Ajker Patrika

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি: ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে জামায়াত

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি: ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে জামায়াত
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার শুরু করেছে জামায়াতে ইসলামী। প্রচারের প্রথম দিন সমাবেশে বক্তব্য দেন দলের আমির শফিকুর রহমান। গতকাল রাজধানীর মিরপুরের আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে। ছবি: ফোকাস বাংলা

নির্বাচনে জিতে সরকার গঠনের সুযোগ পেলে দুঃশাসন-দুর্নীতি, সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি বন্ধ করে দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার প্রতিশ্রুতি দিল জামায়াতে ইসলামী। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরুর সমাবেশে এ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দলটির আমির শফিকুর রহমান।

আমির বলেছেন, ‘ন্যায়বিচার যাদের হাতে নিশ্চিত হবে, আমরা সবাই মিলে তাদেরই সঙ্গী হব। আমরা তাদেরই সঙ্গী হব, যারা নিজেদের কর্মীদের চাঁদাবাজি, দখলদারি, মামলাবাজি আর সন্ত্রাস, পাথরচাপা দিয়ে হত্যা, গাড়িচাপা দিয়ে মানুষ হত্যা থেকে বিরত রাখতে পারবে। যারা তা পারবে না, তারা যত রঙিন স্বপ্নই দেখাক, জাতি তাদের মতলব বুঝে নেবে।’

রাজধানীর মিরপুরে আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে গতকাল বৃহস্পতিবার নির্বাচনী সমাবেশের আয়োজন করে জামায়াত। তাদের নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের নেতারা সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য দেন। নেতারা জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী প্রতীক দাঁড়িপাল্লা এবং জোটের শরিক দলগুলোর প্রতীকে ভোট দিতে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান।

জামায়াতের আমির বলেন, ‘এ দেশে আমরা ফ্যাসিবাদের ছায়াও দেখতে চাই না। ফ্যাসিবাদ যদি আজ নতুন কোনো পোশাক পরে আমাদের সামনে আসে, তবে ৫ আগস্টের মতো একই পরিণতি তাদের ভোগ করতে হবে। বহু ত্যাগ আর কোরবানির বিনিময়ে আজকের এই অবস্থান।’

সমাজে আজ যত বৈষম্য, দুঃশাসন আর দুর্নীতি—তার মূল কারণ হলো ইনসাফ বা ন্যায়বিচারের অনুপস্থিতি—এ মন্তব্য করে জামায়াত আমির বলেন, যদি দেশে ইনসাফ থাকত, তবে দুর্নীতিবাজ, লুটেরা আর ডাকাতেরা জনগণের সম্পদ লুট করে ব্যাংক খালি করে দিয়ে দেশ থেকে নিরাপদে পালানোর সুযোগ পেত না। তারা বিদেশে বেগমপাড়া গড়তে পারত না, বাংলাদেশের বুকে সন্ত্রাসের রাজ্য কায়েম করতে পারত না। এই কালোটাকা দিয়েই আবার সন্ত্রাস কেনা হয় আরও বেশি কালোটাকা বানানোর জন্য।

বক্তব্যে শফিকুর রহমান প্রতিশ্রুতি দেন, জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনে জয়ী হলে মিরপুরের বর্জ্যে ভরা খাল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ ভাঙা রাস্তাঘাট ও লাইটপোস্ট মেরামত করা হবে। তিনি এলাকাকে সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত করার পাশাপাশি মনিপুর হাইস্কুলসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বিশ্বমানে উন্নীত করা এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য মানসম্মত হাসপাতাল গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন। এ ছাড়া নাগরিক সেবায় পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ঘোষণাও দেন তিনি।

সমাবেশে ১০ দলীয় জোটের অন্যতম সঙ্গী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলামের হাতে দাঁড়িপাল্লা তুলে দেন জামায়াত আমির। এরপর একে একে তিনি নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী সাইফুল আলম খান মিলন, ঢাকা-১৬ আসনের প্রার্থী কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন, ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী ডা. এস এম খালিদুজ্জামান, ঢাকা-১৪ আসনের ১০ দলীয় জোটের জামায়াতের সংসদ সদস্য প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমানের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন।

সমাবেশে বক্তৃতায় নাহিদ ইসলাম বিএনপির ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, একদিকে বলা হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে, অন্যদিকে ঋণখেলাপিদের সংসদে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করা হচ্ছে, আদালতকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। যদি প্রকৃতপক্ষে জনগণকে সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্য থাকে, তবে কেউ কোনো ঋণখেলাপিকে মনোনয়ন দিতে পারে না।

নাহিদ প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘বিএনপির ফ্যামিলি কার্ড জনগণ পর্যন্ত পৌঁছাবে তো? ২০০০ টাকার কার্ড নিতে ১০০০ টাকা ঘুষ দেওয়া লাগবে না তো? যদি ঘুষ-চাঁদাবাজি নির্মূল না হয়, এ সব সুযোগ-সুবিধা কি জনগণের কাছ পর্যন্ত পৌঁছাবে?’

গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের পর যে আশা আকাঙ্ক্ষা নিয়ে রাজনীতি শুরু করেছিলাম, আমরা অনেকাংশে ব্যর্থ হয়েছি। আমাদের অনেক অসমাপ্ত কাজ রয়েছে। এবারের নির্বাচনে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে। আমরা গণ-অভ্যুত্থানের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করব ঐক্যবদ্ধভাবে।’

জোটের আরেক দল জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি রাশেদ প্রধানও সমাবেশে বক্তব্য দেন। একটি দল গণভোটে ‘না’ ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘আমরা আগামীর বাংলাদেশ স্বৈরাচারমুক্ত চাই, ভারতীয় প্রভাবমুক্ত বাংলাদেশ চাই। তাই নির্বাচনে ভোট দেওয়ার আগে বিবেচনা করুন, কারা ভারতের পক্ষে আর কারা দেশের স্বার্থের পক্ষ। জুলাই আন্দোলনকে বিজয়ী করতে অবশ্যই গণভোটকে “হ্যাঁ” বলুন।’

বেলা পৌনে ৩টায় পবিত্র কোরআন তেলাআতের মাধ্যমে সমাবেশ শুরু হয়। ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মাছুম, এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম প্রমুখ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

গোপালগঞ্জ-৩: বঙ্গবন্ধুর কবর জিয়ারত করে নির্বাচনী প্রচারে সাবেক বিএনপি নেতা হাবিব

বাংলাদেশে জামায়াতকে ‘বন্ধু’ হিসেবে চায় যুক্তরাষ্ট্র, মার্কিন কূটনীতিকের অডিও ফাঁস

কেরানীগঞ্জে বিএনপি নেতাকে গুলি

নির্বাচন ঘিরে টানা চার দিন ছুটি

নবম বেতন কমিশন: সরকারি চাকরিজীবীদের কোন পে স্কেলে বেতন বেড়ে কত হচ্ছে

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত