দিনে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) সামনে জড়ো হয়েছেন হাজার হাজার বিক্ষোভকারী। তাঁদের লক্ষ্য হলো, গাজায় ইসরায়েলের চালানো ১০০ দিনের বেশি ‘গণহত্যামূলক’ যুদ্ধের নিন্দা জানানো।
১ দিন আগে
ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই চার দিনের সফরে আজ শনিবার সকালে ভারতে এসে পৌঁছেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। আজ সকালে তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজধানী কলকাতায় এসে পৌঁছান।
২ দিন আগে
অনেক সামরিক পর্যবেক্ষক অবশ্য মনে করছেন, এই বিধ্বংসী মহড়া এবং হুমকি-ধমকি আসলে পশ্চিমাদের ভয় দেখানোর একটি ফাঁকা আওয়াজ ছাড়া আর কিছুই নয়। একই সঙ্গে এটি কিয়েভ ও মিনস্কের মধ্যে সরাসরি কূটনৈতিক আলোচনার পথ উন্মুক্ত করার একটি ভিন্ন কৌশলও হতে পারে।
২ দিন আগে