Ajker Patrika

ক্ষমতায় গেলে খাল সংস্কারসহ মিরপুরবাসীর জন্য যেসব প্রতিশ্রুতি দিলেন জামায়াত আমির

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
ক্ষমতায় গেলে খাল সংস্কারসহ মিরপুরবাসীর জন্য যেসব প্রতিশ্রুতি দিলেন জামায়াত আমির
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রথম নির্বাচনী সমাবেশে রাজধানীর মিরপুরে আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: আজকের পত্রিকা

জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াতে ইসলামি নির্বাচনে জয়ী হলে মিরপুরের বর্জ্যে ভরা খাল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ ভাঙা রাস্তাঘাট ও লাইটপোস্ট মেরামত করা হবে। তিনি এলাকাকে সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত করার পাশাপাশি মনিপুর হাইস্কুলসহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বিশ্বমানের মানে উন্নীত করা এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য মানসম্মত হাসপাতাল গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন। এ ছাড়া নাগরিক সেবায় পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ঘোষণাও দেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুরে আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত (ঢাকা-১৫ আসন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রথম নির্বাচনী সমাবেশে এসব প্রতিশ্রুতির কথা বলেন জামায়াত আমির।

জামায়াত আমির বলেন, আমাদের সমাজে আজ যত বৈষম্য, দুঃশাসন আর দুর্নীতি—তার মূল কারণ হলো ইনসাফ বা ন্যায়বিচারের অনুপস্থিতি। যদি দেশে ইনসাফ থাকত, তবে দুর্নীতিবাজ, লুটেরা আর ডাকাতরা জনগণের সম্পদ লুট করে ব্যাংক খালি করে দিয়ে দেশ থেকে নিরাপদে পালানোর সুযোগ পেত না। তারা বিদেশে বেগমপাড়া গড়তে পারত না, বাংলাদেশের বুকে সন্ত্রাসের রাজ্য কায়েম করতে পারত না। এই কালো টাকা দিয়েই আবার সন্ত্রাস কেনা হয় আরও বেশি কালো টাকা বানানোর জন্য।

নতুন কোনো পোশাক পরে যদি ফ্যাসিবাদ আসে, তবে তার পরিণতি পাঁচ আগস্টের মতো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই দেশে আমরা ফ্যাসিবাদের ছায়াও দেখতে চাই না। ফ্যাসিবাদ যদি আজ নতুন কোনো পোশাক পরে আমাদের সামনে আসে, তবে ৫ই আগস্টের মতো একই পরিণতি তাদের ভোগ করতে হবে। বহু ত্যাগ আর কোরবানির বিনিময়ে আজকের এই অবস্থান।

যুবকদের উদ্দেশ্যে জামায়াত আমির বলেন, ন্যায়বিচার যাদের হাতে নিশ্চিত হবে আমরা সবাই মিলে তারই সঙ্গী হব। আমরা তাদেরই সঙ্গী হব, যারা নিজেদের কর্মীদের চাঁদাবাজি, দখলদারি, মামলাবাজি আর সন্ত্রাস, পাথর চাপা দিয়ে হত্যা, গাড়ি চাপা দিয়ে মানুষ হত্যা থেকে বিরত রাখতে পারবে। যারা তা পারবে না, তারা যত রঙিন স্বপ্নই দেখাক, জাতি তাদের মতলব বুঝে নেবে।

শফিকুর রহমান আরও বলেন, যারা ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিল, আজ তাদের আর দেখা যাচ্ছে না—এটা একটা বড় শান্তি। যারা ফ্যাসিবাদের জাঁতাকলে পিষ্ট হয়েছেন, তাদের প্রতি আমার অনুরোধ, ফ্যাসিবাদের সময়ে আমরা-আপনারা যে কষ্ট ভোগ করেছি, সেই কষ্ট মেহেরবানি করে আর কেউ জনগণকে দেবেন না।

সমাবেশে ১০ দলীয় জোটের অন্যতম সঙ্গী এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের হাতে দাঁড়িপাল্লা তুলে দেন জামায়াত আমির। এরপর একে একে তিনি নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী সাইফুল আলম খান মিলন, ঢাকা-১৬ আসনের প্রার্থী কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন, ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী ডা. এসএম খালিদুজ্জামান, ঢাকা-১৪ আসনের ১০ দলীয় জোটের জামায়াতের সংসদ সদস্য প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমানের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন।

সমাবেশে জামায়াতের জোটসঙ্গী এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বিএনপির ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর সমালোচনা করে বলেন, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, একদিকে বলা হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে, অন্যদিকে ঋণখেলাপিদের সংসদে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করা হচ্ছে, আদালতকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। যদি প্রকৃতপক্ষে জনগণকে সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্য থাকে, তবে কেউ কোনো ঋণখেলাপিকে মনোনয়ন দিতে পারে না।

নাহিদ প্রশ্ন রেখে বলেন, বিএনপির ফ্যামিলি কার্ড জনগণ পর্যন্ত পৌঁছাবে তো? ২০০০ টাকার কার্ড নিতে ১০০০ টাকার ঘুষ দেওয়া লাগবে না তো? যদি ঘুষ চাঁদাবাজি নির্মূল না হয়, এই সকল সুযোগ-সুবিধা কি জনগণের কাছ পর্যন্ত পৌঁছাবে?

গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পরে যে আশা আকাঙ্ক্ষা নিয়ে রাজনীতি শুরু করেছিলাম আমরা অনেকাংশে ব্যর্থ হয়েছি। আমাদের অনেক অসমাপ্ত কাজ রয়েছে। এবারের নির্বাচনে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য বিপুল ভোটে জয় লাভ করবে। আমরা গণ-অভ্যুত্থানের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করব ঐক্যবদ্ধভাবে।

জোটের অন্য আরেক দল জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধানও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। তিনি অভিযোগ করেন, একটি দল গণভোটে ‘না’ ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা আগামীর বাংলাদেশ স্বৈরাচারমুক্ত চাই, ভারতীয় প্রভাবমুক্ত বাংলাদেশ চাই। তাই, নির্বাচনে ভোট দেওয়ার আগে বিবেচনা করুন, কারা ভারতের পক্ষে আর কারা দেশের স্বার্থের পক্ষ। জুলাই আন্দোলনকে বিজয়ী করতে অবশ্যই গণভোটকে ‘হ্যাঁ’ বলুন।

গতকালের সমাবেশের মধ্য দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী প্রচার প্রচারণার শুরু হয়। বেলা পৌনে তিনটায় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে সমাবেশ শুরু হয়। ইসলামি ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাছুম, এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম প্রমুখ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

গোপালগঞ্জ-৩: বঙ্গবন্ধুর কবর জিয়ারত করে নির্বাচনী প্রচারে সাবেক বিএনপি নেতা হাবিব

বাংলাদেশে জামায়াতকে ‘বন্ধু’ হিসেবে চায় যুক্তরাষ্ট্র, মার্কিন কূটনীতিকের অডিও ফাঁস

অভিজ্ঞতা ছাড়াই স্কয়ার গ্রুপে চাকরি, চলছে আবেদন

এইচএসসি পাসে অফিসার পদে কর্মী নেবে সজীব গ্রুপ

একটি দলের কার্যকলাপ নিয়ে ‘নাউজুবিল্লাহ’ বললেন তারেক রহমান

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত