দাসপ্রথার প্রশ্নে বিভক্তি থেকে প্রথমবারের মতো গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে। ১৮৬১ সালের ১২ এপ্রিল কনফেডারেট বাহিনীর আক্রমণের মধ্য দিয়ে এ গৃহযুদ্ধের সূচনা হয়, যা স্থায়ী হয়েছিল ১৮৬৫ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত। এর পর থেকে সবকিছু চলছিল স্বাভাবিক নিয়মেই। তবে প্রথম গৃহযুদ্ধের ১৫৬ বছর পর এসে যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও মতাদর্শিক বিভাজন, উগ্রবাদের উত্থান ও তাদের প্রভাব ভাবাচ্ছে নতুন করে। সেইসঙ্গে বিশ্বের অন্যতম বড় গণতান্ত্রিক এ দেশটি আবারও গৃহযুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে কি না, উঠছে এমন প্রশ্নও।
গত বছরের একটি জাতীয় জরিপের তথ্য বলছে, ৪৬ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন তাদের দেশে ‘আরও একটি গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা’ রয়েছে। ৪৩ শতাংশ মানুষ এ ধরনের আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন। বাকিরা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
গত বছরের ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল ভবনে হামলা চালায় সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকেরা। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিপক্ষ জো বাইডেনের জয় মেনে নিতে না পেরেই মূলত এ হামলা চালানো হয়। আর এর মাধ্যমেই দেশটিতে ব্যাপক মাত্রায় দৃশ্যমান হয় উগ্রবাদ নামক সামাজিক ব্যাধি। সংঘাতের শুরুও ক্যাপিটল হিলের এই দাঙ্গার মাধ্যমেই।
বিশ্লেষকেরা মনে করেন, ৬ জানুয়ারির ওই হামলার রেশ এখনো কাটেনি। বরং সেখান থেকেই শুরু হয়েছে নতুন আরও ঘটনা। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ক্ষমতা থেকে সরার পর রিপাবলিকানে প্রভাব আরও পাকাপোক্ত হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের। আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরেও দীর্ঘ পরিকল্পনা রয়েছে দলটির।
এক জরিপে দেখা যায়, ৬৮ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ২০২০ সালের নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির কোনো প্রমাণ নেই বলে মনে করলেও, ৬২ শতাংশ রিপাবলিকান এতে দ্বিমত পোষণ করেন। ৬০ শতাংশ মার্কিন নাগরিকের মতে, ক্যাপিটলে হামলার ঘটনায় ট্রাম্পের দায় বেশি। কিন্তু ৭২ শতাংশ রিপাবলিকান মনে করেন, এ ক্ষেত্রে ট্রাম্পের তেমন কোনো দায় নেই।
সিনিয়র রাজনৈতিক বিশ্লেষক মারওয়ান বিশারার মতে, জরিপের এই তথ্যই বলছে যে মার্কিন নাগরিকরা এখন বিভক্ত। দেশটিতে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তীব্র এবং উদারনীতিবাদের বিরুদ্ধে কুৎসিত এক ‘যুদ্ধ’ চলছে। সঙ্গে রয়েছে দেশটির করপোরেট অনেক মিডিয়ার ‘ভ্রান্ত’ প্রচারণা, যা দীর্ঘায়িত হলে মার্কিন গণতন্ত্রের ভাঙন অবশ্যম্ভাবী।
আল জাজিরায় প্রকাশিত এক কলামে তিনি লিখেছেন, ‘পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রে রাখার ভান না করে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত গণতন্ত্রকে দেশীয় নীতির কেন্দ্রে রাখা। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান যুদ্ধের পালে হাওয়া না দিয়ে, নিজেদের সমস্যার দিকে মনোযোগ দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।’
বিশ্লেষণ সম্পর্কিত আরও পড়ুন:

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দীর্ঘ আট দশক ধরে জাপান তার শান্তিবাদী সংবিধান এবং যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নিরাপত্তা ছাতার ওপর ভরসা করে চলেছে। কিন্তু পূর্ব এশিয়ার পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা ও নতুন নিরাপত্তার হুমকির মুখে টোকিও এখন তার দীর্ঘদিনের কৌশলগত অবস্থান পুনর্মূল্যায়ন করতে বাধ্য হচ্ছে।
১৫ ঘণ্টা আগে
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বহু বছর ধরেই চলে আসছে। এর ফলে তেল রপ্তানি, আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা এবং বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনে কঠোর নিয়ন্ত্রণ থাকার পরও...
১ দিন আগে
পশ্চিমা দেশগুলোতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ব্যবহারে প্রশাসনিক কড়াকড়ি ও ‘নেট জিরো’ নীতি বাস্তবায়নের তীব্র সমালোচনা করেছেন খ্যাতনামা কানাডীয় মনোবিজ্ঞানী, চিন্তাবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক জর্ডান পিটারসন। দাবি করেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চরম বিপর্যয়ের চিত্রকে পুঁজিবাদ ও মুক্তবাজার অর্থনীতি ধ্বংসের...
১ দিন আগে
চলতি সপ্তাহের শুরুতে জর্ডানে অবস্থিত এক মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের আচমকা ক্ষেপণাস্ত্র হামলাটি ব্যাখ্যা করা কঠিন বলেই মনে হয়েছিল প্রথম দর্শনে। এই হামলা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার প্রত্যক্ষ লড়াইয়ের ভঙ্গুর বিরতিতে ইতি টেনেছে এবং ওয়াশিংটনকে ইরানে পুনরায় হামলা চালাতে প্ররোচিত করেছে।
২ দিন আগে