Ajker Patrika

আইপ্যাড ও ম্যাকবুকের দাম বাড়াল অ্যাপল

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৬ জুন ২০২৬, ১১: ২০
আইপ্যাড ও ম্যাকবুকের দাম বাড়াল অ্যাপল
ম্যাকবুক ও আইপ্যাডের দাম বাড়িয়েছে অ্যাপল। ছবি: সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) শিল্পে ডেটাসেন্টার নির্মাণের দ্রুত বিস্তার এবং এর ফলে মেমোরি ও স্টোরেজ চিপের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় আইপ্যাড ও ম্যাকবুকের দাম বাড়িয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। গতকাল বৃহস্পতিবার কোম্পানিটি জানায়, এতদিন তারা বাড়তি খরচ নিজেরা বহন করে গ্রাহকদের ওপর চাপ কমিয়ে রেখেছিল, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তা আর সম্ভব হচ্ছে না।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, তবে এই মূল্যবৃদ্ধি এখনই অ্যাপলের সবচেয়ে বড় আয়ের উৎস আইফোনে প্রভাব ফেলছে না। নতুন ঘোষণার ফলে অ্যাপলের স্বল্পমূল্যের ল্যাপটপ ‘নিও’-এর শুরুর দাম ৫৯৯ ডলার থেকে বেড়ে ৬৯৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। কয়েক মাস আগে উন্মোচিত এই মডেলটি সাশ্রয়ী মূল্যের উইন্ডোজ ও ক্রোমবুক ল্যাপটপের বাজারে অংশীদারিত্ব বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে আনা হয়েছিল।

অ্যাপলের এই পদক্ষেপ দেখাচ্ছে, প্রযুক্তি শিল্পে সবচেয়ে শক্তিশালী সরবরাহ শৃঙ্খল থাকা কোম্পানিগুলোর একটি হয়েও তারা বৈশ্বিক মেমোরি সংকট ও ব্যয় বৃদ্ধির বাইরে থাকতে পারছে না। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি স্মার্টফোন ও ব্যক্তিগত কম্পিউটার বাজারের প্রবৃদ্ধিকেও দুর্বল করে তুলতে পারে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মেমোরি নির্মাতারা এআই খাতের বড় ক্রেতাদের দিকে বেশি ঝুঁকেছে। মাইক্রনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এনভিডিয়ার মতো এআই চিপ নির্মাতাদের অর্ডারকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় ভোক্তা ইলেকট্রনিকস খাতে সরবরাহ কমে গেছে। এর ফলে বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতাকে দাম বাড়াতে হচ্ছে।

অ্যাপল এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমরা আগে কখনও কোনো উপাদানের দাম এত দ্রুত ও এত বড় পরিসরে বাড়তে দেখিনি। এতদিন আমরা গ্রাহকদের এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব থেকে সুরক্ষা দিয়েছি। কিন্তু এখন এমন অবস্থায় পৌঁছেছি যেখানে আইপ্যাড ও ম্যাকসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ানো শুরু করতে হচ্ছে।’

কোম্পানিটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ৫১২ গিগাবাইট স্টোরেজের ম্যাকবুক এয়ারের দাম ১ হাজার ৯৯ ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ২৯৯ ডলার হয়েছে। ১ টেরাবাইট স্টোরেজের ম্যাকবুক প্রোর দাম ১ হাজার ৬৯৯ ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ৯৯৯ ডলারে উঠেছে।

একইভাবে ১২৮ গিগাবাইট স্টোরেজের আইপ্যাড এয়ারের দাম ৫৯৯ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৭৪৯ ডলার করা হয়েছে। পাশাপাশি অ্যাপল তাদের হোমপড স্মার্ট স্পিকারের দুটি সংস্করণ এবং অ্যাপল টিভি সেট-টপ বক্সের দামও বাড়িয়েছে।

দাম বাড়ানোর ঘোষণার পর অ্যাপলের শেয়ার প্রায় ৫ শতাংশ কমেছে। প্রতিদ্বন্দ্বী ডেলের শেয়ারও ৮ শতাংশের বেশি কমেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, অন্য ডিভাইস নির্মাতাদের সামনে আরও কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। কারণ সরবরাহকারীদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কারণে অ্যাপল তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতির মুখে পড়েছে। প্রযুক্তি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ক্রিয়েটিভ স্ট্র্যাটেজিসের প্রধান নির্বাহী বেন বাজরিন বলেন, ‘মেমোরি বাজারের পরিস্থিতি কঠিন এবং সামনের সময়েও এটি কাঠামোগতভাবে কঠিন থাকবে।’

অ্যাপল এর আগে এপ্রিল মাসে জানিয়েছিল, হাতে থাকা মজুতের কারণে তারা ওয়াল স্ট্রিটের প্রত্যাশার চেয়ে ভালো গ্রস মার্জিন ধরে রাখতে পেরেছে। তবে জুন মাসের শেষ থেকে বাড়তি মেমোরি ব্যয়ের চাপ আর এড়ানো যাবে না এবং এতে লাভজনকতা কিছুটা কমে যেতে পারে। এপ্রিলের শেষ দিকে বিশ্লেষকদের সঙ্গে কনফারেন্স কলে অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক বলেন, ‘আমরা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি মেমোরি ব্যয় প্রত্যাশা করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘জুন প্রান্তিকের পরের সময় নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলছি না, তবে আমরা মনে করি জুনের পর মেমোরি ব্যয় আমাদের ব্যবসায় আরও বড় প্রভাব ফেলবে।’

ব্যয় সামাল দিতে দাম বাড়ানো ছাড়া আর কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে কিছু জানায়নি অ্যাপল। কোম্পানিটি বলেছে, ‘এটি গ্রাহকদের জন্য সুখকর খবর নয়, আমরা সমাধান খুঁজে বের করতে কাজ করছি।’

বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী কয়েক মাসে আইফোনের দামও বাড়তে পারে। এতে সম্ভাব্য ক্রেতারা নতুন দাম কার্যকরের আগেই কেনাকাটার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইডিসির জ্যেষ্ঠ গবেষণা পরিচালক নাবিলা পোপাল বলেন, ‘আইফোনও এই চাপ থেকে মুক্ত নয়, এর মূল্যবৃদ্ধিও আসছে। নতুন আইফোন উন্মোচনের আগে মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়া অ্যাপলের কৌশলগত সিদ্ধান্ত।’

শিল্প বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ট্রেন্ডফোর্সের তথ্য অনুযায়ী, আধুনিক প্রযুক্তিপণ্যে ব্যবহৃত ডায়নামিক র্যান্ডম অ্যাকসেস মেমোরি (ডিআরএএম)-এর দাম ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে সর্বোচ্চ ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। চলতি প্রান্তিকে তা আরও ৫৮ থেকে ৬৩ শতাংশ বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ এই পরিস্থিতিকে ‘র্যামাগেডন’ নামে আখ্যা দিয়েছেন।

এআই ডেটাসেন্টার নির্মাণের চাহিদা এবং এনভিডিয়ার মতো কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তির কারণে মেমোরি নির্মাতারা উৎপাদন বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় নেমেছে। মাইক্রন জানিয়েছে, মেমোরি সরবরাহ নিশ্চিত করতে আগ্রহী গ্রাহকদের কাছ থেকে তারা ইতোমধ্যে ২২ বিলিয়ন ডলারের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি পেয়েছে। এই ব্যয়বৃদ্ধির প্রভাবে এ বছর প্রযুক্তিপণ্যের বাজারে বড় ধাক্কার আশঙ্কা করা হচ্ছে। আইডিসির পূর্বাভাস অনুযায়ী, স্মার্টফোন বাজার এ বছর প্রায় ১৪ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে, যা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বার্ষিক পতন। একই সময়ে পিসি বাজার কমতে পারে ১১ দশমিক ৩ শতাংশ।

তবে কিছু ব্যতিক্রমও আছে। মার্চে উন্মোচিত ম্যাকবুক নিও অ্যাপলের জুন প্রান্তিকের বিক্রি বাড়াতে সহায়তা করেছে এবং পিসি বাজার নিয়ে কিছু বিশ্লেষক তাঁদের পূর্বাভাসও সংশোধন করেছেন। তবে নতুন মূল্য অনুযায়ী, নিও এখন ডেলের গত মাসে উন্মোচিত ৬৯৯ ডলারের এক্সপিএস ১৩-এর তুলনায় আগের ১০০ ডলারের মূল্যসুবিধা হারিয়েছে। একই সঙ্গে এটি লেনোভো ও আসুসের কিছু ক্রোমবুকের চেয়েও বেশি দামের হয়ে গেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত