১৯৭১ সালের ১৬ মার্চ আমি পশ্চিম পাকিস্তান থেকে ঢাকায় ফিরি। তাই মার্চের শুরুর দিকের উত্তাল গণ-আন্দোলন কিংবা ৭ মার্চের ভাষণ স্বচক্ষে দেখার সুযোগ আমার হয়নি। তবে মানুষের তীব্র ক্ষোভ বুঝতে পারছিলাম। বিশেষ করে পার্লামেন্টের অধিবেশন পিছিয়ে দেওয়ায় বাঙালিরা কতটা সংক্ষুব্ধ ছিল, তা অনুভব করা যাচ্ছিল। ঢাকায় আসার পরপরই আমাদের সীমান্ত এলাকায় শীতকালীন মহড়ায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে সৈনিকদের নিয়ে দিন-রাত যুদ্ধের কলাকৌশল রপ্ত করছিলাম। ২৯ মার্চ পর্যন্ত আমরা সেই সামরিক অনুশীলনেই ব্যস্ত ছিলাম। ফলে ২৫ মার্চের ভয়াবহ ক্র্যাকডাউন কিংবা ২৬ ও ২৭ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা সম্পর্কে জানার সুযোগ আমাদের ছিল না।
২৯ মার্চ আমাদের ক্যান্টনমেন্টে ডেকে পাঠানো হয়। গভীর রাতে সেখানে পৌঁছাই। পরদিন ৩০ মার্চ সকাল সাড়ে ৭টায় ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার আবদুর রহিম দুররানি নির্দেশ দিলেন যে আমাদের ব্যাটালিয়ন অর্থাৎ প্রথম ইস্ট বেঙ্গলকে নিরস্ত্র করা হয়েছে। ইতিমধ্যে অন্যান্য ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট বিদ্রোহ করলেও আমরা শীতকালীন মহড়ায় থাকায় খবরটি জানতাম না। ব্রিগেড কমান্ডার আমাদের নিরস্ত্র করার নির্দেশের সঙ্গে সঙ্গেই বাঙালি সৈনিকেরা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং অস্ত্রাগার ভেঙে অস্ত্র নিয়ে নেয়। শুরু হয় এক ঐতিহাসিক বিদ্রোহ। ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে টানা আট ঘণ্টা সম্মুখযুদ্ধ চলে। আমাদের কমান্ডিং অফিসার ছিলেন একজন বাঙালি। লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেজাউল জলিল। অত্যন্ত স্মার্ট এই অফিসার সংকট মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত দিতে পারলেন না। সৈনিকেরা আমাকে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিতে অনুরোধ করল। ব্যাচেলর হওয়ায় আমার কোনো পিছুটান ছিল না। একটি পিলারের পেছনে দাঁড়িয়ে আমি এক-দুই মিনিট চিন্তা করলাম। আমার বিবেক বলল, সৈনিকদের সঙ্গে থাকাই সঠিক কাজ। আমি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়লাম।
তথ্যসূত্র: আনিসুল হক কর্তৃক মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ, প্রথম আলোর অনলাইনে ২০২৬ সালের ২৬ মার্চ প্রকাশিত

ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, ‘পদ্মা ব্যারাজ’ প্রকল্প একটি অত্যন্ত অপরিণত এবং অপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত। পদ্মা ব্যারাজ নিয়ে আলোচনা করার আগে আমাদের আরও মৌলিক একটি বিষয় মোকাবিলা করা প্রয়োজন। ফারাক্কা ব্যারাজের কারণে বাংলাদেশ শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানি পায় না। চুক্তি সইয়ের পরও আমরা ধারাবাহিকভাবে...
৫ দিন আগে
বলিউডের অনেক সিনেমায় দেখা যায় গরবা নাচের দৃশ্য। এই গরবা হচ্ছে ভারতের গুজরাট রাজ্যের একটি ঐতিহ্যবাহী ও জনপ্রিয় লোকনৃত্য। এটি সাধারণত ৯ দিনের হিন্দু উৎসব ‘নবরাত্রি’তে দেবী দুর্গার সম্মানে পরিবেশন করা হয়। সংস্কৃত শব্দ ‘গর্ভ’ থেকে এসেছে ‘গরবা’ নামটি। এটি গর্ভধারণ বা গর্ভাবস্থাকে বোঝায়, যা হলো...
৬ দিন আগে
এখন তো সরকার শুধু চেঞ্জ হয়, একটা সরকার যায় আর একটা সরকার আসে। কিন্তু আমরা যদি ওইভাবে চিন্তা করি, মানুষের মধ্যে কীভাবে পরিবর্তন হচ্ছে, তাদের জীবনের মধ্যে কীভাবে পার্থক্য আসছে, সেটা বুঝতে হবে। তারপর নারী-পুরুষের প্রশ্নগুলো থেকে যাচ্ছে। কারণ, নারী-পুরুষদের নিয়ে অনেক কথা হয়।
১৯ দিন আগে
গাজীর গান হলো গাজী পীরের বন্দনা ও মাহাত্ম্য গীতি। এই গানের সঙ্গে মিলিয়ে ছন্দে-তালে শিল্পীরা পরিবেশন করে নাচ। একে তাই গাজীর নাচও বলা যায়। গাজী পীর, অসাম্প্রদায়িক। গাজীর গানে মূল গায়েন বা ‘গাজীর খলিফা’ গায়ে আলখাল্লা ও মাথায় পাগড়ি পরে হাতে একটি ‘আসা দণ্ড’ (লাঠি) নিয়ে তাল ও ছন্দের তালে পা ফেলে...
২০ দিন আগে