পয়লা বৈশাখের ক্ষেত্রে, ষাটের দশকের শেষ দিকে ব্যাপারটা একধরনের প্রতিবাদের মধ্য দিয়েই নতুনভাবে আবির্ভূত হয়েছিল। সেটা পাকিস্তান রাষ্ট্রের অগণতান্ত্রিক ও বাংলাদেশ-বিরোধী, পূর্ববঙ্গ-বিরোধী, এই অঞ্চলের জনমানুষ ও বাঙালি জনগোষ্ঠী-বিরোধী যে অবস্থান—সেই অবস্থানের বিরুদ্ধে লড়াই-সংগ্রামের অংশ হিসেবেই আসলে নববর্ষ নতুনভাবে উত্থিত হয়েছিল। ফলে তার একটা প্রতিবাদী ভূমিকা ছিল।
কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশে আমরা একই ধরনের প্রতিবাদী ভূমিকাটা পাব না। একই সঙ্গে যে শোভাযাত্রা শুরু হয়েছিল, তারও একটা প্রতিবাদী মুহূর্ত ছিল এবং সেটা তার প্রতিবাদী মুহূর্ত, তাৎপর্য ও অবদান ঠিকভাবেই পালন করেছে। কিন্তু বছরের পর বছর একই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সেটা পালিত হবে, সেটা সম্ভব নয়।
আর নববর্ষ উদ্যাপন নিয়ে বিতর্ক বাংলাদেশে প্রবল। শুধু এই বিষয়ে নয়, সংস্কৃতির প্রায় সব অঙ্গনেই এ রকম বিতর্ক আছে। সেটা খুব গভীরভাবে রাজনীতিকে প্রভাবিত করছে। একে আমাদের বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সামষ্টিক যে জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে রাজনৈতিক জনগণ হিসেবে আবির্ভূত হওয়া এবং সেখান থেকে রাষ্ট্র পরিগঠন, এটারই একটা বিরোধী অবস্থা হিসেবে দেখি।
বৈশাখের ক্ষেত্রে আমি বলব যে এতে দুই পক্ষেরই দায় আছে। দায়টা হলো—লোকে সাধারণত ‘আদর্শ’ প্রস্তাব করে। এই আদর্শ প্রস্তাব করাটা একটা বড় ধরনের সমস্যা যে ‘আমি যা করছি, এটা এভাবে করা হবে এবং এটাই হলো আদর্শ, ফলে অন্যদেরকে এদিকে আসতে হবে।’ আসলে ব্যাপারটা কী? আসলে এটা একটা নববর্ষ। এটা মানুষের জীবনযাপনের সঙ্গে সম্পর্কিত। এটা ঐতিহাসিকভাবে নানাভাবে বিবর্তিত হয়েছে এবং চলে আসছে। ফলে এটাকে আমাদের ‘ডিসকার্সিভ প্র্যাকটিস’ হিসেবে দেখতে হবে।
কিন্তু ওটাকে যদি আমি একটা মতাদর্শিক দিক থেকে দেখতে থাকি, আদর্শ হিসেবে দেখতে থাকি, আরোপণমূলকভাবে চর্চা করতে চাই, তখন আবশ্যিকভাবে দুটি ঘটনা ঘটে। একটা হলো, সে বাস্তব জীবনের তল থেকে ছুটে গিয়ে শূন্যে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে, যা বাস্তব জীবনযাপনের সঙ্গে ধীরে ধীরে সম্পর্ক হারায়। আরেকটা হলো, এ ধরনের যেকোনো আদর্শবাদী প্রস্তাব আবশ্যিকভাবে প্রতিপক্ষ তৈরি করে, বিরোধীপক্ষ তৈরি করে।
তথ্যসূত্র: আরিফ রহমান ও হুমায়ূন শফিক কর্তৃক মোহাম্মদ আজমের সাক্ষাৎকার গ্রহণ; ২০২৬ সালের ১৪ এপ্রিল ‘ঢাকা স্ট্রিমে’ প্রকাশিত

হাঁস রোস্ট করার সবচেয়ে প্রথম লিখিত উল্লেখ পাওয়া যায় চীনের উত্তর ও দক্ষিণ রাজবংশের সময়কালের একটি রান্নার বইয়ে। ১২৭১ সালে মঙ্গোল নেতা কুবলাই খান যখন ইউয়ান রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেন, তখন এই খাবারটি রাজকীয় খাদ্যতালিকার অংশ হয়ে ওঠে।
৪ দিন আগে
একসময় শিক্ষাকে একটি ফুটো পাত্র আকারে দেখা হতো, যেখানে হয়তো একজন পানি দিচ্ছে কিংবা কেউ শিক্ষাকে মন্ত্র হিসেবে দেখছেন; যার জোরে যে কেউ তাঁর নিজের মতো করে জ্ঞানের রাজ্যে হাঁটতে পারেন। ‘অন্বেষণ ও সৃষ্টি’র পথে নিজেকে প্রতিনিয়ত উন্নত থেকে উন্নততর করে তুলতে পারেন। ওই ধারার শিক্ষার কথা বলছেন ভনহাম বোল্ডট।
১০ দিন আগে
ইউরোপীয় বা আফ্রিকানরা ক্যারিবীয় অঞ্চলে আসার বহু আগে থেকে এখানকার আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রধান খাদ্য ছিল কাসাভা বা শিমুল আলু। তিতকুটে শিমুল আলু থেকে বিষাক্ত উপাদান বের করে, তা কুচি করে আগুনে সেঁকে রুটি বা পিঠা তৈরি করার একটি নিজস্ব ও প্রাচীন কৌশল তাদের জানা ছিল। এই আদিবাসী রন্ধনশৈলী থেকে জন্ম হয়...
১১ দিন আগে
কোস্টারিকার একটি প্রচলিত গল্প অনুসারে, ১৯৩০-এর দশকে সান হোসের সান সেবাস্তিয়ান নামক এলাকায় এক খামারি সেন্ট সেবাস্তিয়ান দিবসে অতিথিদের খাওয়ানোর জন্য একটি দাগযুক্ত মোরগ লালন-পালন করছিলেন। স্প্যানিশ ভাষায় এ রকম মোরগকে বলা হয় গালো পিন্টো।
১৬ দিন আগে