
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। একই দিনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার জন্য চালু করা ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ কি তবে শেষের পথে?
গতকাল মঙ্গলবার (৫ মে) হোয়াইট হাউসে এক ব্রিফিংয়ে রুবিও বলেন, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি শেষ হয়েছে। আমরা আমাদের লক্ষ্য অর্জন করেছি।’ তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন যুদ্ধ নয়, শান্তির পথকে অগ্রাধিকার দিতে চায়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও একটি সমঝোতা চুক্তি দেখতে চান। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি আলোচনার উদ্যোগে পাকিস্তান মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে, যদিও গত মাসে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার বৈঠক কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয়।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক থিংকট্যাংক ‘রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট’-এর গবেষক বুরচু ওজচেলিক মনে করেন, এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে একধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। তাঁর মতে, পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক তৎপরতা তীব্র হয়েছে, যার লক্ষ্য ইরানের কাছ থেকে পারমাণবিক ইস্যুতে বড় ধরনের ছাড় আদায় করা। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে পারে, যা কার্যত যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পারে। তবে ইরান চাইছে নিশ্চিত গ্যারান্টি, যাতে এই যুদ্ধ শুধু সাময়িক বিরতি না হয়ে স্থায়ীভাবে শেষ হয়।
অন্যদিকে ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্রজেক্ট ফ্রিডম স্থগিত করা হয়েছে পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের অনুরোধে এবং ইরানের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত চুক্তির দিকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হওয়ায়। এই প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে বের করে আনা। উল্লেখ্য, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার পর ইরান হুমকি দিয়েছিল, তাদের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করলে হামলা করা হবে। এতে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই সম্প্রতি ইরানের ফার্স নিউজ দাবি করে, তারা একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যদিও যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) তা অস্বীকার করে। পাল্টা দাবি করা হয়, তারা ইরানের অন্তত ছয়টি নৌযান ধ্বংস করেছে, যা ইরান আবার নাকচ করে।
এ ছাড়া ইরান নতুন একটি মানচিত্র প্রকাশ করে, যেখানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জলসীমার অংশকেও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে দেখায় তারা। এতে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়ে। এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত অভিযোগ করে, তাদের ফুজাইরাহ বন্দরে ইরানের হামলায় একটি তেল শোধনাগারে আগুন লেগেছে।
এদিকে অস্ট্রেলিয়ার ডিকিন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক শাহরাম আকবরজাদেহ মনে করেন, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত করা যুদ্ধের সরাসরি সমাপ্তি না হলেও এটি ‘শেষের শুরু’ হতে পারে। তাঁর মতে, ইরান যুদ্ধের অবসান চাইছে এবং যুক্তরাষ্ট্র যদি কূটনীতির স্পষ্ট বার্তা দেয়, তবে ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর সম্ভাবনা কম।
তবে আকবরজাদেহ সতর্ক করে বলেন, এর আগেও এমন সুযোগ নষ্ট হয়েছে। ইসরায়েলের কঠোর অবস্থান বা ট্রাম্পের কৌশলগত ভুল ব্যাখ্যার কারণে সম্ভাব্য সমঝোতা ভেস্তে গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন উভয় পক্ষই পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে ফিরতে চায় না এবং কূটনৈতিক সমাধান খুঁজছে। কিন্তু বড় বাধা হলো, কেউই নিজেদের পরাজিত হিসেবে উপস্থাপন করতে চায় না। অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপে এই আলোচনাগুলো জটিল হয়ে উঠছে।
রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের গবেষক বুরচু ওজচেলিকের মতে, ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে ইরানের নেতৃত্ব পারমাণবিক ইস্যুতে কী সিদ্ধান্ত নেয় তার ওপর। দিন দিন দেশটির অর্থনৈতিক চাপও বাড়ছে। কারণ, হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার ফলে ইরানের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, যুদ্ধ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়নি। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ ইঙ্গিত দিচ্ছে, দীর্ঘ সংঘাতের পর হয়তো একটি কূটনৈতিক সমাধানের দিকেই এগোচ্ছে পরিস্থিতি।

ভারতের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল রাজ্য হওয়া সত্ত্বেও ২০২৬ সালের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ক্ষমতাসীন ডিএমকে। রাজ্যের দুই অঙ্কের বিশিষ্ট অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বা জিডিপি-র উল্লম্ফনও এমকে স্ট্যালিনের সরকারকে রক্ষা করতে পারেনি।
৪ ঘণ্টা আগে
পশ্চিমবঙ্গে চলতি বছরের নির্বাচন কেবল তৃণমূল কংগ্রেসের ১৫ বছরের শাসনাবসান ঘটিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টি—বিজেপির নিরঙ্কুশ জয়ের ইতিহাস হিসেবে মনে থাকবে না। বরং এটি এমন একমুহূর্ত, যখন বহুদিনের সীমান্ত প্রশ্ন নতুন করে নির্বাচনী ইস্যু হিসেবে গতি পেয়েছে এবং রাজ্যের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বয়ানে বাংলাদেশকে কেন্দ্রীয়
১০ ঘণ্টা আগে
নয়াদিল্লিতে গৃহকর্মীর কাজ করেন বাঙালি সীমা দাস। টানা দুই দিনের দীর্ঘ যাত্রায়, মাঝপথে ট্রেন বদলাতে বদলাতে, পশ্চিমবঙ্গে নিজ গ্রামে পৌঁছান। লক্ষ্য একটাই—প্রাদেশিক নির্বাচনে ভোট দেওয়া। আগে, ভোটার হওয়ার পর থেকেই তিনি সবসময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেসকে (টিএমসি) ভোট দিতেন।
১ দিন আগে
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর ফল ঘোষণার পর একটি বিশেষ গাণিতিক সমীকরণ রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। নির্বাচন কমিশনের ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর) বা বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় প্রায় ২৭ লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়া কি রাজ্যের নির্বাচনী মানচিত্র বদলে দিয়েছে?
১ দিন আগে