Ajker Patrika

শান্তদের জন্য হাতে কী লিখে আনেন ফিল্ডিং কোচ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১৪ মে ২০২৬, ১৬: ৩২
শান্তদের জন্য হাতে কী লিখে আনেন ফিল্ডিং কোচ
বাংলাদেশের ফিল্ডিং কোচ আশিকুর রহমান মজুমদার। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের ফিল্ডারদের পিচ্ছিল হাত নিয়ে সমালোচনা হয় প্রায়ই। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ক্যাচ মিসের খেসারত দিয়ে বেশির ভাগ ম্যাচ হেরে যায় বাংলাদেশ। সেই বাংলাদেশের ফিল্ডিংয়ে অনেক উন্নতি হয়েছে বলে মনে করেন অন্তর্বর্তীকালীন ফিল্ডিং কোচ আশিকুর রহমান মজুমদার।

জেমস প্যামেন্ট কোমরের চোটে পড়ায় পাকিস্তান সিরিজে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন ফিল্ডিং কোচের দায়িত্বে আশিক। মিরপুরে সিরিজের প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের ১০৪ রানের জয়ে আশিকের অবদান কোনো অংশে কম নয়। স্লিপে সাদমান ইসলাম, নাজমুল হোসেন শান্তরা দারুণ কিছু ক্যাচ ধরেছেন। কখনো নিচু হওয়া বল ক্যাচ ধরেছেন, কখনোবা দ্রুত গতির বলকে ক্যাচে পরিণত করেছেন বাংলাদেশের ফিল্ডাররা।

আগের ফিল্ডিং কোচদের তুলনায় আশিক নতুন কী যোগ করেছেন—সিলেটে আজ যখন সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসেছেন, তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে এই প্রশ্ন। উত্তরে বাংলাদেশের ফিল্ডিং কোচ বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করছি ক্রিকেটারদের সঙ্গে। যেমন টাইগার্সে, বাংলাদেশ ‘এ’ দলে। আমি এখানে এসেছি ক্রিকেটারদের উপকার করতে। নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি। আমাদের যে মানদণ্ড, ফিল্ডিংয়ের মানদণ্ড এটা সর্বোচ্চ পর্যায়ে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সেরা দুই দলের মধ্যে একটা আমার বিশ্বাস। আমি ইনশা আল্লাহ কাজ করে যাচ্ছি। সামনে কী হবে জানি না। তবে আমি বিশ্বাস করি, এটা আমার শেষ দিন এবং কীভাবে ভালোটা দেব।’

ক্রিকেটাররা সেঞ্চুরি করলে বা ৫ উইকেট পেলে বেশির ভাগ সময় পকেট থেকে কাগজ বের করেন। আর ডাগআউটে বসে থাকা কোচরা তো খাতা-কলম নিয়ে সব সময় ব্যস্ত থাকেন। কোথায় কোথায় উন্নতি করতে হবে, ক্রিকেটারদের সেই বার্তা দেন কোচরা। শান্ত-সাদমানদের অনুপ্রাণিত করতে আশিক হাতে কী লিখে আনেন—উত্তরে বাংলাদেশের ফিল্ডিং কোচ বলেন, ‘আসলে এই লেখাটা আমার নিজের জন্য লেখা ছিল। এটা আমাদের টিম ম্যানেজার নাফিস ইকবাল দেখতে পায়। দেখতে পাওয়ার পরে আমাকে জিজ্ঞেস করেন এটার তাৎপর্য কী। তারপর আমি মিটিংয়ে বিস্তারিত বলেছি। তো এখানে আমি একেক দিন একেকটা স্লোগান লিখে আনি। শক্তি সঞ্চারের ক্ষেত্রে এটা খুব কাজে দেয়। ইতিবাচকতা, স্বচ্ছতা, সহযোগিতা, বিশুদ্ধতা-দলের মধ্যে এরকম বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাই।’

আশিক ক্রিকেটারদের তুলনা করেছেন সূর্যের আলোর সঙ্গে। কোচরা তাঁর কাছে আয়না সমতুল্য। কোচ, ক্রিকেটার সবাই একটা দলের সফলতার অংশীদার বলে মনে করেন আশিক। বাংলাদেশের ফিল্ডিং কোচ বলেন, ‘ক্রিকেটাররাই এখানে আসল। আমার যে দর্শন, সেখানে ক্রিকেটাররা সূর্যের আলো আর কোচ আয়নার মতো। যখন সূর্যের আলো আয়নাতে পড়ে, তখন সেটাতে তার প্রতিফলন হয়।’

মিরপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ১০৪ রানে জয়ের পর সেরা ফিল্ডারদের কী কী পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল, তা আজ সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেছেন আশিক। বাংলাদেশের ফিল্ডিং কোচ বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন, আমরা দুই ইনিংসেই ফিল্ডিং করেছিলাম। দুই ইনিংসেই পয়েন্ট গ্রেড সিস্টেমের ভিত্তিতে (গ্রেড-১, গ্রেড-২, গ্রেড-৩) যারা ফিল্ডিং ভালো করেছে, ভালো ক্যাচ ধরেছে, এমন দুজন নাজমুল হোসেন শান্ত এবং লিটন দাসকে পুরস্কৃত করা হয়েছিল। এই পুরস্কারটা আসলে... আমরা সব কাজের পেছনেই একটা আনন্দ খুঁজি, অনুপ্রেরণা খুঁজি, পুরস্কারের আশা করি। তো এটা আমার কাছে মনে হয় একটা ভালো বার্তা সবার জন্য। আমরা সব কাজের শেষে যদি স্বীকৃতি দেই, তাহলে সেখান থেকে অনুপ্রেরণা পাওয়া যাবে।’

মিরপুরে প্রথম টেস্ট শুরুর আগে ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে এগিয়ে ছিল পাকিস্তান। বাংলাদেশ ছিল পিছিয়ে। গতকাল মিরপুরে ১০৪ রানে জয়ের পর দুই ধাপ এগিয়ে পয়েন্ট টেবিলের ছয়ে উঠে এল বাংলাদেশ। শান্তর দলের সফলতার হার ৪৪.৪৪ শতাংশ। অন্যদিকে পাকিস্তান দুই ধাপ পিছিয়ে সাত নম্বরে নেমে গেছে। তাদের সফলতার হার ৩৩.৩৩ শতাংশ। ১৬ মে সিলেটে শুরু হবে দ্বিতীয় টেস্ট।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত