
ইরানের বিরুদ্ধে প্রায় প্রতিটি যুদ্ধে হয়তো জয়ী হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প; কিন্তু ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের ওপর হামলার তিন মাস পর এখন একটি বড় প্রশ্ন সামনে চলে এসেছে—ট্রাম্প কি আসলে এই যুদ্ধে হেরে যাচ্ছেন?
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় তেহরানের সামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দেশটির শাসনব্যবস্থা টিকে আছে, পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি থামেনি এবং হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণও বহাল রয়েছে। ফলে যুদ্ধের সামরিক সাফল্যকে এখনো রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক বিজয়ে রূপ দিতে পারেননি ট্রাম্প।
এদিকে, ইরান বারবার ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তারা দীর্ঘমেয়াদি চাপ সহ্য করতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে তারা দেখিয়ে দিয়েছে, বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তারা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ভয়ংকর প্রভাব ফেলতে পারে।
রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় প্রশাসনের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সাবেক সমঝোতাকারী অ্যারন ডেভিড মিলার বলেন, ট্রাম্প যে যুদ্ধকে স্বল্পমেয়াদি ও সহজ বিজয় হিসেবে দেখাতে চেয়েছিলেন, তা এখন দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ব্যর্থতায় পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা, নৌবাহিনীর অংশ ও শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বের বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে পাল্টা জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং ইসরায়েল ও উপসাগরীয় মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যায়।
পরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করলেও তেহরান এখনো নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প এখন কঠিন এক সিদ্ধান্তের মুখে দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি হয়তো একটি সীমিত সমঝোতাকে রাজনৈতিক ‘অফ-র্যাম্প’ বা কৌশল হিসেবে নিতে পারেন অথবা নতুন করে সামরিক হামলা চালিয়ে আরও দীর্ঘ সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারেন।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস দাবি করেছেন, অপারেশন এপিক ফিউরিতে যুক্তরাষ্ট্র সব সামরিক লক্ষ্য অর্জন করেছে।
তবে সমালোচকদের মতে, ট্রাম্পের ঘোষিত প্রধান লক্ষ্যগুলো এখনো পূরণ হয়নি। তিনি বলেছিলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা, আঞ্চলিক প্রভাব কমানো ও রেজিম চেঞ্জ করা তাঁর উদ্দেশ্য। কিন্তু বাস্তবে ইরান এখনো পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধে রাজি হয়নি। আঞ্চলিক প্রভাব তো কমেনি, উল্টো এমনও হতে পারে—এখন থেকে ইরানকে টোল দিয়ে হরমুজ পার হতে হবে। ট্রাম্প রেজিম চেঞ্জ করার কথা বললেও বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, দেশটির থিওক্রেটিক (ধর্মীয়) সরকার কার্যত অক্ষত।
বিভিন্ন মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে ইরান তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ছাড়তে রাজি নয়। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন বলেও জানা গেছে।
এ ছাড়া যুদ্ধের ফলে ইরান ভবিষ্যতে আরও বেশি করে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে ঝুঁকতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কিছু বিশ্লেষক। তাঁদের মতে, উত্তর কোরিয়ার মতো সামরিক প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে চাইতে পারে তেহরান।
যুদ্ধ ঘিরে ট্রাম্পের দেশীয় রাজনীতিতেও চাপ বাড়ছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, কমে যাওয়া জনপ্রিয়তা ও সামনের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করা রিপাবলিকান পার্টির জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
মার্কিন বিশ্লেষক জনাথন প্যানিকফ বলেন, ইরান মনে করছে, শুধু টিকে থাকাটাই তাদের জন্য বড় সাফল্য। তারা বুঝেছে, হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব।
অন্যদিকে, ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কেও টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। অনেক ইউরোপীয় দেশ যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক অভিযানে প্রত্যক্ষ সমর্থন দিতে অনাগ্রহ দেখিয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, ট্রাম্প হয়তো নতুন কোনো আন্তর্জাতিক ইস্যু সামনে এনে ইরান যুদ্ধের চাপ কমানোর চেষ্টা করতে পারেন। তবে সমালোচকদের মতে, যুদ্ধের শুরুতে যেভাবে দ্রুত বিজয়ের আশা করা হয়েছিল, বাস্তবতা এখন অনেক বেশি জটিল হয়ে উঠেছে।
ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের জ্যেষ্ঠ গবেষক রবার্ট কাগান বলেন, এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক অবস্থানের জন্য ভিয়েতনাম বা আফগানিস্তান যুদ্ধের চেয়েও বড় কৌশলগত ধাক্কা হয়ে উঠতে পারে। কারণ, ওই দেশগুলো বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার মূল কেন্দ্র থেকে দূরে ছিল, কিন্তু মধ্যপ্রাচ্য তা নয়।
রবার্ট কাগান সম্প্রতি তাঁর ‘চেকমেট ইন ইরান’ নামের নিবন্ধে লিখেছেন, পুরোনো অবস্থায় ফিরে যাওয়ার আর কোনো সুযোগ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের আর এমন কোনো চূড়ান্ত বিজয় আসবে না, যা এই ক্ষতিকে পুষিয়ে দিতে পারবে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সম্ভাব্য সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে দুই পক্ষই ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে যুদ্ধবিরতি স্থায়ীভাবে কার্যকর করতে প্রস্তাবিত এই চুক্তির বিভিন্ন শর্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
১ দিন আগে
রাশিয়া-ইরানের ‘স্বার্থের সম্পর্ক’ কি ভাঙনের মুখে, এই সম্পর্ক বহু সংঘাত, যুদ্ধ ও অবিশ্বাসে ভরা। ১৮২৯ সালে তৎকালীন রুশ রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্ডার গ্রিবোয়েদভ তেহরানে ক্ষুব্ধ জনতার হাতে নিহত হন। রাশিয়া-পার্সিয়া যুদ্ধের পর চুক্তি বাস্তবায়ন ও ক্ষতিপূরণ আদায়ের দায়িত্বে ছিলেন তিনি...
১ দিন আগে
২০২৪ সালের জানুয়ারি। হাড়কাঁপানো এক শীতের দিনে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) সামনে জড়ো হয়েছেন হাজার হাজার বিক্ষোভকারী। তাঁদের লক্ষ্য হলো, গাজায় ইসরায়েলের চালানো ১০০ দিনের বেশি ‘গণহত্যামূলক’ যুদ্ধের নিন্দা জানানো।
২ দিন আগে
ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই চার দিনের সফরে আজ শনিবার সকালে ভারতে এসে পৌঁছেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। আজ সকালে তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজধানী কলকাতায় এসে পৌঁছান।
৩ দিন আগে