Ajker Patrika

মিনাবের নিহত শিশুদের স্মরণ, চিঠি রেখে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ল ইরান

ক্রীড়া ডেস্ক    
আপডেট : ২২ জুন ২০২৬, ২০: ৪২
মিনাবের নিহত শিশুদের স্মরণ, চিঠি রেখে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ল ইরান
নকআউটের আশা বাঁচিয়ে রেখেছে এশিয়ার দলটি। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের মঞ্চে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি নিজেদের দেশের চলমান সংকটের কথাও তুলে ধরল ইরান। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার আগে লস অ্যাঞ্জেলেসের ড্রেসিংরুমে একটি হাতে লেখা চিটি রেখে গেছেন ইরানি ফুটবলাররা, যেখানে আতিথেয়তার জন্য স্বাগতিক শহরকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি স্মরণ করা হয়েছে মিনাবের এক স্কুলে নিহত শিশুদের।

বেলজিয়ামের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে নকআউটের আশা জিইয়ে রেখেছে ইরান। পরবর্তী ম্যাচে সিয়াটলে মিসরের মুখোমুখি হওয়ার আগে দলটি লস অ্যাঞ্জেলেস ত্যাগ করে। বিদায়ের মুহূর্তে ড্রেসিংরুমে রেখে যাওয়া দলটির বার্তা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। চিঠির শুরুতে লেখা ছিল, ‘হাজার বছরের প্রাচীন পারস্য থেকে আজকের সভ্য ইরান পর্যন্ত, ইরানের আত্মা আজও জীবিত এবং দৃঢ়ভাবে স্থির রয়েছে।’

iran-letter

বার্তাটিতে ব্যবহৃত #১৬৮ এবং #মিনাব হ্যাশট্যাগ বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এগুলো মিনাব শহরের একটি বিদ্যালয়ে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সংঘটিত বোমা হামলার হতাহতের ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত বহন করে। একটি প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা ১৬৮ বলা হলেও অন্য সূত্রে তা ১৫৬ উল্লেখ করা হয়েছে। তবে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করা নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই।

ইরানি ফুটবলাররা তাদের বার্তায় আরও লেখেন, ‘আমরা গর্ব নিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসে এসেছি, সম্মানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি এবং মর্যাদার সঙ্গে বিদায় নিচ্ছি।’ সমর্থকদের উদ্দেশে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তারা বলেন, ‘লস অ্যাঞ্জেলেস, তোমাদের আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ এবং সেই সঙ্গে প্রতিটি ইরানিকে ধন্যবাদ, যারা এই ১৮০ মিনিট জুড়ে ইরানের জন্য তাদের হৃদয়, কণ্ঠ এবং আত্মা উজাড় করে দিয়েছে।’

বার্তার শেষাংশে ছিল শান্তির আহ্বান, ‘সব জাতির মধ্যে শান্তি, সম্মান এবং বন্ধুত্ব বজায় থাকুক।’

এবারের বিশ্বকাপের স্মৃতি মোটেও সুখকর হচ্ছে না ইরানের জন্য। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন বিধিনিষেধের কারণে দেশটিতে দলটিকে ৪৮ ঘণ্টার বেশি অবস্থানের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ফলে তাদের নির্ধারিত বেস ক্যাম্প অ্যারিজোনার টুসনের পরিবর্তে মেক্সিকোর তিহুয়ানায় স্থানান্তর করতে হয়।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের আগে ইরান ম্যাচের আগের দিন লস অ্যাঞ্জেলেসে পৌঁছায় এবং খেলা শেষ হওয়ার পরপরই আবার মেক্সিকোতে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। এ ছাড়া দলের কয়েকজন কর্মকর্তা ও সহায়ক স্টাফ যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাননি। খেলোয়াড় মেহদি তোরাবিকেও নিউজিল্যান্ড ম্যাচের পর নতুন করে ভিসা সংগ্রহ করতে হয়েছে, কারণ তার একবার প্রবেশযোগ্য ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত