Ajker Patrika

অবসরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের ‘চাচা’

ক্রীড়া ডেস্ক    
অবসরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের ‘চাচা’
অবসরে যাচ্ছেন ‘চাচা ক্রিকেট’। ছবি: এএফপি

লাহোরের গ্যালারিতে সবুজ কুর্তা আর টুপি পরা মানুষটিকে চেনেন না, এমন ক্রিকেটপ্রেমী পাকিস্তানে খুব কমই আছেন। হাতে পাকিস্তানের পতাকা, মুখে চিরচেনা স্লোগান, আর দলের প্রতি নিঃশর্ত ভালোবাসা, এভাবেই কয়েক দশক ধরে পাকিস্তান ক্রিকেটের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছিলেন ‘চাচা ক্রিকেট’।

সেই ‘চাচা’ এবার বিদায়ের ঘোষণা দিলেন। আগামী সপ্তাহে লাহোরে পাকিস্তান–অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার তৃতীয় ওয়ানডেটিই হবে দেশের মাটিতে পাকিস্তানকে সমর্থন জানাতে তাঁর শেষ ম্যাচ। তবে পুরোপুরি বিদায় নয়। এ গ্রীষ্মে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তানের টেস্ট সিরিজে গ্যালারিতে থাকার আশা এখনও ছাড়েননি তিনি।

চাচা ক্রিকেটের আসল নাম আবদুল জলিল। ১৯৬৮-৬৯ সালে ইংল্যান্ডের পাকিস্তান সফরের সময় লাহোরের গ্যালারি থেকে প্রথম ক্রিকেট ম্যাচ দেখেছিলেন তিনি। এরপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাকিস্তান ক্রিকেটের সবচেয়ে পরিচিত সমর্থকে পরিণত হন। বিশেষ করে ১৯৮০ ও ৯০-এর দশকে শারজা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের ম্যাচগুলোতে তাঁর উপস্থিতি ছিল নিয়মিত। গাঢ় সবুজ কুর্তা ও টুপিতে আলাদা পরিচয় তৈরি হয় তখনই।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে চাকরি করতেন জলিল। পরে সেই চাকরি ছেড়ে পাকাপাকিভাবে পাকিস্তান দলের সমর্থকে পরিণত হন। ১৯৯৯ বিশ্বকাপে ওয়াসিম আকরামের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান দলকে সমর্থন জানাতে ইংল্যান্ডেও গিয়েছিলেন। এরপর থেকেই ক্রিকেটবিশ্বে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন তিনি।

এখন ৭৭ বছর বয়সী জলিলের নতুন স্বপ্ন, নিজের শহর শিয়ালকোটে একটি রেস্তোরাঁ ও জাদুঘর গড়ে তোলা। ইএসপিএনক্রিকইনফোকে তিনি বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে সংগ্রহ করা সব স্মারক আমি জাদুঘরে প্রদর্শন করব। পাকিস্তানকে ৫০০ ম্যাচে সমর্থন দেওয়ার লক্ষ্য ছিল আমার, সেটা আমি পূরণ করেছি।’

পাকিস্তানে জলিল এখন এক ধরনের সাংস্কৃতিক চরিত্র। স্থানীয় টেপটেনিস টুর্নামেন্ট থেকে বিয়ের অনুষ্ঠান—সব জায়গাতেই তার উপস্থিতি চাওয়া হয়। অবসরের পর সেই জনপ্রিয়তাকে সমাজকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করতে চান তিনি।

জলিল বলেন, ‘আমি সবসময় খেলা আর দেশের প্রতি ভালোবাসা থেকেই এসব করেছি। আমার লক্ষ্য ছিল দেশের একজন ভালো দূত হওয়া এবং মানুষকে আনন্দ দেওয়া।’

পাকিস্তান ক্রিকেটের বর্তমান অবস্থা জলিলকে হতাশ করে। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দেখতে শ্রীলঙ্কায় যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত যাননি তিনি, ‘গত বছর এশিয়া কাপে ভারতের কাছে পাকিস্তানের টানা তিন হার দেখেছি। এখন ভারতের কাছে আমরা টানা নয়টি ম্যাচ হেরেছি। এশিয়া কাপের পর আরেকটি হার দেখতে চাইনি।’

তবু স্মৃতির ভান্ডারে আনন্দের মুহূর্তও কম নেই। ১৯৮৬ সালে শারজাহতে জাভেদ মিয়াঁদাদের সেই বিখ্যাত শেষ বলের ছক্কা এখনও স্পষ্ট মনে আছে তাঁর, ‘আমি মাঠেই ছিলাম। এখনও মনে আছে, মিয়াঁদাদ বলটা ডিপ মিডউইকেটের ওপর দিয়ে পাঠিয়েছিল।’

২০১৭ সালে ওভালে ভারতের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনাল জয়ের স্মৃতিও জলিলের কাছে বিশেষ। তবে কিছু হার এখনও কষ্ট দেয় তাঁকে। ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউইয়র্কে ভারতের বিপক্ষে ১২০ রান তাড়া করতে না পারা ও ২০১১ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে মোহালিতে ভারতের কাছে হার—দুটি ম্যাচই এখনও ভুলতে পারেন না। ২০১১ সালের সেই ম্যাচ নিয়ে তিনি বলেন, ‘শ্রীলঙ্কা থেকে করাচি, তারপর শিয়ালকোট হয়ে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে গিয়েছিলাম। আমরা জিততে পারতাম, কিন্তু ভুল তো হতেই পারে। জয়-পরাজয় খেলাধুলারই অংশ।’

২০২৩ সালের পর থেকে বিদেশের মাটিতে কোনো টেস্ট জিততে পারেনি পাকিস্তান। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আইসিসির বড় টুর্নামেন্টেও সাফল্য নেই। তবু আশা ছাড়েননি ‘চাচা ক্রিকেট’। তাঁর বহু বছরের চেনা স্লোগানেই যেন ফুটে ওঠে সেই বিশ্বাস, ‘খেলাধুলায় এমনটা হয়েই থাকে। কখনো খুশি, কখনো বেদনা। কখনো তুমি জিতবে, কখনো আমি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত