
ভ্যাম্পায়ার বা রক্তচোষা বাদুড় কাল্পনিক হতে পারে, তবে মানুষের রক্তের জন্য ক্ষুধার্ত বাস্তব কিছু প্রাণী আমাদের চারপাশে ঘুরে বেড়ায়, যার অন্যতম হলো মশা। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ভ্যাম্পায়ার তাড়ানোর লোককাহিনির সেই চেনা রসুনই এবার এই রক্তচোষা পোকামাকড়ের বিরুদ্ধে দারুণ কাজ করতে পারে।
ইয়েল ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা প্রাকৃতিকভাবে ক্ষতিকর পোকা দূর করতে পারে, এমন উদ্ভিদ উপাদান খুঁজছিলেন। গবেষণায় তাঁরা আবিষ্কার করেন, রসুন মশা ও মাছির মিলন এবং ডিম পাড়ার ক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করে। বিজ্ঞানীদের মতে, এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে পরিবেশবান্ধব উপায়ে কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণের নতুন পথ দেখাবে। সম্প্রতি ‘সেল’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এই গবেষণাপত্রে গবেষকেরা লিখেছেন, ‘ফল ও সবজি হলো সস্তা এবং নিরাপদ উপাদানের এক দারুণ উৎস।’
এর আগেও মশা তাড়াতে রসুনের ব্যবহারের কথা শোনা গেছে। তবে তখন সাধারণত রসুন ত্বকে মাখা বা খাওয়ার মাধ্যমে মশাকে দূরে রাখার চেষ্টা করা হতো, যা খুব একটা কার্যকর প্রমাণিত হয়নি। ইয়েল ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা মূলত ৪৩টি ফল ও সবজির ওপর একটি ব্যাপক বিশ্লেষণ চালিয়েছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল এমন কোনো প্রাকৃতিক উপাদান খুঁজে বের করা, যা পোকার আচরণে পরিবর্তন আনতে পারে। আর তাতেই দেখা যায়, রসুনে রয়েছে ‘ডায়ালিল ডাইসালফাইড’ নামের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী যৌগ।
প্রাথমিক পরীক্ষায় দেখা যায়, এই যৌগ ফ্রুট ফ্লাই বা ফলের মাছির মিলন ও ডিম পাড়ার প্রক্রিয়া ব্যাহত করে। একই প্রভাব দেখা গেছে এডিস মশার ক্ষেত্রেও, যা ডেঙ্গু ও জিকার মতো মারাত্মক রোগ ছড়ায়। এমনকি এটি সেসি মাছির মিলনের ক্ষমতাও নষ্ট করে দেয়, যা আফ্রিকান স্লিপিং সিকনেস রোগের জন্য দায়ী।
পরবর্তী পরীক্ষায় জানা যায়, রসুন গন্ধের মাধ্যমে নয়, বরং স্বাদের মাধ্যমে পোকাদের প্রভাবিত করে। এটি মশার ‘টিআরপিএ১’ নামক একটি রিসেপ্টরের ওপর কাজ করে এবং মশার শরীরে তৃপ্তি বা পেট ভরা থাকার অনুভূতি নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের জিনকে সক্রিয় করে তোলে। ফলে মশা ক্ষুধার্ত বোধ করে না এবং মিলন বা ডিম পাড়ার মতো স্বাভাবিক আচরণ থেকে বিরত থাকে।
গবেষক দলের প্রধান জন কার্লসন রসিকতা করে বলেন, ‘১৮৯৭ সালে ব্রাম স্টোকার তাঁর ড্রাকুলা উপন্যাসে রসুন দিয়ে রক্তচোষা তাড়ানোর ধারণা দিয়েছিলেন। হয়তো তিনি আসলেই কিছু একটা আঁচ করতে পেরেছিলেন!’ গবেষকেরা আশা করছেন, এই পদ্ধতি ব্যবহার করে ভবিষ্যতে অত্যন্ত সস্তা ও নিরাপদ উপায়ে ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ দমন করা সম্ভব হবে।

মহাকাশে ধীরে ধীরে নিচে নেমে আসা নাসার গুরুত্বপূর্ণ ‘সুইফট’ মহাকাশ দূরবীক্ষণ যন্ত্রকে রক্ষায় এক নজিরবিহীন উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। শুক্রবার (৩ জুলাই) নাসার অর্থায়নে তৈরি ‘লিংক’ নামের একটি রোবোটিক মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করা হয়েছে, যার লক্ষ্য তিনটি যান্ত্রিক বাহুর সাহায্যে সুইফটকে ধরে আবার নিরাপদ কক্ষপথে
১০ ঘণ্টা আগে
দীর্ঘদিন ধরেই বিজ্ঞানীদের মধ্যে একটি বিতর্ক রয়েছে—এক গ্রহ থেকে অন্য গ্রহে প্রাণের বীজ বা জীবাণু কি মহাকাশের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারে? ‘প্যানস্পারমিয়া’ নামে পরিচিত এই তত্ত্ব অনুযায়ী, কোনো গ্রহে প্রাণের মৌলিক উপাদান তৈরি হলে বৃহৎ উল্কাপাত বা মহাজাগতিক সংঘর্ষের ফলে সেই গ্রহের পৃষ্ঠের কিছু অংশ...
৪ দিন আগে
আধুনিক কোয়ান্টাম বলবিদ্যার অন্যতম পথিকৃৎ এবং ১৯১৮ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেলজয়ী জার্মান বিজ্ঞানী ম্যাক্স প্লাংকের ১৯৪০-এর দশকে লেখা দুটি ঐতিহাসিক গবেষণা প্রবন্ধ প্রত্যাহার করেছে বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা সংস্থা ‘স্প্রিংগার নেচার’ (Springer Nature)।
৭ দিন আগে
থোরিয়াম-২২৯ ব্যবহার করে প্রথমবারের মতো কার্যকর নিউক্লিয়ার ঘড়ি তৈরি করলেন ইউরোপ ও চীনের দুই স্বাধীন গবেষক দল। এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে পারমাণবিক ঘড়িকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে এবং ডার্ক ম্যাটার অনুসন্ধানে নতুন দিগন্ত খুলতে পারে।
১৮ দিন আগে