
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিও বার্তায় চমক দেখান তিনি। অনুমিতভাবেই দলের নেতৃত্বে আছেন লিওনেল মেসি, যিনি পা রাখতে যাচ্ছেন নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে। তবে স্কালোনির এই দলে সবচেয়ে বড় চমক বিশ্বকাপজয়ী তারকা মার্কোস আকুনিয়ার বাদ পড়া। দলে ফিরেছেন জিওভানি লো সেলসো ও তরুণ তুর্কি ভালেনতিন বার্কো। পাশাপাশি বিকল্প ফরোয়ার্ড হিসেবে হোসে ফ্লাকো লোপেসকে ডেকে আক্রমণভাগ আরও শাণিত করেছেন আর্জেন্টাইন কোচ।
কাতার বিশ্বকাপে শিরোপা জেতা দলের ১৭ ফুটবলারকে ধরে রেখেছেন স্কালোনি। বাকি আটজনের হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপে অভিষেক। সাধারণত এক বিশ্বকাপ থেকে আরেক বিশ্বকাপে এত বেশি খেলোয়াড় অপরিবর্তিত রাখার নজির খুব একটা দেখা যায় না। এর আগে ১৯৯৮ থেকে ২০০২ বিশ্বকাপে ফ্রান্স দলের ১৩ জন খেলোয়াড় অপরিবর্তিত ছিল। তবে স্কালোনির এই সিদ্ধান্তের পেছনে জোরালো যুক্তিও রয়েছে; এই দলটি তো দীর্ঘ ৩৬ বছরের শিরোপা-খরা কাটিয়ে আর্জেন্টাইনদের আনন্দে ভাসিয়েছিল। বাদ পড়া ৯ জনের মধ্যে কেবল লেফট ব্যাক মার্কোস আকুনিয়াই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আলোচনায় ছিলেন। এমনকি গত মার্চে ঘোষিত দলেও তিনি ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ফর্মহীনতায় ভোগা এই তারকার জায়গায় স্কালোনি আস্থা রেখেছেন ফাকুন্দো মেদিনা ও কোলো বার্কোর বহুমুখী দক্ষতার ওপর।
দল ঘোষণা নিয়ে স্কালোনি আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ‘কেউ যদি ফিট থাকার নিশ্চয়তা দিতে না পারে, তবে আমরা বিকল্প খুঁজবই। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বলেই যে তাদের জায়গা পাকা, এমনটি নয়। আমরা অনেক তরুণকে ডেকেছি, তবে মাঠের পারফরম্যান্সই শেষ কথা বলবে।’ গত এক সপ্তাহ এসেইসায় খেলোয়াড়দের ফিটনেসের নিবিড় মূল্যায়ন করেছে আর্জেন্টিনার মেডিকেল ও কোচিং স্টাফরা।
গোলবার সামলানোর দায়িত্ব যথারীতি এমিলিয়ানো মার্তিনেসের কাঁধেই থাকছে। ব্যাকআপ হিসেবে হেরোনিমো রুইয়ি ও আতলেতিকো মাদ্রিদের হয়ে দারুণ ফর্মে থাকা হুয়ান মুসসো স্কোয়াডে আছেন। রক্ষণভাগে ওতামেন্দি, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্তিনেসের সঙ্গে বিকল্প হিসেবে যুক্ত হয়েছেন ফরাসি ক্লাব মার্শেইয়ের অধিনায়ক লিওনার্দো বালের্দি। ফুলব্যাক হিসেবে থাকছেন চোট কাটিয়ে ফেরা নাহুয়েল মলিনা ও নিকো তালিয়াফিকো। তবে গনসালো মন্তিয়েলের পেশির চোট নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তা রয়েছে। আগামী ৬ জুন হন্ডুরাস ও ৯ জুন আইসল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের পর তাঁর ব্যাপারে চূড়ান্ত চিত্র পরিষ্কার হতে পারে। অগাস্তিন জিয়াই এবং নিকোলাস কাপালদো মূল ২৬ জনের দলে না থাকলেও ফিফায় পাঠানো ৫৫ জনের প্রাথমিক তালিকায় স্ট্যান্ডবাই হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে দলের সঙ্গেই থাকবেন।
কাতার বিশ্বকাপের ঠিক আগে চোটে পড়ে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল লো সেলসোর। এবার কোপা আমেরিকায় লাউতারো মার্তিনেসকে দিয়ে জয়সূচক গোল করিয়ে প্রমাণ করেছিলেন নিজের সামর্থ্য। অবশেষে বিশ্বকাপ দলেও নিজের প্রাপ্য জায়গাটা ফিরে পেলেন তিনি। মাঝমাঠের চেনা ছকে রদ্রিগো দে পল, এনসো ফার্নান্দেস ও আলেক্সিস মাক আলিস্তার ও লিয়ান্দ্রো পারেদেসরা তো আছেনই, সঙ্গে গুইদো রদ্রিগেসের জায়গায় খেলবেন এসেকুয়েল পালাসিওস। আর দলের ‘ওয়াইল্ড কার্ড’ হতে পারেন কোলো বার্কো, যিনি লেফট ব্যাক থেকে সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার কিংবা উইঙ্গার হিসেবেও নিজেকে দারুণভাবে মানিয়ে নিয়েছেন।
স্কালোনির দল নির্বাচনের মূল চাবিকাঠি ছিল আক্রমণভাগ। আর্জেন্টাইন এই কোচ একটি শব্দ ব্যবহার করে দল নির্বাচনকে ব্যাখ্যা করেছেন—‘ভার্টিগো’ (তীব্র গতির উল্লম্ব ফুটবল)। দলের প্রয়োজনে গতির ঝড় তুলে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করতে সক্ষম খেলোয়াড়দেরই তিনি বেছে নিয়েছেন। অধিনায়ক মেসি, লাউতারো মার্তিনেস ও হুলিয়ান আলভারেস নিশ্চিতভাবেই দলের প্রথম পছন্দ। গিলিয়ানো সিমিওনে এবং নিকো গনসালেসকে রাখা হয়েছে তাদের অভিজ্ঞতার কারণে। তবে চমক হিসেবে তরুণ থিয়াগো আলমাদা ও নিকো পাস দলে জায়গা করে নিয়েছেন। আর স্কালোনির ‘গোপন অস্ত্র’ হিসেবে থাকছেন কোরিয়েন্তেস থেকে আসা ১.৯০ মিটার উচ্চতার স্ট্রাইকার হোসে লোপেস।
১৬ জুন কানসাস সিটিতে আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু করবে মেসি-স্কালোনির আর্জেন্টিনা। এসেইসায় স্কালোনির এটাই এখন পরবর্তী লক্ষ্য। জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটেছে, এবার মাঠে নামার অপেক্ষা।
আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ স্কোয়াড:
গোলরক্ষক: এমিলিয়ানো মার্তিনেস, হেরোনিমো রুইয়ি ও হুয়ান মুসসো।
ডিফেন্ডার: গনসালো মন্তিয়েল, নাউয়েল মলিনা, লিসান্দ্রো মার্তিনেস, নিকোলাস ওতামেন্দি, লিওনার্দো বালের্দি, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, ফাকুন্দো মেদিনা ও নিকোলাস তালিয়াফিকো।
মিডফিল্ডার: লেয়ান্দ্রো পারেদেস, রদ্রিগো দে পল, এসেকিয়েল পালাসিওস, এনসো ফার্নান্দেস, আলেক্সিস ম্যাক আলিস্তার, জিওভানি লো সেলসো ও ভালেনতিন বার্কো।
ফরোয়ার্ড: লিওনেল মেসি, নিকো পাস, তিয়াগো আলমাদা, নিকোলাস গনসালেস, জিউলিয়ানো সিমিওনে, লাউতারো মার্তিনেস, হোসে মানুয়েল লোপেস ও হুলিয়ান আলভারেস।

ইউরোপের সেভিয়া ও নাপোলির সাবেক এই উইঙ্গার বলেন, ‘এটি প্রচণ্ড চাপের। সবকিছু নির্ভর করে স্কোয়াডের বর্তমান অবস্থা এবং কোচ কীভাবে পরিস্থিতি সামলাচ্ছেন, তার ওপর। খেলোয়াড়েরা যে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, সেটা মাথায় রেখেও মাঠে নেমে শিরোপা ধরে রাখার জন্য নতুন করে লড়াই করার তাগিদ দিতে হবে কোচকে। ১৯৮২ সালে আমরা ভেবে
২ ঘণ্টা আগে
২০২৩ সালের পর থেকে বিদেশের মাটিতে কোনো টেস্ট জিততে পারেনি পাকিস্তান। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আইসিসির বড় টুর্নামেন্টেও সাফল্য নেই। তবু আশা ছাড়েননি ‘চাচা ক্রিকেট’। তাঁর বহু বছরের চেনা স্লোগানেই যেন ফুটে ওঠে সেই বিশ্বাস, ‘খেলাধুলায় এমনটা হয়েই থাকে। কখনো খুশি, কখনো বেদনা। কখনো তুমি জিতবে, কখনো আমি।’
৪ ঘণ্টা আগে
প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, রোমারিওর দল থেকে ছিটকে যাওয়া সমর্থকদের ভীষণ হতাশ করে তুলেছে। একই সঙ্গে দলের প্রধান চিকিৎসক লিডিও টোলেডোর ভুল রোগ নির্ণয়কেও কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছিল। কারণ, তিনিই শুরুতে আশ্বাস দিয়েছিলেন— রোমারিও বিশ্বকাপের আগেই পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন। ২৮ বছর পর নেইমারের চোটের ধরন যেন ব্রাজিল
৫ ঘণ্টা আগে
ফুটবল ইতিহাসে এমন মুহূর্ত বারবার আসে না। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে লিওনেল মেসি যখন আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে মাঠে নামবেন, তখন তাঁর পায়ের নিচে শুধু ঘাস নয়, থাকবে ইতিহাস ভাঙার সুযোগও। বয়স ৩৮ পেরিয়ে ৩৯-এর পথে, তবু থামার কোনো লক্ষণ নেই। বরং এই বিশ্বকাপেই তাঁর সামনে খুলে যেতে পারে একের পর এক রেকর্ডের নতুন
৭ ঘণ্টা আগে