Ajker Patrika

‘ফিফা সভাপতির ক্যামেরার আশপাশে এত ঘোরাঘুরি করা উচিত না’

ক্রীড়া ডেস্ক    
আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২৬, ১২: ০২
‘ফিফা সভাপতির ক্যামেরার আশপাশে এত ঘোরাঘুরি করা উচিত না’
১১ বছর ফিফা সভাপতি পদে আছেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব ফুটবল থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে তাঁর বিপক্ষের লোক। এবার স্কটল্যান্ডও তাঁর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে দিল। গতকাল স্কটিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এসএফএ) রীতিমতো ক্ষোভ ঝাড়ল ফিফা সভাপতির ওপর।

এসএফএর প্রধান নির্বাহী ইয়ান ম্যাক্সওয়েল গতকাল এক বিবৃতিতে ইনফান্তিনোর ওপর নিজেদের অনাস্থার কথা জানিয়েছেন। তাঁর মতে বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থার প্রধান হিসেবে ইনফান্তিনোর এত ক্যামেরার সামনে ঘোরাফেরা করা উচিত না। ম্যাক্সওয়েল বলেন, স্কটিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন জিয়ানি ইনফান্তিনোকে ভোট দেবে না। এটি উয়েফার অবস্থানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ এবং আমরা শুরু থেকেই এই অবস্থানে অটল রয়েছি। আপনি যখন ফুটবল প্রশাসনের দায়িত্বে থাকবেন, তখন ক্যামেরার সামনে এত ঘন ঘন থাকা উচিত নয়। কোনোভাবেই নয়।

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা একেবারে কম হয়নি। যে স্টেডিয়ামেই ম্যাচ হোক, গ্যালারি দেখা গেছে কানায় কানায় পরিপূর্ণ। আর্জেন্টিনার ম্যাচ হলে তো কথাই নেই। তাদের প্রাণভোমরা লিওনেল মেসিকে এক নজর দেখতে ভক্ত-সমর্থকেরা উন্মুখ হয়ে থাকেন। স্টেডিয়াম তো বটেই, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী খেলা দেখেছেন। ম্যাক্সওয়েল বলেন,
‘সবচেয়ে সফল এবং সবচেয়ে বেশি সমর্থন পাওয়া একটি বিশ্বকাপের পর যেখানে উপস্থিত প্রত্যেক স্কটল্যান্ড সমর্থক সারা জীবন সেই অভিজ্ঞতার কথা বলবেন। সেখানে এখন মাঠের খেলার বদলে মাঠের বাইরের ঘটনাগুলোই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।’

ম্যাক্সওয়ের মতে খেলার সঙ্গে সমর্থকদের যথাযথ সংযোগ ঘটানোই মূলত ফুটবলের উদ্দেশ্য। এসএফএর প্রধান নির্বাহী বলেন, ‘ফুটবল এমন হওয়া উচিত নয়। এর মূল ফোকাস হওয়া উচিত খেলা এবং সমর্থকদের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর। স্পষ্টতই শাসনব্যবস্থায় ব্যর্থতা ঘটেছে। স্বচ্ছতার অভাব ছিল, সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ততারও ঘাটতি ছিল। এসব বিষয় আমাদের সমাধান করতে হবে। স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে হবে। সেই পরিবর্তন কীভাবে হবে, তার কাঠামো কেমন হবে—তা নিয়ে কিছুটা আলোচনা-বিতর্ক হতে পারে।’

বিশ্বকাপের আংশিক মালিকানা বিক্রির প্রস্তাব দিয়ে ইনফান্তিনো বিতর্কিত অবস্থায় পড়ে গেছেন। পরে তাঁর সেই পরিকল্পনা ভেস্তে দেওয়ায়। উয়েফার ৫৫ সদস্য দেশ ফিফার টুর্নামেন্টগুলো বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এমনকি ইনফান্তিনো ক্ষমাও চেয়েছেন। যদিও উয়েফা তাদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি। সম্প্রতি উয়েফা, কনক্যাকাফ, এএফসি যৌথ বিবৃতিতে ফিফাকে রীতিমতো ধুয়ে দিয়েছে। তাদের মতে ফুটবল কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়।

উয়েফা, কনক্যাকাফ, এএফসির সেই যৌথ বিবৃতির সঙ্গেই গতকাল একমত পোষণ করল এসএফএ। এক বিবৃতিতে ম্যাক্সওয়েল বলেন, ‘ফিফার প্রত্যেক সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের মতামত দেওয়ার অধিকার থাকা উচিত। ঠিক যেমন স্কটল্যান্ডের প্রত্যেক সদস্যেরও এই দেশে ফুটবল পরিচালনার ক্ষেত্রে মতামত দেওয়ার অধিকার থাকা উচিত। ফুটবল সবার জন্য। এটা কোনো ব্যক্তিবিশেষের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জায়গা নয়। এই প্রক্রিয়ায় আমাদেরও অংশীদার হতে হবে।’

২০১৫ থেকে ফিফা সভাপতির পদে আছেন ইনফান্তিনো। ২০২৭ সালের মার্চে চতুর্থ ও শেষ মেয়াদের জন্য পুনরায় সভাপতি নির্বাচনে দাঁড়ানোর কথা রয়েছে তাঁর। তবে যেভাবে তিনি ‘নিঃস্ব’ হয়ে যাচ্ছেন, তাঁর পক্ষে সমর্থন কমে যাচ্ছে, তাতে ফের ফিফা সভাপতি হওয়া তুলনামূলক কঠিনই। ওয়েলস, নিউজিল্যান্ড ফুটবলও ইনফান্তিনোর ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করেছে। নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশন তো ফিফা সভাপতির পদত্যাগ দাবি করে বসেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত