নেইমারের কাফ মাসলের (পায়ের পেশি) চোটের খবরটি ব্রাজিল ফুটবলের পুরোনো এক ক্ষতের কথা মনে করিয়ে দিল। ঘটনাটি ঠিক ২৮ বছর আগের। ১৯৯৮ বিশ্বকাপের ঠিক আগমুহূর্তে ব্রাজিল দল মুখোমুখি হয়েছিল হুবহু একই পরিস্থিতির। সেবারও দলের সেরা তারকা রোমারিও কাফ মাসলে চোট পেয়েছিলেন। শুরুতে বিষয়টি হালকাভাবে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তা রূপ নিয়েছিল বড় ট্র্যাজেডিতে। তৎকালীন কোচ জাগালোর বিশ্বকাপ দল থেকে আচমকাই ছিটকে গিয়েছিলেন এই কিংবদন্তি।
১৯৯৮ সালের ৩১ মে। বিশ্বকাপ মিশন শুরুর অপেক্ষায় থাকা সেলেসাওদের দলের সঙ্গেই ছিলেন রোমারিও। বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই সেদিন গণমাধ্যমকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেছিলেন, চোট গুরুতর কিছু নয় এবং বিশ্বকাপে তার মাঠে নামা নিশ্চিত।
কিন্তু নাটকের তখনও অনেক বাকি ছিল। রোমারিওর সেই আশাবাদী বিবৃতির ২৪ ঘণ্টাও পার হয়নি, এর মধ্যেই নড়েচড়ে বসে সে সময়কার ব্রাজিলের কোচিং স্টাফ। ‘চোট যতটা ভাবা হচ্ছে, তার চেয়েও গভীর হতে পারে’—এমন আশঙ্কায় রোমারিওকে নিয়ে নতুন করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
নিজের শরীর ও সেরে ওঠার প্রক্রিয়া নিয়ে রোমারিও শতভাগ আত্মবিশ্বাসী হলেও চিকিৎসকদের প্রতিবেদন অন্য কথা বলছিল। মাত্র একদিনের ব্যবধানে সব সমীকরণ বদলে যায় এবং বিশ্বকাপ দল থেকে বাদ দেওয়া হয় তাঁকে। কোচিং স্টাফের এমন আকস্মিক সিদ্ধান্ত যেন আকাশ ভেঙে পড়ার মতো লেগেছিল তাঁর কাছে।
দল থেকে বাদ পড়ার পর এক সংবাদ সম্মেলনে রোমারিও বলেছিলেন, ‘সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে কারণ তারা (কোচিং স্টাফ) ভালো করেই জানে আমার চোট ততটা মারাত্মক নয়। তাছাড়া মাঠের ভেতরে কিংবা বাইরে, দলের জন্য আমি যেকোনো ভূমিকা রাখতেই প্রস্তুত ছিলাম।’
চিকিৎসকদের প্রতিবেদনের সামনে টেকেনি রোমারিওর সেই আত্মবিশ্বাস। দুটি এমআরআই প্রতিবেদনরের কথা উল্লেখ করে আক্ষেপের সুরে রোমারিও বলেছিলেন, ‘আমি মোটেও এটা আশা করিনি। প্রথম এমআরআই প্রতিবেদনের পর ডাক্তার বলেছিলেন সামান্য ইডিমা (মাংসপেশি ফুলে যাওয়া) আছে, তাই আমি আশাবাদী ছিলাম। কিন্তু দ্বিতীয় প্রতিবেদনে দেখা গেল ক্ষতটি বেশ গভীর এবং তা মাত্র ৩ সেন্টিমিটার কমেছে।’
কোচিং স্টাফের ওপর ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে ‘দ্য লিটল গাই’ খ্যাত এই ফুটবলার আরও যোগ করেন, ‘তারা শুধু কাগজের লেখাটাই বিশ্বাস করল, আমার ওপর আস্থা রাখল না। প্রতিবেদন অনুযায়ী আমি ৩ সপ্তাহের মধ্যে সুস্থ হতেও পারতাম, আবার নাও পারতাম। কিন্তু আমি নিজের শরীরকে চিনি। আমি জানি, আরও আগেই সুস্থ হয়ে উঠতাম। তারা শুধু আমার সেরে ওঠার ওপর ভরসা রাখতে পারেনি। এখন আর ক্ষোভ প্রকাশ করতে চাই না, তবে তারা আমার কথার কোনো মূল্য দেয়নি।’
রোমারিওর মতো তারকাকে বিশ্বকাপ দল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত তৎকালীন সময়ে বড় ধাক্কা দিয়েছিল ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের। ৩ জুন ব্রাজিলের জনপ্রিয় দৈনিক ‘ও গ্লোবো’র প্রথম পাতার প্রধান শিরোনাম ছিল ভক্তদের সেই হতাশার চিত্র।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, রোমারিওর দল থেকে ছিটকে যাওয়া সমর্থকদের ভীষণ হতাশ করে তুলেছে। একই সঙ্গে দলের প্রধান চিকিৎসক লিডিও টোলেডোর ভুল রোগ নির্ণয়কেও কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছিল। কারণ, তিনিই শুরুতে আশ্বাস দিয়েছিলেন— রোমারিও বিশ্বকাপের আগেই পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন। ২৮ বছর পর নেইমারের চোটের ধরন যেন ব্রাজিলের সেই পুরোনো ট্র্যাজেডিকেই নতুন করে ফিরিয়ে আনল।
বিশ্বকাপ দলে থাকলেও আপাতত দুই থেকে তিন সপ্তাহ মাঠের বাইরে নেইমার। মরক্কোর বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেও তাঁর খেলা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা।

ইউরোপের সেভিয়া ও নাপোলির সাবেক এই উইঙ্গার বলেন, ‘এটি প্রচণ্ড চাপের। সবকিছু নির্ভর করে স্কোয়াডের বর্তমান অবস্থা এবং কোচ কীভাবে পরিস্থিতি সামলাচ্ছেন, তার ওপর। খেলোয়াড়েরা যে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, সেটা মাথায় রেখেও মাঠে নেমে শিরোপা ধরে রাখার জন্য নতুন করে লড়াই করার তাগিদ দিতে হবে কোচকে। ১৯৮২ সালে আমরা ভেবে
২ ঘণ্টা আগে
২০২৩ সালের পর থেকে বিদেশের মাটিতে কোনো টেস্ট জিততে পারেনি পাকিস্তান। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আইসিসির বড় টুর্নামেন্টেও সাফল্য নেই। তবু আশা ছাড়েননি ‘চাচা ক্রিকেট’। তাঁর বহু বছরের চেনা স্লোগানেই যেন ফুটে ওঠে সেই বিশ্বাস, ‘খেলাধুলায় এমনটা হয়েই থাকে। কখনো খুশি, কখনো বেদনা। কখনো তুমি জিতবে, কখনো আমি।’
৪ ঘণ্টা আগে
ফুটবল ইতিহাসে এমন মুহূর্ত বারবার আসে না। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে লিওনেল মেসি যখন আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে মাঠে নামবেন, তখন তাঁর পায়ের নিচে শুধু ঘাস নয়, থাকবে ইতিহাস ভাঙার সুযোগও। বয়স ৩৮ পেরিয়ে ৩৯-এর পথে, তবু থামার কোনো লক্ষণ নেই। বরং এই বিশ্বকাপেই তাঁর সামনে খুলে যেতে পারে একের পর এক রেকর্ডের নতুন
৭ ঘণ্টা আগে
ফিলিপাইনকে অপরাজিত এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্ব পার করিয়ে সর্বোচ্চ ফিফা র্যাংকিংয়ে নিয়ে যাওয়া এবং সম্প্রতি গায়ানার হয়ে টানা চার ম্যাচ জেতার পর এখন তাঁর সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ — বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া।ভক্তদের উদ্দেশে তাই ডুলির বার্তা, ‘চলুন একসঙ্গে ইতিহাস গড়ি।’
৭ ঘণ্টা আগে