
কখনো টেস্ট, কখনো ওয়ানডে—সিলেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে লিটন দাসের ব্যাটিংয়ের ধরন ছিল এমনই। ভালো বলকে যেমন সমীহ করেছেন, বিপরীতে বাজে বল পেলে বাউন্ডারিতে পরিণত করতে বিন্দুমাত্র সংকোচ করেননি তিনি। পাকিস্তানকে ঘরের মাঠে ধবলধোলাই করে ম্যাচসেরার পুরস্কারও পেয়েছেন লিটন।
সিলেটে প্রথম ইনিংসে টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন লিটন। পাকিস্তানের বিপক্ষে যেটা তাঁর তৃতীয়। তবে এই সেঞ্চুরি অত সহজে আসেনি। যখন তিনি ব্যাটিংয়ে নামেন, তখন বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৪ উইকেটে ১০৬ রান। মুহূর্তেই সেটা হয়ে যায় ৬ উইকেটে ১১৬ রান। তবে চাপের মুখে মোটেই বিচলিত হননি লিটন। টেস্ট-ওয়ানডের মিশেলে সাজানো ইনিংসে সুযোগ বুঝে প্রতিপক্ষকে পাল্টা আক্রমণ করেছেন। ৭৬.২৯ স্ট্রাইকরেটে করেছেন ১২৬ রান। ১৫৯ বলের ইনিংসে ১৬ চার ও ২ ছক্কা মেরেছেন তিনি।
প্রথম ইনিংসে হঠাৎ কীভাবে এত আক্রমণাত্মক হয়ে উঠলেন—আজ পঞ্চম দিনে পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের পর লিটন উল্লেখ করেছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর কথা। ১২৬ ও ৬৯ রান করে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পাওয়া লিটন বলেন, ‘সত্যি বলতে, আগের দুই ইনিংসে (মিরপুরে প্রথম টেস্টে ৩৩ ও ১১ রান) রান পাইনি। তাই উইকেটে যাওয়ার সময় আমার ওপর বড় ইনিংস খেলতেই হবে, এমন কোনো চাপ ছিল না। কিন্তু হঠাৎ কয়েকটা উইকেট পড়ে গেল তখন একটু দ্বিধায় পড়ে গিয়েছিলাম যে কী করা উচিত। আমি অধিনায়ককে জিজ্ঞেস করলাম, ‘কী করা উচিত?’ শান্ত বলল, ‘আক্রমণাত্মক খেল। আমাদের রান প্রয়োজন।’ তখন আমি নেমে আমার শক্তির জায়গাগুলোতেই ভরসা করার চেষ্টা করেছি।’’
প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেটে ১১৬ রান থেকে ২৭৮ পর্যন্ত বাংলাদেশ করতে পেরেছে লিটনের অসাধারণ সেঞ্চুরিতে। শুধু সেঞ্চুরিই নয়, যেভাবে তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, শরীফুল ইসলামদের সঙ্গে নিয়ে যেভাবে ব্যাটিং করেছেন লিটন, তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। অনেকবার সিঙ্গেলের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও লিটন নেননি। তাইজুল, তাসকিন ও শরীফুলের সঙ্গে ৬০, ৩৮ ও ৬৪ রানের তিনটি জুটি গড়তে অবদান রেখেছেন লিটন।
টেস্ট-ওয়ানডের মিশেলে যেভাবে খেলেছেন লিটন, সেটার সারাংশ আজ ম্যাচসেরার পুরস্কার পেয়ে তুলে ধরেছেন। বাংলাদেশের এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার বলেন, ‘দুটি বাউন্ডারি মারার পর মনে হলো, এটা টেস্ট ক্রিকেট। আমাকে আরও কয়েক ওভার টিকে থাকতে হবে। কারণ, যেকোনো দিনই বৃষ্টি হতে পারে। তাই মনে করলাম, যদি আরও ১০ থেকে ১৫ ওভার ব্যাটিং করতে পারি, তাহলে পাঁচ দিনের ম্যাচে ব্যাপারটা পুরো ভিন্ন রূপ নিতে পারে।’
লেজের দিকে ব্যাটারদের সঙ্গে ব্যাটিং নিয়ে লিটন বলেন, ‘আপনি এভাবে ভাবতেই পারেন (সিঙ্গেল না নেওয়া)। কিন্তু একই সঙ্গে যদি আমি তাদের সুযোগ দিতাম, তাহলে হয়তো আমার স্কোর ৫০ হতো। বারবার মনে হচ্ছিল যে আমাকে আরও বেশি বল খেলতে হবে এবং তাদের নিরাপদ রাখতে হবে। কারণ, তারা নিরাপদ থাকলে আমিও নিরাপদ থাকি।’
প্রথম ইনিংসের প্যাটার্নেই লিটন খেলেছেন দ্বিতীয় ইনিংসে। ৯২ বলে ৬৯ রান করেছেন দ্বিতীয় ইনিংসে। ৭৭.৬৮ স্ট্রাইকরেটে করেন ১৯৫ রান। উইকেটের পেছনেও লিটন ছিলেন দুর্দান্ত। চার ক্যাচ ধরার পাশাপাশি সতীর্থদের অনুপ্রাণিত করেছেন নানাভাবে। সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছেন মোহাম্মদ রিজওয়ানের সঙ্গে কথার লড়াইয়ে। রিজওয়ান যখন সাইটস্ক্রিন সরানোর কথা বলে গতকাল চতুর্থ দিনে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন, লিটন বিরক্ত হয়ে যান। তাঁদের কথাবার্তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় সামাজিক মাধ্যমে।
২০২৪ সালে পাকিস্তানকে তাদের মাঠে ২-০ ব্যবধানে ধবলধোলাই করেছিল বাংলাদেশ। এবার ঘরের মাঠে বাংলাদেশ হোয়াইটওয়াশ করেছে পাকিস্তানকে। পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা চার টেস্ট জিতে ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিল, আইসিসি টেস্ট র্যাঙ্কিং—সব জায়গাতেই উন্নতি হয়েছে বাংলাদেশের।

দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশের কাছে ধবল ধোলাই হয়েছে পাকিস্তান। সিরিজজুড়ে স্বাগতিকদের পেসারদের সামনে অসহায় ছিল শান মাসুদের দল। নাহিদ রানা, তাসকিন আহমেদদের গতিতে কেঁপেছে সফরকারীরা। এমন দারুণ একটি সিরিজ শেষে বাংলাদেশের পেসারদের ভূয়সী প্রশংসা করলেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি পেসার ওয়াসিম আকরাম।
১ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশের ‘বিপদের বন্ধু’ হিসেবে জিম্বাবুয়ের ভালোই পরিচিতি রয়েছে। যখন বাজে ফর্মের ভেতর দিয়ে যায়, তখনই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ফেলে ফর্মে ফেরে বাংলাদেশ। বর্তমান পাকিস্তান দল যেন বাংলাদেশের কাছে জিম্বাবুয়ের মতোই। পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় একরকম অভ্যাস বানিয়ে ফেলেছে বাংলাদেশ। সিলেটে আজ ঐতিহাসিক জয়ে নাজমুল হোস
১ ঘণ্টা আগে
বছরে অনায়াসে ১০-১৫টা টেস্ট খেলে ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডের মতো দলগুলো। সেদিক থেকে বেশ পিছিয়ে বাংলাদেশ। এই সংস্করণে উন্নতির জন্য বড় দলগুলোর মতো বেশি বেশি টেস্ট খেলার দাবি জানিয়ে রাখলেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
২ ঘণ্টা আগে
সিলেটে দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচের পর প্রশংসায় ভাসছে বাংলাদেশ। মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখছে পাকিস্তান। টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে অবনমন হয়েছে দলটির। শান মাসুদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানকে নিয়ে চলছে তুমুল সমালোচনা। এমনকি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার (আইসিসি) শাস্তিও পেলেন পাকিস্তানের এক ক্রিকেটার।
২ ঘণ্টা আগে